মডার্নার টিকা কার্যকর, অনুমোদন পেতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে

16 mins read

ফাইজার–বায়োএনটেকের টিকার পর মডার্নার টিকাও জরুরি ভিত্তিতে ব্যবহারের অনুমতি দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আজ মঙ্গলবার দেশটির খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) বলেছে, মডার্নার টিকা নিরাপদ এবং এটির কার্যকারিতা ৯৪ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির এই মূল্যায়ন মডার্নার টিকার ব্যবহারের পথকে উন্মুক্ত করেছে।

মঙ্গলবারের এ ঘোষণার এক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ফাইজার–বায়োএনটেকের টিকার প্রয়োগ শুরু হয়েছে। মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ফাইজার ও জার্মান জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বায়োএনটেক যৌথভাবে ওই টিকাটি উদ্ভাবন করেছে।

করোনাভাইরাসের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশকারী যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে ইতিমধ্যে তিন লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দিন দিন বাড়ছে সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা।

ফাইজারের পর মডার্নার টিকা অনুমোদন পেতে যাওয়ায় মানুষের মনে এখন আশার সঞ্চার হয়েছে।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার এফডিএর বিজ্ঞানীরা মডার্নার টিকাকে কার্যকর ও নিরাপদ বলে ঘোষণা দেন। এই ঘোষণার দুই দিন আগে টিকাটির জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা পর্ষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ওই উপদেষ্টা পর্ষদ ফাইজার–বায়োএনটেকের টিকাটির জরুরি ব্যবহারের অনুমতি দেয়। পরের দিন ওই টিকার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় এফডিএ। এরপর সারা দেশে সীমিত আকারে শুরু হয়েছে টিকাদান কার্যক্রম।

মডার্নার টিকার বিষয়ে এফডিএ ৫৪ পৃষ্ঠার একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, টিকাটিতে বিশেষ কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। মারাত্মক ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নেই। টিকাটির কার্যকারিতা ৩০ হাজার মানুষের ওপর পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। সেখানে ৯৪ দশমিক ১ শতাংশ কার্যকারিতার তথ্য পাওয়া গেছে।

বিবিসির খবরে আরও বলা হয়েছে, এই সপ্তাহের আরও পরের দিকে এফডিএর টিকাবিষয়ক প্রধান মডার্নার টিকাটি যদি অনুমোদন দেন, তাহলে এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই টিকাটি সারা দেশে পাঠানো শুরু হবে। মডার্না বলেছে, অনুমোদন পেলে ‘ব্যাপক পরিমাণে’ টিকা তৈরি করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসভিত্তিক জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মডার্না। ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এখন পর্যন্ত তাদের কোনো পণ্যই এফডিএ অনুমোদন দেয়নি। কিন্তু বহুল কাঙ্ক্ষিত করোনা টিকা উদ্ভাবনের কারণে বিশ্ব পরিমণ্ডলের সামনে চলে আসে প্রতিষ্ঠানটি। ফলে প্রতিষ্ঠানটি এখন ফুলেফেঁপে উঠেছে। এই বছর এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার প্রায় ৭০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

মডার্না আর ফাইজার–বায়োএনটেক টিকার মধ্যে আলাদা কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। মডার্নার টিকাটি সাধারণ ফ্রিজে (মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) রাখা যাবে। কিন্তু ফাইজার–বায়োএনটেকের টিকাটি মাইনাস ৭৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখতে হবে। ফাইজারের টিকাটি জার্মানি, বেলজিয়ামসহ বিভিন্ন দেশে তৈরি করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

x
English version