

শাবিপ্রবির শিক্ষার্থী হত্যা: ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শিক্ষার্থীদের, ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন, শিক্ষার্থীদের ৪ দফা দাবিতে বিক্ষোভ, ময়না তদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর ৷

দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী বুলবুল আহমেদকে (২২) ময়না তদন্তের পর পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় শাবিতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

মঙ্গলবার (২৬ জুলাই) দুপুরে এম এ জি ওসমানী মেডিকেলের কেন্দ্রীয় মাঠে জানাজা শেষে শাবির উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, বুলবুলের অকাল মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আমরা প্রশাসনের সহযোগিতায় বুলবুল হত্যাকান্ডে জড়িদের গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করবো। পাশাপাশি বুলবুলের পরিবারকে সাহাস্য-সহযোগিতা দিয়ে পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।
এদিকে বুলবুল হত্যার ঘটনায় সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ভবনের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধনে বুলবুল হত্যাকান্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। পরে ৪ দফা দাবি জানান তারা। পাশাপাশি দুপুরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এতে বুলবুলের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে হামলায় জড়িতদের গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান, অন্যথায় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
শিক্ষার্থীদের ৪ দফা দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, আগামী ২৪ ঘন্টার ভিতরে খুনিদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা, নিহতের পরিবারকে অতিদ্রুত সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরন নিশ্চিত করা, ক্ষতিপূরণের পরিমাণ এবং প্রদানের উপায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বুলবুলের স্মৃতি রক্ষার্থে বুলবুল হত্যার স্থানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করে সেখানে বুলবল চত্বর ঘোষনা করা। এছাড়া সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, জাতীয় ছাত্রদল, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের পক্ষ থেকে বুলবুলের হত্যার প্রতিবাদে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বুলবুল হত্যা ঘটনায় মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহম্মদ ইশফাকুল ইসলাম বাদী হয়ে সিলেটের জালালাবাদ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এতে অজ্ঞাত নামায় একাধিক দুষ্কৃতিকারীদের আসামি করা হয়েছে।
অন্যদিকে বুলবুল হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন ৩ জন বহিরাগতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জানান পুলিশের উপ-কমিশনার (মিড়িয়া) বি এম আশরাফ আলী তাহের।
তিনি জানান, শাবির শিক্ষার্থীর ঘটনায় তিনজন বহিরাগতকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এছাড়া ক্যাম্পাসের আশেপাশে যারা মাদকাসক্ত, নেশাগ্রস্ত এবং অন্যান্য অপকর্মের সাথে জড়িত আছে তাদেরকে আটক করার চেষ্টা চলছে।
এছাড়া ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড পলিমার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলামকে সভাপতি করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জানা যায়, গত সোমবার সন্ধ্যায় এক সহপাঠীর সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে অবস্থিত গাজী কালুর টিলায় ঘুরতে যায় বুলবুল। পরে সেখানে অবস্থানকালীন সময়ে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আহত হন তিনি। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে বুলবুল মাটিতে লুটে পড়ে। পরে শিক্ষার্থীরা জানতে পেরে তাকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জানা যায়, নিহত শিক্ষার্থী বুলবুলে সাথে থাকা একমাত্র সহপাঠী বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মারজিয়া আক্তার উর্মি। অসুস্থ অবস্থায় তাকে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে রাখা হয়েছিল। তার সাথে একাধিক সহপাঠী ছিলেন। তার নজরদাতে হাসপাতালে ছিল পুলিশও। তবে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে কাউকে কিছু না বলে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান। পরে নগরের উপকণ্ঠ বাদাঘাট থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের দিকে আসার পথে তাকে আটক করা হয়।
এদিকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ এই মেয়েকে নিয়ে ঘটনা স্থলে যান পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সদস্যরা। তাকে সেখানে কিছুক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করার পর প্রক্টরের রুমে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে তাকে সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে কে বা কারা এ ঘটনায় জড়িত তা এখনো ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছে।
প্রসঙ্গত, বুলবুল আহমেদ শাবিপ্রবির লোকপ্রশাসন বিভাগের তৃতীয় (২০১৮-১৯ সেশন) বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহপরাণ হলে ২২৮ নম্বর রুমে থাকতেন এবং ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি নরসিংদী সদরের চিনিশপুরম থানার নন্দিপাড়ার গ্রামের বাসিন্দা মো. ওহাব মিয়ার ছেলে।


