
বাগেরহাট প্রতিনিধি :: ভারত থেকে বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে ফেরত আসা ১২৮ বাংলাদেশি জেলে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে মোংলা কোস্ট গার্ড। ফেরত গেছেন ২৩ ভারতীয় জেলে। দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যস্থতায় স্ব স্ব দেশে ফেরত নিয়েছেন উভয় দেশের কোস্ট গার্ড।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরের এক প্রেস ব্রিফিং করে তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিসিজিএস কামরুজ্জামান এর অধিনায়ক কমান্ডার শাহ্ কামরুজ্জামান।
অধিনায়ক কমান্ডার শাহ্ কামরুজ্জামান জানায়, বাংলাদেশ–ভারত আন্তর্জাতিক সমুদ্র সীমারেখা সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে মৎস্য আহরণের অভিযোগে বাংলাদেশ নৌবাহিনী গত ১৮ ও ২৩ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ২টি ভারতীয় ফিশিং বোটসহ ২৩ জন ভারতীয় জেলেকে আটক করে।
অপরদিকে, ভারতীয় কোস্ট গার্ড গত ১৬, ১৭, ১৯ ও ৩০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ভারতীয় জলসীমায় মাছ ধরার অভিযোগে ৫টি বাংলাদেশি ফিশিং বোটসহ ১২৮ জন বাংলাদেশি জেলেকে আটক করে। পরবর্তীতে উভয় দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে আটককৃত জেলেদের বন্দি বিনিময়ের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ভারতে আটক এসব বোটের মধ্যে ছিল এফবি আদিব–২ (২৮ জন), এফবি মায়ের দোয়া (৩২ জন), এফবি নুরে মদিনা (২৪ জন), এফবি আমিনা গণি (২৯ জন) এবং এফবি আল্লাহ মালিক (১৫ জন)। সর্বমোট ১২৮ জন বাংলাদেশি জেলেকে ভারত থেকে ফেরত আনে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জাহাজ বিসিজিএস কামরুজ্জামান ও বিসিজিএস সোনার বাংলা।
অন্যদিকে, বাংলাদেশে আটক ভারতীয় জেলেরা ছিলেন দুটি ফিশিং বোটে— এফবি শুভ যাত্রা (১৪ জন) ও এফবি অনি–২ (৯ জন)। মোট ২৩ জন ভারতীয় জেলেকে ভারতীয় কোস্ট গার্ড জাহাজ ভিজয়া-এর নিকট হস্তান্তর করা হয়।

তিনি আরও জানায়, বন্দি বিনিময়ের অংশ হিসেবে ভারতীয় জেলেদের বাগেরহাট জেলা কারাগার থেকে মুক্ত করে মোংলায় আনা হয় এবং ২৮ জানুয়ারি তাদের হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে সমুদ্রে নেওয়া হয়। পরে ২৯ জানুয়ারি বঙ্গোপসাগরের পশ্চিম আন্তর্জাতিক মেরিটাইম বাউন্ডারি লাইন (IMBL) এলাকায় দুই দেশের কোস্ট গার্ডের মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জেলেদের হস্তান্তর ও গ্রহণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
সবশেষে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বেলা ৩টায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের মোংলা বেইসে বাংলাদেশি জেলেদের নিজ নিজ ফিশিং বোটসহ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘদিন পর স্বজনদের ফিরে পেয়ে জেলেদের পরিবারে আনন্দ ও স্বস্তির আবহ সৃষ্টি হয়।
কোস্টগার্ড এ কর্মকর্তা কমান্ডার শাহ্ কামরুজ্জামান মনে করেন, দুই দেশের কোস্ট গার্ডের সমন্বিত উদ্যোগে শান্তিপূর্ণভাবে বন্দি বিনিময় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে, যা ভবিষ্যতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও মানবিক সহযোগিতা জোরদারে সহায়ক হবে।


