//

রাবি শিক্ষার্থীকে মারধর ও হত্যার হুমকির প্রতিবাদে বিক্ষোভ

21 mins read

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে কৃষ্ণ রায় নামের শিক্ষার্থীকে শিবির ট্যাগ দিয়ে হলকক্ষে আটকে রেখে শারীরিক মানসিক নির্যাতন হত্যার হুমকির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করছে গণযোগাযোগ সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের দক্ষিণ ফটকে এ বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তারা।

এসময় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল- মামুন বলেন, ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডে হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের বসবাসের উপযোগিতা হারাচ্ছে। নিয়মিত সব হলে নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিছুই করতে পারছে না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে থাকার পরিবেশ নাই। আমার ছাত্র কৃষ্ণকে শিবির সন্দেহে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। যখন কৃষ্ণ বলেছে আমি হিন্দু। তখন তারা(ছাত্রলীগ) বলে, তাহলে তো তোকে মেরে ফেলা আরও সহজ তুই সংখ্যালঘু হওয়ায় কেউ আমাদের কিছু করতে পারবে না। ছাত্রলীগ এখন গুন্ডাতন্ত্রে বিশ্বাসী। তারা গুণ্ডামির মাধ্যমে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে চায়। তাদের এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড না থামলে আমরা আরও কঠোর অবস্থানে যাবো বলে জানান।

সহযোগী অধ্যাপক কাজী মামুন হায়দার বলেন, ক্যাম্পাস হচ্ছে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ জায়গা কিন্তু আমার শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে সবথেকে অনিরাপদ। আমরা কি এমন বাংলাদেশ চেয়েছিলাম? আমার মেয়েরাও এ নির্যাতন থেকে বের হতে পারছে না। মেয়েদেরকেও নির্যাতন করে বিবস্ত্র অবস্থায় ভিডিও করা হচ্ছে। আমরা ওপরে ট্রেন চালাচ্ছি, কর্ণফুলীর নিচ দিয়ে ট্রেন চালাচ্ছি। পুরো বাংলাদেশকেই উন্নয়ন করে ফেলছি কিন্তু আমার ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা ঘরে থাকতে পারছে না। এ কেমন উন্নয়ন?

তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ্ব র‍্যাংকিং নিয়ে চিন্তা করছি কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা দিতে পারছি না। কৃষ্ণ রায়ের ওপর যে অমানবিক অত্যাচার করা হয়েছে প্রায় মৃতের মতো অবস্থা তার। তার বাবা নেই, অসহায় পরিবার থেকে উঠে আসা। সে এই নির্যাতনের চিত্র ভুলবে কিভাবে? আমরা এর স্থায়ী সমাধান চাই না হলে আমাদের আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে উঠবে বলে জানান তিনি।

মানববন্ধনে একাত্মতা পোষণ করে লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সপ্নীল রহমান বলেন, এমন ঘটনা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে সুষ্ঠুভাবে চলতে না দেওয়ার একটি অশুভ চক্রের কাজ। এমন ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিন। তাহলে দেখা যাবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এমন ঘটনা আর ঘটবে না। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেন আর কোনো কৃষ্ণ রায় নির্যাতন না হয় প্রশাসনের কাছে সেই দাবি জানান তিনি।

এদিকে দেশের শিক্ষাঙ্গনগুলোতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নৈরাজ্য ও নিপীড়নের প্রতিবাদে এবং দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবিতে প্রতীকী অনশন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন খাঁন। বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন খানের সাথে প্রশাসন ভবনের সামনে অনশনে যোগ দেন বিক্ষোভ সমাবেশ থাকা গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে এক সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীকে শিবির ট্যাগ দিয়ে হলকক্ষে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে অত্র হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি, সম্পাদকসহ কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী কৃষ্ণ রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ও হল প্রাধ্যক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

English version