
শাহজালাল সারকারখানা যান্ত্রিক ত্রূটিতে এবার লক্ষ্য মাত্র অর্জিত হচ্ছে না। ১০ মাসে ১০ বার বন্ধ, রয়েছে দক্ষ প্রকৌশলী সংকট।
সার সাংকট রোদে দেশের সর্ববৃহত সার ঊতপাদন কারী প্রতিষ্টান শাহজালাল সারকারখানার যান্ত্রিক ত্রুটি পিছু ছাড়ছে না। যান্তিক ত্রূর্টিতে বার বার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ফেঞ্চুগঞ্জের শাহজালাল সার কারখানা। ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন। চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে প্রায় ১০ বার বন্ধ হয়েছে নবনির্মিত ওই সার কারখানা। বছরের শুরুতে এমোনিয়া প্লান্টে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে টানা ২ মাস ১০দিন বন্ধ থাকে কারখানাটির উৎপাদন। বিদেশি প্রকৌশলী এনে সংস্কার করা হলে ফের শুরু হয় উৎপাদন। কিন্তু দেড় মাসের মাথায় যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেয় কারখানার পাওয়ার প্ল্যান্টে। ফের বন্ধ হয়ে যায় উৎপাদন। এ অবস্থায় শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড চলতি অর্থবছরে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। শাহজালাল সার কারখানার প্রকৌশল বিভাগ সূত্র জানায়, বছরের শুরুতে সার কারখানার এমোনিয়া গ্যাস টারবাইনের এয়ার কমপ্রেসারের কন্ট্রোল সিস্টেম সফ্টওয়ারে ত্রুটি দেখা দিলে বন্ধ হয়ে যায় পুরো প্লান্ট। প্লান্টটি চালু করতে বুয়েটসহ দেশের সব নামিদামি সফ্টওয়ার কোম্পানির প্রকৌশলীকে খবর দেয়া হয়।
কিন্তু দেশীয় কারও পক্ষে সম্ভব হয়নি আধুনিক ওই সফ্টওয়ার স্থাপন করে সংস্কার করা। বাহিরে যোগাযোগ করা হলে ওই সফ্টওয়ারের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইতালির জি ই ওয়েল অ্যান্ড গ্যাস কোম্পানির প্রকৌশলী ফেঞ্চুগঞ্জ এসে প্রায় ১০ দিনের প্রচেষ্টায় আধুনিক সফ্টওয়ার স্থাপন করেন। সূত্র জানায়, এমোনিয়া প্লান্টে বিদ্যমান সফ্টওয়ারটি ছিল ২০০৫ সালের। চলতি মে মাসের ৭ তারিখ শাহজালাল সার কারখানায় ফের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। ওইদিন দুপুর ২টার দিকে কারখানার পাওয়ার প্লান্টের অক্সিলারি বয়লারের এফডি সেন ট্রিপ করে। এতে একটি বয়লার বন্ধ হয়ে গেলে স্টিম স্বল্পতায় বন্ধ হয়ে যায় পাওয়ার প্লান্ট। ফলে প্রায় ৩দিন বন্ধ থাকে কারখানার উৎপাদন। ৯ই মে রাত ১১টার দিকে ফের চালু হয় কারখানায় উৎপাদন। এর আগে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নানা কারণে প্রায় ৮ বার বন্ধ হয়েছে শাহজালাল সারকারখানা। উৎপাদন শাখা জানায়, অর্থবছরের ১০ মাসে প্রায় ৩ মাস বন্ধ ছিল শাহজালাল সারকারখানা। এতে ব্যাহত হয়েছে লক্ষাধিক টন ইউরিয়া সারের উৎপাদন। যার বাজার মূল্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকার বেশি।
শাহজালাল সারকারখানার এমোনিয়া প্যান্টের নাম না প্রকাশের শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন কেনো বার বন্ধ হচ্ছে নতুন এই কারখানা তা নিয়ে কারো মাথা ব্যথা নাই।কবে যে কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায় কে জানে।
কারখানার এক শ্রমিক নেতা বলেন তিন বছর ধরে কারখানাটি ওভার হোলিং করা হয়নি। এগুলো মেকানিকাল ফ্যাক্টরি এগুলো ওভার হোলিং করে চালাতে হয়।যার কারনেএই সমস্যা হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
শাহজালাল সার কারখানার ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক সুনিল চন্দ্র ঘোষ প্রতিবেদককে বলেন, চলতি অর্থবছর সার কারখানার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় সাড়ে ৪ লাখ টন। মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সার কারখানায় উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৬০ হাজার টন ইউরিয়া। বর্তমানে শাহজালালের দৈনিক উৎপাদনের পরিমাণ গড়ে ১৪শ টন। ২০১২ সালের ২৪শে মার্চ ফেঞ্চুগঞ্জের পুরাতন সার কারখানার পাশে শাহজালাল সার কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমেরিকা, নেদারল্যান্ডস ও ইতালির প্রযুক্তিতে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে চীনের মেসার্স কমপ্লান্ট। অত্যাধুনিক এ সার কারখানার প্রধান প্লান্ট ইউরিয়া ও এমোনিয়ার প্রসেস লাইসেন্সর হচ্ছে এমোনিয়ায় আমেরিকার বিখ্যাত কোম্পানি কিলোগ ব্রাউন এন্ড রোটস (কেবিআর) এবং ইউরিয়ায় নেদারল্যান্ডের খ্যাতিমান কোম্পানি স্টেমিকার্বন বি, ভি। শিল্পশহর ফেঞ্চুগঞ্জে প্রথম সারকারখানা নির্মিত হয় ষাটের দশকের গোড়ার দিকে। ন্যাচারাল গ্যাস ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি (এনজিএফএফ) নামে ফেঞ্চুগঞ্জের ওই সারকারখানা স্থাপন করেছিল জাপানের কোবে স্টিল লিমিটেড। ১৯৬১ সালের ১৩ই ডিসেম্বর এনজিএফএফ যাত্রা করে। ২০ বছরের ইকোনমিক লাইফ নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও পুরাতন ওই সার কারখানা চালু ছিল প্রায় অর্ধশত বছর। নবনির্মিত শাহজালাল সার কারখানার যাত্রা শুরু হয়ে ২০১৫ সালের ২০শে সেপ্টেম্বর। এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ইকোনমিক লাইফও ২০ বছর। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণে এই সার কারখানাকেও দীর্ঘদিন উৎপাদনক্ষম রাখা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করেন।


