শেয়ারবাজারকে ইউনিয়ন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এখনো হয়নি

10 mins read

আমি মনে করি না, শেয়ারবাজারকে এখনই ইউনিয়ন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সময় হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্রোকারেজ হাউসের বুথ খোলা মানে সেখানে শেয়ারবাজারের লেনদেন চালু হওয়া। কিন্তু আমাদের গ্রামগঞ্জের বেশির ভাগ মানুষের মধ্যেই শেয়ারবাজার সম্পর্কে স্বচ্ছ কোনো ধারণা নেই। এমন পরিস্থিতিতে ইউনিয়ন পর্যায়ে শেয়ারবাজারের বিস্তার ঘটানো হলে তা বাজারের জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে।

আমরা সব সময়ই বলে থাকি, শেয়ারবাজার সবার বিনিয়োগের জায়গা নয়। এখানে বিনিয়োগ করতে হলে বাজার সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকতে হয়। দেশের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশের মধ্যেই শেয়ারবাজার সম্পর্কে যথাযথ জানা-বোঝার ঘাটতি রয়েছে। সেখানে ইউনিয়ন পর্যায়ের মানুষের মধ্যে শেয়ারবাজারের ধারণা কতটুকু, তা সহজেই অনুমেয়।

আমাদের গ্রামগঞ্জের বেশির ভাগ মানুষের মধ্যেই শেয়ারবাজার সম্পর্কে স্বচ্ছ কোনো ধারণা নেই। এমন পরিস্থিতিতে ইউনিয়ন পর্যায়ে শেয়ারবাজারের বিস্তার ঘটানো হলে তা বাজারের জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে।

শেয়ারবাজার সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা না থাকা মানুষগুলোকে বাজারের সঙ্গে যুক্ত করলে তাতে সুচিন্তিত বিনিয়োগের যে কথা বলা হয়, তার বিঘ্ন ঘটবে। এখনকার বাস্তবতায় বড়জোর বড় বড় শহরে কিছু ব্রোকারেজ হাউসের বুথ খোলার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে, তা–ও যথেষ্ট যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে। গড়পড়তা এ ধরনের সুযোগ দেওয়া ঠিক হবে না।
এমনিতে আমাদের শেয়ারবাজারে ভালো কোম্পানির যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। এর মধ্যে সরবরাহ না বাড়িয়ে বাজারের বিস্তার ঘটানো হলে তাতে চাহিদা বাড়বে। ফলে চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্যহীনতার কারণে বিদ্যমান কোম্পানিগুলোর শেয়ারের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটতে পারে। তাতে অতীতের মতো আবারও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। এ কারণে আমি এখনই ইউনিয়ন পর্যায়ে শেয়ারবাজারকে নিয়ে যাওয়ার পক্ষপাতি নই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x