নোটিশ:
জৈন্তাপুর প্রতিদিন একটি অনলাইন ভিত্তিক জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা । আপনাদের আশে পাশে ঘটে যাওয়া সংবাদটি আমাদের জানান । আমরা সঠিক তথ্য যাচাই করে খবর পোস্ট করবো ।জৈন্তাপুর প্রতিদিন একটি অনলাইন ভিত্তিক জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা । আপনাদের আশে পাশে ঘটে যাওয়া সংবাদটি আমাদের জানান । আমরা সঠিক তথ্য যাচাই করে খবর পোস্ট করবো ।জৈন্তাপুর প্রতিদিন একটি অনলাইন ভিত্তিক জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা । আপনাদের আশে পাশে ঘটে যাওয়া সংবাদটি আমাদের জানান । আমরা সঠিক তথ্য যাচাই করে খবর পোস্ট করবো ।জৈন্তাপুর প্রতিদিন একটি অনলাইন ভিত্তিক জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা । আপনাদের আশে পাশে ঘটে যাওয়া সংবাদটি আমাদের জানান । আমরা সঠিক তথ্য যাচাই করে খবর পোস্ট করবো ।
শিরোনাম :
নবীগঞ্জে ইয়াবা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি সোহাগকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৯ স্ট্যাটাস দিয়ে প্রমাণ দিতে হলো, আমি বেঁচে আছি : হানিফ সংকেত ধর্মপাশায় পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওসমানীনগরে শাহীন ডাকাত গ্রেফতার টাঙ্গাইলের সখিপুর আসামী গ্রেফতারও ভিকটিম উদ্ধার করল পুলিশ জৈন্তাপুরে নদী ভাঙ্গনের কবলে কয়েকটি গ্রামের বাসিন্ধা চিকনাগুলের বানবাসি মানুষের মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যানের ত্রাণ বিতরণ হানিফ সংকেতের মৃত্যুর গুজব রাজনগরে জনশুমারি বিষয়ক অবহিতকরণ সভা শাবিপ্রবিতে স্পিকার্স ক্লাবের আয়োজনে ক্যারিয়ার বিষয়ক সেমিনার
বন ধ্বংস করে মৃত্যুর আয়োজন

বন ধ্বংস করে মৃত্যুর আয়োজন

জাফলংয়ের তামাবিল স্থলবন্দর এলাকায় বন বিভাগের জায়গা দখল করে স্টোন ক্রাশার মেশিন ও সম্প্রসারিত ডাম্পিং ইয়ার্ড – সমকাল
‘যাহারা তোমার বিষাইছে বায়ু/ নিভাইছে তব আলো/ তুমি কি তাদের ক্ষমা করিয়াছ/ তুমি কি বেসেছ ভালো’ শত বছর আগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এ আক্ষেপ যেন আজকের বাস্তবতা। নিধন হচ্ছে নিঃশ্বাসের প্রধান অনুষঙ্গ বন। অথচ বনের সঙ্গে বায়ু, মাটি, পানি, জীবন-জীবিকার গভীর সম্পর্ক। বন টিকে থাকলে টিকে থাকবে প্রাকৃতিক ভারসাম্য।

সবুজ বনভূমি ও জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ সিলেটে নির্বিচারে বন নিধন চলছে। স্টোন ক্রাশার মেশিন ও ডাম্পিং ইয়ার্ড বসিয়ে বনের ক্ষতি করছে এক শ্রেণির দখলদার। কোনো ভাবেই থামানো যাচ্ছে না তাদের।

বন বিভাগের তথ্যমতে, গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলা মিলে সারী রেঞ্জ গঠিত। এ রেঞ্জের আওতায় সব মিলে ২৭ হাজার একর বনভূমি। এর মধ্যে জাফলংয়ে ছয় হাজার, রাতারগুলে তিন হাজার, কানাইঘাটে তিন হাজার ৩০০ ও জৈন্তাপুর বিটের দুই হাজার ৩০০ একর। এ ছাড়া প্রস্তাবিত বনাঞ্চলের পরিমাণ সাড়ে তিন হাজার একর। মোট বনভূমির মধ্যে ৯ হাজার একর সংরক্ষিত বনাঞ্চল।

দখলে ধুঁকছে জাফলং
গোয়াইনঘাটের তামাবিল ও পূর্ব জাফলংয়ের কালিনগর, মুসলিমনগর, রহমতপুর এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ীসহ এলাকাবাসী নিজেদের মোহাজির (অন্য দেশ থেকে এসে বসবাস) দাবি করে বন বিভাগের জায়গা দখল করেছেন। তামাবিল স্থলবন্দরের পাশে জাফলং বন বিটের চৈলাখেলে একাধিক স্টোন ক্রাশার মেশিন ও ডাম্পিং ইয়ার্ড করেছেন তারা। পূর্বদিকে তামাবিল বিজিবি ফাঁড়ির পশ্চিম পাশেও পানি প্রবাহের নালা বন্ধ করে ডাম্পিং ইয়ার্ড করা হয়েছে। সোনাটিলা গ্রামে সংরক্ষিত বনভূমির গাছপালা কেটে তৈরি হচ্ছে ঘরবাড়ি। এভাবে বেদখলে তামাবিল স্থলবন্দরে ৩০০ একরসহ জাফলংয়ের দেড় হাজার একর বনভূমি।

