বোরো ফসলী জমি বিনষ্ট করে বাঁধ নির্মাণ, কৃষকের বাধায় তিনদিন ধরে বাঁধ নির্মাণ কাজ বন্ধ

30 mins read

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবোর) অধীনে নতুন করে অন্তর্ভূক্ত করা সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের চন্দ্র সোনার থাল হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের ৯২নম্বর প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজটি গত তিনদিন ধরে বন্ধ রয়েছে।

আবাদকৃত বোরো ফসলী জমির বিনষ্ট করে বোরো জমির ওপর দিয়ে ওই প্রকল্প কাজের পিআইসি কমিটির সভাপতি বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু কাজ শুরু করায় স্থানীয় জিয়াউর রহমান(৩০) নামের এক কৃষকের বাধায় এই কাজটি বন্ধ রয়েছে। বাঁধের কাজ পিছিয়ে পড়ায় হাওরের বোরা ফসলরক্ষা নিয়ে এখানকার কৃষকেরা শঙ্কায় রয়েছেন।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের চন্দ্র সোনার থাল হাওরটি সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন। এই চন্দ্র সোনার থাল হাওরের আওতায় দুই হাজার ১৭৫হেক্টর বোরো জমি রয়েছে। গত বছর বোরো ধান কাটার মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে ওই হাওরের আওতায় থাকা ডোবাইল ফসলরক্ষা বাঁধটি ভেঙে গিয়ে ডোবাইল হাওরের ১৮৫ হেক্টর বোরো জমির আধাপাকা ধান পানিতে তলিয়ে যায়। এ অবস্থায় সেখানে ছুটে যান সুনামগঞ্জের সাবেক জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন, পাউবোর কর্মকর্তা, ধর্মপাশার সাবেক ইউএনও মুনতাসির হাসান ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষেরা।

বাঁধটি ভেঙে যাওয়ায় হাওরের অবশিষ্ট জমির আধাপাকা ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এ অবস্থায় হাওরের বোরো ফসলডুবির হাত থেকে রক্ষায় সুনামগঞ্জের সাবেক জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেনের ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোকাররম হোসেন, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও পাউবোর কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এলাকাবাসীর মতামত নিয়ে পাউবোর অর্থায়নে ওই হাওরের হুগুলিয়া ঘাট থেকে (এলজিইডির পাকা সড়কের) একপাশ দিয়ে শুরু করে তা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের সামনের সড়ক পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার বিকল্প বাঁধ (কমপার্টমেন্টাল) বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ডোবাইল ফসলরক্ষা বাঁধের ফসলডুবির ঘটনার দিন থেকেই এই বিকল্প বাঁধটি নির্মাণ কাজ শুরু করা হয় এবং সপ্তাহ দেড়েকের মধ্যেই এই বিকল্প বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ করা হয়। এতে করে ওই হাওরের অবশিষ্ট বোরো জমির আধা পাকা ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায়। স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের রাজাপুর গাজীনগর গ্রামের সামনে থেকে ঘোড়াচক্কর ও খুশিয়াকান্দা হয়ে দৌলতপুর গ্রামের সামনের পর্যন্ত নতুন বিকল্প বাঁধ নির্মাণ করার উদোগ নেয় উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটি। এ নিয়ে উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটি সভার মাধ্যমে নতুন বাঁধ নির্মাণ করার জন্য রেজুলেশন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।। এরই প্রেক্ষিতে উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের রাজাপুর গাজীনগর গ্রামের সামনে থেকে ঘোড়াচক্কর ও খুশিয়াকান্দা হয়ে দৌলতপুর গ্রামের সামনের পর্যন্ত স্থানটি এবার পাউবোর ফসলরক্ষা বাঁধের আওতায় আনা হয়। এখানে তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) রয়েছে। পিআইসি নম্বর ৯২, ৯৩ ও ৯৪। ৯৩ নম্বর ও ৯৪ নম্বর প্রকল্প কাজটি সপ্তাহ দেড়েক আগে শুরু করা হয়। কিন্তু ৯২নম্বর প্রকল্পের কাজটি পিআইসির সভাপতি আলমগীর কবীর গত শনিবার সকাল নয়টার দিকে অ্যাক্সেভেটর দিয়ে শ্রমিক নিয়োজিত করে সেখানে আবাদকৃত বোরো ফসলী বিনষ্ট করে জমির ওপর দিয়ে বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ওই প্রকল্প যে স্থানটিতে সেখানে ও এর আশপাশে উপজেলার রাজাপুর গ্রামের সেলিম রাজা চৌধুরী ও তাঁর আপন ফুফু আছিয়া রাজা চৌধুরী এবং তাঁর মামা উছমান গণির প্রায় ৩০একর রেকর্ডীয় বোরো জমি রয়েছে। আছিয়া রাজা চৌধুরীর পরিবারের কাছ থেকে একই গ্রামের জিয়াউর রহমান দুই একর ৬৪শতক জমি বর্গা নেন। ফসলী জমি বিনষ্ট করে বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করায় ওইদিনই বেলা ১১টার দিকে কৃষক জিয়াউর রহমান এই বাঁধ নির্মাণ কাজে বাঁধা দেন। ওই কৃষকের বাঁধা মুখে এই বাঁধ নির্মাণ কাজটি ওইদিন থেকে বন্ধ হয়ে যায়।

উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা কৃষক জিয়াউর রহমান(৩০) বলেন, আমি আছিয়া রাজা চৌধুরীরর পরিবারের কাছ থেকে বেশ কয়েক বছর ধরে ৮কিয়ার জমি নগদ টাকার বিনিময়ে বর্গা নিয়ে ওই জমিতে বোরো আবাদ করে আসছি। আমার আবাদকৃত বোরো ফসলি জমি বিনষ্ট করে বাঁধ নির্মাণ কাজ করায় আমি এই বাঁধ নির্মাণ কাজে বাঁধা দিয়েছি।

উপজেলার চন্দ্র সোনার থাল হাওরের ৯২নম্বর প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসির) সভাপতি আলমগীর কবীর বলেন, আমি গত শনিবার (১১ফেব্রুয়ারি) সকালে বাঁধে মাটিভরাট কাজ শুরু করেছিলাম। কিন্তু ফসলি জমির ওপর দিয়ে বাঁধ নির্মাণ কাজে বাঁধা দেওয়ায় আমি এই কাজটি বন্ধ রেখেছি। এতে আমি ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হচিছ। বিষয়টি আমি অ্যাসিল্যান্ড স্যার, ইউএনও স্যার ও পাউবোর উপসহকারি প্রকৌশলীকে জানিয়েছি।

ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শীতেষ চন্দ্র সরকার বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে এ উপজেলায় তিনটি বিকল্প বাঁধ (কমপার্টমেন্টাল বাঁধ) নির্মাণ করার জন্য এবার এই স্থানটিকে পাউবোর আওতায় আনা হয়েছে।

৯২ নম্বর প্রকল্প কাজের স্থান নিয়ে পিআইসির সভাপতি সঙ্গে স্থানীয় এক কৃষকের বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। এ জন্য কাজটি বন্ধ রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এই সমস্যা নিরসন করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

English version