নোটিশ:
জৈন্তাপুর প্রতিদিন একটি অনলাইন ভিত্তিক জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা । আপনাদের আশে পাশে ঘটে যাওয়া সংবাদটি আমাদের জানান । আমরা সঠিক তথ্য যাচাই করে খবর পোস্ট করবো ।জৈন্তাপুর প্রতিদিন একটি অনলাইন ভিত্তিক জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা । আপনাদের আশে পাশে ঘটে যাওয়া সংবাদটি আমাদের জানান । আমরা সঠিক তথ্য যাচাই করে খবর পোস্ট করবো ।জৈন্তাপুর প্রতিদিন একটি অনলাইন ভিত্তিক জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা । আপনাদের আশে পাশে ঘটে যাওয়া সংবাদটি আমাদের জানান । আমরা সঠিক তথ্য যাচাই করে খবর পোস্ট করবো ।জৈন্তাপুর প্রতিদিন একটি অনলাইন ভিত্তিক জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা । আপনাদের আশে পাশে ঘটে যাওয়া সংবাদটি আমাদের জানান । আমরা সঠিক তথ্য যাচাই করে খবর পোস্ট করবো ।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও দুশ্চিন্তায় চা-শ্রমিক পরিবারের দ্বিপেন

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও দুশ্চিন্তায় চা-শ্রমিক পরিবারের দ্বিপেন

দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পান চা-শ্রমিক পরিবারের দ্বিপেন কুর্মী। অর্থের অভাবে ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। পরে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তাঁর বড় ভাই অন্য একজনের কাছ থেকে টাকা ধার করে এনে দেন। এ যাত্রায় দুশ্চিন্তা কাটলেও ভবিষ্যতে লেখাপড়া কিভাবে চালিয়ে যাবেন, সেটাই ভাবছেন। দ্বিপেনদের বাড়ি মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের রাজকি চা-বাগানে ৷

দ্বিপেন বলেন, তিনি ২০১৭ সালে পাশের কুলাউড়া উপজেলার লংলা ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন উচ্চবিদ্যালয় হতে জিপিএ-৪.৯১ পেয়ে এসএসসি এবং ২০১৯ সালে শমশেরনগর সুজা মেমোরিয়াল কলেজ থেকে জিপিএ–৪.০৮ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে দ্বিপেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির সুযোগ পান। তিনি মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন৷

দ্বিপেনের বাবা সোনারাম কুর্মী চা-শ্রমিক ছিলেন। ২০০৮ সালে তিনি মারা যান। মা লক্ষ্মীমণি কুর্মী চা বাগানেই কাজ করেন। তাঁরা পাঁচ ভাই ও তিন বোন। তিন বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। ভাই বোনদের মধ্যে সবার ছোট তিনি। বড় দুই ভাই বাগানে ও এক ভাই ঢাকায় একটি বায়িং হাউসের নিরাপত্তাকর্মী। চতুর্থ ভাই মিন্টু কুর্মী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি বিভাগে চতুর্থ বর্ষে পড়ছেন। প্রাইভেট পড়িয়ে এই ভাই লেখাপড়া চালাচ্ছেন। মা আর দুই ভাই দৈনিক ১২০ টাকা মজুরিতে বাগানে কাজ করেন।
দ্বিপেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কালে ১৮ হাজার টাকা লেগেছে। তাঁর ভাই মিন্টু পরিচিত ব্যক্তির কাছ হতে টাকা ধার করে আনেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে সিট পাননি। একটি মেসে থাকেন। মেসের খরচ মাসে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টাকা। সব বই এখনো কেনা হয়নি।

দ্বিপেন বলেন, বাগানে মা আর ভাইয়েরা যে মজুরি পান, তা দিয়ে দুবেলা খাবারও জোটে না। কষ্ট করে এতটুকু এসেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি তো হলাম। লেখাপড়ায় খরচ লাগে। কিভাবে যে চালিয়ে যাব, সে ভাবনাই ভাবছি।

দ্বিপেন আরও বলেন, চা শ্রমিকদের পরিবারে অনেক মেধাবী সন্তান আছেন। কিন্তু অভাব অনটনের কারণে তাঁরা লেখাপড়ায় বেশি এগোতে পারেন না, ঝরে পড়েন। লেখাপড়া শেষ করে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন তাঁর।

রাজকি চা বাগানের বাসিন্দা স্থানীয় সাগরনাল ফুলতলা শাহ নিমাত্রা মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষক সানি পান্ডে বলেন, দ্বিপেন ও মিন্টু খুবই মেধাবী। লেখাপড়ায়ও আগ্রহী। তাঁদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। মিন্টুকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় বাগানের লোকজন চাঁদা তুলে টাকা দিয়েছিলেন। দ্বিপেনকেও এলাকাবাসী সহযোগিতা করতেন। দ্বিপেন সহায়তা পেলে অনেক দূর যেতে পারবেন।

প্লিজ সেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY Mission It Development ltd.
x
English version