ভালো নেই মিঠা পানির জলাবনও
রাতার গুলের তিন হাজার ৩২৫ দশমিক ৬১ একরের মধ্যে ৫০৪ দশমিক ৫০ একর জলাবন। সরকার ১৯৭৩ সালে একে বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য এবং ২০১৫ সালে এর ২০৪ দশমিক ২৫ হেক্টর বনভূমিকে বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকা ঘোষণা করে। রাতারগুল বাংলাদেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন। পৃথিবীতে মিঠাপানির ২২টি জলাবনের মধ্যে এটি একটি। প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা এ বনে ৭৩ প্রজাতির উদ্ভিদ, ২৫ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ২০ প্রজাতির সরীসৃপ, ১৭৫ প্রজাতির পাখি ও ৯ প্রজাতির উভচর প্রাণী রয়েছে। গত ১১ মাসে রাতারগুল পর্যটনকেন্দ্র থেকে ৭৫ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হলেও এর রক্ষণাবেক্ষণে উদাসীন বন বিভাগ। জীববৈচিত্র্যে ভরা রাতারগুলের ৭০০ থেকে ৮০০ একর জায়গা বেদখল। তিন-চার বছরে হাজারের ওপর গাছ চুরি হয়েছে। সারী রেঞ্জের বন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে দেড়শ গাছ কাটা হয়েছে বলে গত ৩০ জানুয়ারি অভিযোগ করেন রাতারগুলের বাসিন্দা মাওলানা বশির উদ্দিন। অথচ তাকেই দখলদার বলা হচ্ছে। বশির উদ্দিন বলেন, ‘গাছ চুরির ছবি ও ভিডিওসহ লিখিত অভিযোগ করেছি। তদন্ত না করে উল্টো আমাকেই দখলদার বলা হচ্ছে।’ তবে রেঞ্জার সাদ উদ্দিন বলেন, বনে উচ্ছেদ অভিযান চালালেই দখলদাররা হামলা করে। মিথ্যা গুজব রটায়। এ বিষয়ে অতিরিক্ত বন সংরক্ষক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, তদন্ত চলছে।

১০ শীর্ষ দখলবাজ
বন বিভাগের উদ্যোগে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে সিলেটের শীর্ষ ১০ দখলদারের তালিকা প্রকাশ হয়। এর মধ্যে ছয়জনই গোয়াইনঘাটের। বাকি চারজন পার্শ্ববর্তী কোম্পানীগঞ্জের। তাদের দখলে বন বিভাগের ৩২৫ একর জায়গা। ৫০ একর জমি দখলে রেখে শীর্ষে গোয়াইনঘাটের ইউসুফ আলী। এ ছাড়া কোম্পানীগঞ্জের দীঘলবাক পাড়ের কল্যাণ বিশ্বাস ৪৫ একর, গোয়াইনঘাটের সতীর হাওর এলাকার চেরাগ আলী ৪০, দীঘলবাকের পাড়ের জবেশ মনি ৩২, রাতারগুলের চদিবদি গ্রামের আবদুল হামিদ ৩০ ও শিমুল বিল হাওরের শামসুল ইসলাম ৩০ একর জায়গা দখল করে রেখেছেন। তাদের ভাষ্য, বন বিভাগের খালি জায়গায় কাজে লাগাচ্ছেন। এটাকে দখল বলতে নারাজ তারা।

উদ্ধার ও বনায়ন কম
গোয়াইনঘাটের মোহাজিরদের কবল থেকে সাড়ে ৩০০ একরের মধ্যে ১৫০ একর জায়গা উদ্ধার করে বনায়ন করা হয়েছে। এ নিয়ে মামলা চলছে। সবশেষ তালিকা প্রকাশের পর দখলদার ইউসুফ আলীসহ কয়েকজনের কাছ থেকে ৬০ থেকে ৭০ একর জায়গা উদ্ধার হয়েছে। আর সব মিলে গত পাঁচ বছরে উদ্ধার হয়েছে মাত্র ২০০ একর ভূমি। এর আগে ২০০৭ সালে যৌথবাহিনী জাফলং বন বিভাগের ৫৩৭ একর জায়গা উদ্ধার করে। সেখানে গ্রিন পার্ক নির্মাণ করা হয়েছে। তবে এখনও কৌশলে বন বিভাগের জায়গায় পাথর ক্র্যাশার মেশিন স্থাপন ও ডাম্পিং ইয়ার্ড তৈরি এবং সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সিলেটের বনাঞ্চল বিষয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, লোকবলসহ নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বন রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে বন বিভাগ। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে অভিযান চলছে। মামলাও হয়েছে বেশ কয়েকটি।

প্লিজ সেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY Mission It Development ltd.
x
English version