

ধর্মপাশায় বড় আকারের সরকারি একটি রেইনট্রি গাছ কর্তন করার অভিযোগ, এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ব্যবস্থা নিচ্ছেনা বনবিভাগ
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সুনই গ্রামের সামনের সড়কে থাকা সরকারি একটি রেইনট্রি গাছ স্থানীয় এক ব্যক্তির নির্দেশে বেআইনিভাবে কর্তন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সুনামগঞ্জ বনবিভাগ এ নিয়ে এখন র্পযন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এতে করে এলাকার মানুষজন ক্ষুব্ধ।
উপজেলা প্রশাসন,এলাকাবাসী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাইকুরাটি সুনই গ্রামের সামনের সড়ক সংলগ্ন বেশ কয়েকটি সরকারি বনবিভাগের রেইনট্রিসহ নানা জাতের গাছ রয়েছে। ওই ইউনিয়নের সুনই গ্রামের বাসিন্দা শরীফ আহমেদ মামুন (৩২) গত ১৭জানুয়ারি সকাল ১১টার দিকে একই গ্রামের নজরুল মিয়া (৪৫) ও রানা মিয়া (৩২) নামের দুজন শ্রমিক নিয়োজিত করে সড়ক সংলগ্ন একটি বড় আকারের রেইনট্রি গাছ কর্তন করেন। গাছটি সরিয়ে নেওয়ার আগেই খবর পেয়ে ওইদিন বেলা দুইটার দিকে সেখানে উপস্থিত হন উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) অলিদুজ্জামান। এ সময় শ্রমিক রানা মিয়া সেখান থেকে সটকে পড়েন। সরকারি গাছ কর্তন সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে উপজেলার সুনই গ্রামের নজরুল মিয়া (৪৫)কে আটক করা হয়। পরে এলাকাবাসীর গাছ থেকে সরকারি ওই কর্মকর্তা জানতে পারেন যে, একই গ্রামের শরীফ আহমেদ ওরফে মামুনের নির্দেশে এই গাছটি কর্তন করা হয়। পরে শ্রমিক নজরুলকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ১৮জানুয়ারি বুধবার বেলা ১২টার দিকে সুনামগঞ্জ বনবিভাগের এক কর্মকর্তা ওই সড়কে একজন লোক পাঠিয়ে কেটে ফেলা বনবিভাগের বড় রেইটনট্রি গাছটির কর্তন করা বিভিন্ন অংশ স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের জিম্মায় রাখা হয়।
উপজেলার সুনই গ্রামের বাসিন্দা শরীফ আহমেদ মামুন বলেন,এই গাছটি সরকারি বনবিভাগের। গাছটি আমার চাচার বাড়ির সীমানা ঘেঁষা। এই গাছ কাটার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এলাকায় একটি পক্ষের সঙ্গে নানাবিষয় নিয়ে বিরোধ থাকায় হয়রানি করার উদ্দেশ্যে আমাকে জড়িয়ে এই বদনাম রটানো হচেছ।
উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের সহকারি কমিশনার (ভূমি) অলিদুজ্জামান বলেন,কেটে ফেলা এই রেইনট্রি গাছটি সুনামগঞ্জ বনবিভাগের অধীনে। গাছ কাটার সঙ্গে সুনই গ্রামের বাসিন্দা শরীফ আহমেদ মামুনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ওইদিনই বনবিভাগের এক কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েেছ।
সুনামগঞ্জ জেলা বন সম্প্রসারণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা ফরেস্টার রবীন্দ্র কুমার সিংহ বলেন, আমি এখন জেলার বাইরে একটি প্রশিক্ষণে আছি। কেটে ফেলা বনবিভাগের রেইনট্রি গাছটির কাটা অংশ স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের জিম্মায় রাখা হয়েছে। ২৮জানুয়ারি আমার প্রশিক্ষণ শেষ হবে। সেখান থেকে এসে গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেব।


