/////

সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়কের ভোগান্তির কবে হবে শেষ ?

18 mins read

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার নন্দিরগাওঁ, তোয়াকুল, রুস্তুমপুর, লেঙ্গুড়া, গোয়াইনঘাট সদর ও পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নবাসীর সড়ক পথে জেলা সদর ও উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগের কেবলমাত্র ভরসা গোয়াইনঘাট-সালুটিকর সড়ক।

২০২২ সালের স্মরণ কালের ভয়াবহ বন্যার পানির স্রোতে গোয়াইনঘাট-সালুটিকর সড়কের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি নন্দিরগাওঁ ইউনিয়নের নয়াবাজার সংলগ্ন হাটগাং সেতু, তোয়াকুল ইউনিয়নের তোয়াকুল অটোরিকশা সিএনজি স্ট্যান্ড সংলগ্ন সেতু ও রুস্তুমপুর ইউনিয়নের বঙ্গবীর পয়েন্ট সংলগ্ন সেতুর উভয় পার্শ্বের সিংহভাগ অংশ ভেঙ্গে যায়। ফলে উল্লেখিত সেতু গুলো যে কোন সময়ে ধসে যাওয়ার আশংকা করা হয়।

২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যার পানি কমতে শুরু করলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি গোয়াইনঘাট উপজেলায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্থর ও উদ্বোধন শেষে উপজেলা প্রকৌশলীকে সাথে নিয়ে গোয়াইনঘাট-সালুটিকর সড়ক পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন কালে সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়কের নন্দিরগাওঁ ইউনিয়নের নয়াবাজার সংলগ্ন হাটগাং সেতু, তোয়াকুল ইউনিয়নের তোয়াকুল অটোরিকশা (সিএনজি) স্ট্যান্ড সংলগ্ন সেতু ও রুস্তুমপুর ইউনিয়নের বঙ্গবীর পয়েন্ট সংলগ্ন সেতুটি মন্ত্রী ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে তাৎক্ষণিক ভাবে দ্রুততম সময়ের ভিতরে সেতু গুলো পূনরায় নির্মানের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগকে দায়িত্ব দেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ৩টি সেতুর পাকাকরণ কাজের সমাপ্তি করলেও সেতুগুলোর উভয় পার্শ্ব মাটি দিয়ে এখনো ভরাট করতে পারেনি।

যার কারণে গোয়াইনঘাট উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সেতু গুলো দিয়ে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা হওয়ায় সাধারণ যাত্রীর পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজ শিক্ষার্থী মারজানা আক্তার বলেন, আশপাশের বিভিন্ন এলাকার অনেক শিক্ষার্থী স্কুল-কলেজে পড়ালেখা করে। সেতু গুলোর এই দশায় ঝুঁকি নিয়েই শিক্ষার্থীদের চলাচল করতে হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নবনির্মিত সেতু গুলোর মধ্যে বঙ্গবীর পয়েন্ট সংলগ্ন সেতুটির উভয় পার্শ্বে মাটি দিয়ে কিছুটা ভরাট করায় ঝুঁকিপূর্ণ হলেও অটোরিকশা (সিএনজি) কোন রকমে চলাচল করছে। অপর দূটো সেতুর দক্ষিণ পার্শ্বে এক ট্রাক করে আজ বালু আনলোড করছে। ফলে রুস্তুমপুর, তোয়াকুল ও নন্দিরগাওঁ ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ, চাকুরিজীবী ও সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরা নিজবাড়ী হতে গোয়াইনঘাট উপজেলা সদরে যাতায়াতে ১শত টাকার পরিবর্তে ৪গুন অধিক টাকা খরচ করতে হচ্ছে। যাত্রীের এখন যেতে হয় প্রথমে সালুটিকর, ধোপাগুল, সাহেব বাজার, ফতেহপুর ও পরে অন্য গাড়ী দিয়ে গোয়াইনঘাট যাতায়াত করছেন।

উপজেলা প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, সেতু গুলো আরসিসি ঢালাইর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতু গুলোর উভয় পার্শ্ব মাটি দিয়ে ভরাট করা হবে।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিলুর রহমান বলেন, ৩টি সেতুই নবনির্মিত। ঢালাই কাজের নির্ধারিত সময় পার করেছিলেন। এখন দ্রুত সেতু গুলোর উভয় পার্শ্ব মাটি দিয়ে ভরাট করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

English version