

মধ্যনগর ও ধর্মপাশা, দুই উপজেলায় নয়টি হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ এখনো শেষ না হওয়ায় বোরো ফসল নিয়ে শঙ্কায় কৃষকেরা,পিআইসিরা পাননি তৃতীয় কিস্তির টাকা৷
নীতিমালা অনুযায়ী, হাওরের বোরো ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ গত বছরের ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে শুরু করে তা চলতি বছরের ২৮ফেবুয়ারির মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে সময় বাড়ানো হয় ৭মার্চ পর্যন্ত ।
দুই দফায় মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় বাঁধের কাজ এখনো শেষ হয়নি। এ ছাড়া বাঁধের কাজের তৃতীয় কিস্তির টাকা না পাওয়ায় পিআইসিদেরকে ধারদেনা করে বাঁধের কাজ করতে গিয়ে বাঁধ নির্মাণ কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবোর) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, হাওর থেকে দেরিতে পানি নামায় পিআইসি গঠনসহ সব কাজ সময়মতো শেষ করা যায়নি। তবে এই দুটি উপজেলায় ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ গড়ে ৯৫ ভাগ শেষ হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ও গত বুধবার এই দুটি উপজেলার অন্তত ৫০টি প্রকল্প কাজ সরোজমিনে ঘুরে ও স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গড়ে ৬০ থেকে ৬৫ ভাগ বাঁধের কাজ শেষ হয়েছে।
ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলা প্রশাসন জানা গেছে, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার চন্দ্র সোনার থাল, ধানকুনিয়া, সোনামড়ল, গুরমা, গুরমা বর্ধিতাংশ, ঘোড়াডোবা, রুই বিল, কাইলানী, জয়ধনা এই নয়টি হাওর সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন।
ধর্মপাশা উপজেলায় ফসলরক্ষা বাঁধের ১২০ টি প্রকল্প কাজের বিপরীতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২৫ কোটি ১৮ লাখ টাকা। অপরদিকে মধ্যনগর উপজেলায় ৪৮ টি প্রকল্প কাজের বিপরীতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে নয় কোটি ৫৫ লাখ টাকা।
পিআইসির সদস্যের অভিযোগ, কাগজে কলমে ১৫ ডিসেম্বর বাঁধের কাজ শুরু দেখানে হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবার পিআইসি গঠন শেষ করতেই সময় পার করেছে পুরো জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত। পুরোদমে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শুরু হয়েছে ১ফেব্রুয়ারি থেকে। কাজ শেষ করার মেয়াদ ৭মার্চ বলা হলেও এখনো তৃতীয় কিস্তির টাকাই দেওয়া হয়নি। টাকার অভাবে ধারধেনা করে কাজ করায় বাঁধের কাজ যথাসময়ে শেষ করা যায়নি।
ধর্মপাশা উপজেলার চন্দ্র সোনার থাল হাওরের ৭৪ নম্বর প্রকল্পে এখনো মাটি ভরাটের কাজ এখনো শেষ হয়নি। পিআইসির সভাপতি আজিজুল হক বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বাঁধের কাজ কিছুটা পিছিয়েছে। কমপেকশন ও ঘাস লাগানোসহ অন্যান্য কাজ আগামি ২/৩ দিনের মধ্যে শেষ হবে।
মধ্যনগর উপজেলার গুরমা হাওরের ৩৬ নম্বর প্রকল্প কাজে যেনতেন ভাবে মাটি ফেলে রাখা হয়েছে। কমপেকশন ও স্লোপ সঠিক ভাবে করা হয়নি। ওই পিআইসির সভাপতি কিবরিয়া তালুকদার বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটি ও বাঁধের মাটি আনতে গিয়ে নানাবিদ সমস্যা হওয়ায় বাঁধের পুরো কাজটি এখনো শেষ করা যায়নি। তবে ২/৩ দিনের মধ্যে বাঁধের সব কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের মধ্যনগর উপজেলা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলাম ও ধর্মপাশা উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব চয়ন কান্তি দাস বলেন, পিআইসি গঠন ও বাঁধের কাজ যথা সময়ে শুরু করা হয়নি। ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ গড়ে ৬০ থেকে ৬৫ ভাগ শেষ হয়েছে। বাঁধের কাজ পিছিয়ে পড়ায় হাওরের ফসহানির আশঙ্কা রয়েছে।
ধর্মপাশা উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম ও মধ্যনগর উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্য সচিব সানু আহমেদ বলেন, বাঁধের গড়ে ৯৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। এখন বাঁধের ঘাস লাগানোসহ যৎসামান্য কাজ বাকি রয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেন, বাঁধের কাজের মেয়াদ আর বাড়বে না। পিআইসিদের তৃতীয় কিস্তির টাকা মন্ত্রণালয় থেকে এখনো ছাড় না হওয়ায় তা পিআইসিদের দেওয়া যাচ্ছে না। এ সমস্যা সমাধানে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।


