//////

বিশ্ব জলাভূমি দিবস দিরাইয়ে দিনব্যাপী হাওর উৎসব আবু হানিফ চৌধুরী

15 mins read

বিশ্ব জলাভূমি দিবস উপলক্ষে  সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে দিনব্যাপী হাওর উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (০২-০২-২৫) বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরর আয়োজনে উপজেলার কালনী নদীর তীরে উজানধলের মাঠে  এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শন,  বৃক্ষরোপন, গাছের চারা বিতরণ, গম্ভীরা পরিবেশন, হাওরাঞ্চলের মরমি সাধক ও বাউলদের জনপ্রিয় গানের পরিবেশনা ভাটির গানের আসর এবং প্রীতি ফুটবল খেলার মাধ্যমে উৎসবটি উদযাপন করা হয়। হাওরের সাতটি জেলার ৪৯টি উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ এই উৎসবে অংশগ্রহণ করেন।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার সভাপতিত্বে ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সমর কুমার পালের সঞ্চালনায় পলিব্যবস্থাপনা ও পরিবেশের প্রভাব শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ রেজাউল করিম। মুল বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আখতারুজ্জামান।

আলোচনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) আবু সেলিম মাহমুদুল হাসান, সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার আ ফ ম আনোয়ার হোসেন খান। স্বাগত বক্তব্য দেন দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার।

মূল  আলোচক আখতারুজ্জামান বলেন, উজান থেকে নেমে আসা পলি হাওরের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। উজান থেকে প্রতি বছর এক বিলিয়ন টন পাথর, নুড়ি, বালু নেমে আসে। এতে আমাদের হাওর, নদী, খাল, জলাভূমি ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এই পলি ব্যবস্থাপনা করতে না পারলে ৫০বছর পর বাংলাদেশ মরুভূমি হয়ে যাবে। হাওরাঞ্চলের মানুষ অবেহলিত, আর্থিকভাবে দুর্বল উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের জীবনমান উন্নয়ন নিয়ে ভাবতে হবে। মানুষ সচেতন হলে, হাওরের প্রকৃতি ও পরিবেশের উন্নয়ন হবে। 

তিনি আরও বলেন, নদী, হাওর, জলাভূমির নাব্য বাড়াতে হবে। তাহলে মাছ বাড়বে। জলজ উদ্ভিদ বাড়বে। পানি থাকলে পর্যটনের বিকাশ ঘটবে। আলোচনা পর্বে হাওরাঞ্চলের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন সাত জেলার প্রতিনিধিরা। তাঁরা হাওরপাড়ের মানুষের জীবনমান, প্রকৃতি-পরিবেশের পরিকল্পিত উন্নয়নে পৃথক মন্ত্রনাণয় গঠনের দাবি জানান।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন পৃথক হাওর মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ইকবাল হোসেন, হাওর বাঁচাও আন্দোলন সুনামগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক, স্থানীয় তাড়ল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আলী আহমদ, নেত্রকোনা জেলার বাসিন্দা কলেজশিক্ষক হরলাল সরকার, কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর বাঁচাও আন্দোলনের আহবায়ক ইবাদুর রহমান, বাক্ষ্ণবাড়িয়া জেলার শামীম আহমদ, মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ  সৈয়দ মোহাম্মদ মহসিন, হাওরপাড়ের কৃষক শেখ বাবুল মিয়া, সিলেটের এম এ রহিম, হবিগঞ্জের এম এ বাবুল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

English version