

জেলার শান্তিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ সদর, দোয়ারাবাজার ও ছাতক সহ চার উপজেলা নিয়ে সুনামগঞ্জের অন্যতম বৃহত্তম হাওর দেখার হাওর। দেখার হাওরকে বলা হয় বোরো ফসলের শস্য ভান্ডার। দেখার হাওরে রয়েছে ১২ হাজার হেক্টর ফসলী জমি। চলতি বছর শান্তিগঞ্জ উপজেলার দেখার হাওর অংশের উথারিয়া বাঁধের বিপজ্জনক বাঁধ খ্যাত মূল ক্লোজার এখনো অরক্ষিত রয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শান্তিগঞ্জ উপজেলা দেখার হাওরের উথারিয়া বাঁধের মুল ক্লোজার ০৬ নং পিআইসির অধীনে। পিআইসি কমিটির সভাপতি নুর মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফজল উদ্দিন। দেখার হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজের সময়সীমা অর্ধেক পেরিয়া গেলেও প্রভাবশালী মৎস্যজীবী, জনপ্রতিনিধিদের চাপে পিআইসি কমিটির লোকজন মূল ক্লোজারে কাজ করতে পারছেন না। বাঁধের মুল ক্লোজার ০৬ নং পিআইসির অধীনে ১১৭ মিটার অংশের দুই পাশে কাজ শুরু হলেও উথারিয়া বাঁধের মুল ক্লুজারের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় দেখার হাওরের ১২ হাজার হেক্টর ফসলী জমি হুমকির মুখে রয়েছে।
সোমবার(২৩ জানুয়ারী) সকালে সরেজমিনে দেখার হাওরের বাঁধ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বড় বড় ট্রাম ট্রাক দিয়া বাঁধে মাটি ফেলা হচ্ছে। পাশাপাশি অধিক ঝুঁকি পূর্ণ বাঁধে বাঁশের মাচা তৈরী করে মাটি ফেলা হচেচ্ছ। তবে দেখার হাওরের উথারিয়া বাঁধের বিপজ্জনক বাঁধ খ্যাত মূল ক্লোজার এখনো অরক্ষিত রয়ে গেছে।
হাওরের কৃষক আব্দুল ওয়াদুদ জানান, শান্তিগঞ্জ উপজেলার উথারিয়া ক্লোজার এই হাওরের ডেঞ্জার পয়েন্ট। এই ক্লোজার অরক্ষিত রেখে পুরো হাওরে কাজ করলে কোন লাভ হবে না। আগাম বন্যা আসলে আমাদের স্বপ্নের সোনালী ফসল ঘরে তুলতে পারবো না। আমরা অনেক শংকায় আছি। প্রতি ৩ বছর পর পরই এই অঞ্চলে একবার আগাম বন্যা আসে।
পিআইসি কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফজল উদ্দিন জানান, দেখার হাওরের মূল ক্লোজারে কাজ করতে পারছি না। কিছু জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী মৎস্যজীবিরা আমাদেরকে উথারিয়ার মুল ক্লুজারে মাটিতে ফেরতে দিচ্ছেন না। তবে আমাদের পিআইসির দুই পাড়ে মাটি ভরাটের কাজ শেষ হয়েছে। এখন ড্রেসিং ও দুর্মচ মারার কাজ চলছে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুব আলম বলেন, দেখার হাওরের উথারিয়া বাঁধের মুল ক্লোজারটি দেখার হাওরের ভিতরে অবস্থিত জলমহালের পানি নিষ্কাশনের জন্য স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের কাছে মৎস্যজীবিরা ফ্রেব্রুয়ারীর ২০ তারিখ পর্যন্ত খোলা রাখার আবেদন করেছেন। তবে ফ্রেবুয়ারীর প্রথম সপ্তাহের মধ্যে উথারিয়া ক্লুজারটি বন্ধ করা হবে। না হলে বাঁধ ঝূঁকিপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আনোয়ার উজ জামান বলেন, উথারিয়া ক্লোজার দিয়ে হাওরের পানি নিষ্কাশনের জন্য স্থানীয় মৎস্যজীবিরা খোলা রাখার আবেদন করেছেন। পাশাপাশি হাওরের নিচু জমির পানি নিষ্কাশনের জন্য ক্লুজারটি খোলা রাখা হয়েছে। ফেব্রুয়ারীর প্রথম সপ্তাহে উথারিয়া ক্লুজাটির বন্ধ করে বাঁধের কাজ সম্পন্ন করা হবে।


