প্রধান শিক্ষক ও নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে গোপনে ছাত্রী-শিক্ষিকাদের ভিডিও ধারণের অভিযোগ

14 mins read

জয়পুরহাট সদর উপজেলার কাশিয়াবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মী জাকির হোসেন গোপন পেন ক্যামেরায় (কলমে বসানো ক্যামেরা) ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের ভিডিও ধারণ করছিলেন। টের পেয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা তাঁকে ধরে ফেলেন। রোববার বিদ্যালয় চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। এতে তোপের মুখে পড়েছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও নিরাপত্তাকর্মী।
বিদ্যালয়টির ছাত্রী ও শিক্ষিকারা অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষকের যোগসাজশে বেশ কিছু দিন ধরে মোবাইলে এবং পেন ক্যামেরা দিয়ে ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের ভিডিও ধারণ করে আসছিলেন ওই নিরাপত্তাকর্মী। ঘটনার দুদিন আগেও তাঁকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি প্রধান শিক্ষকের আত্মীয় হওয়ায়, কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে রোববার ফের ভিডিও ধারণ করছিলেন। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকেরা প্রধান শিক্ষকসহ তাঁকে অবরুদ্ধ করে রেখে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে নিরাপত্তাকর্মী জাকিরকে থানায় নিয়ে যায়।
জয়পুরহাট পৌরসভার ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হায়দার আলী পলাশ, জ্যেষ্ঠ শিক্ষক জিন্নাত পারভীন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ওই স্কুলের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ শুনে আসছিলেন। নিরাপত্তাকর্মী জাকির হোসেন ও প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা মামা-ভাগনে। তাঁরা যোগসাজশ করে ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের গোপনে ভিডিও ধারণ করে আসছিলেন। এ বিষয়টি আগেও তাঁরা শুনেছেন। এ ব্যাপারে তাঁকে সতর্ক করলেও তিনি আমলে নেননি। রোববার আবারও ভিডিও করার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন। স্কুল থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় শিক্ষিকারা তাঁকে ধরে ফেলেন। তখন প্রধান শিক্ষক এসে তাঁকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতার চেষ্টা করেন। কিন্তু এলাকাবাসী প্রধান শিক্ষক ও নিরাপত্তাকর্মীকে অবরুদ্ধ করেন। এর পর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
অভিযুক্ত নিরাপত্তাকর্মী জাকির হোসেন ঘটনার আংশিক সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমার কাছে গোপন পেন ক্যামেরা ডিভাইস ছিল। কিন্তু আমি সেটি দিয়ে কোনো ভিডিও করিনি।
জয়পুরহাট কাশিয়াবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জয়পুরহাট থানার ওসি একেএম আলমগীর জাহান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পাশাপাশি নিরাপত্তাকর্মীকে থানায় নিয়ে এসে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তাঁর কাছে থাকা গোপন ক্যামেরায় কোনো ছবি বা ফুটেজ পাওয়া যায়নি। এরপরও এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

x
English version