//

সুনামগঞ্জ আ’লীগ নেত্রীর মামলায় রঙ্গলাল দাস ও অধ্যক্ষ নৃপেন্দ্র দাস জেল হাজতে

30 mins read

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রীর দায়ের করা পর্নোগ্রাফি মামলায় দিরাই উপজেলার বিবিয়ানা মডেল কলেজের অধ্যক্ষ নৃপেন্দ্র চন্দ্র দাস ও তার সহোদর নবীগঞ্জ উপজেলার বড় ভাকৈর (পশ্চিম) ইউনিয়নের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান রঙ্গলাল দাসকে জেলহাজতে প্রেরণ করেছেন বিজ্ঞ আদালত।

সোমবার (২৪ জানুয়ারী) সুনামগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুর রহিম সহোদর দুই ভাইকে জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

দিরাই উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রাজ রানী চক্রবর্তীর পর্নোগ্রাফি মামলায় দিরাই উপজেলার ভাইটগাও গ্রামের নগেন্দ্র দাসের ছেলে আপন দুই ভাই দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন।

সোমবার সকালে সুনামগঞ্জ আদালতের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে বিচারক আব্দুর রহিম আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের উভয়কে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের আগষ্ট মাসে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা বিবিয়ানা মডেল কলেজের বহুল আলোচিত অধ্যক্ষ নৃপেন্দ্র চন্দ্র দাসের নিজস্ব ফেসবুক আইডি থেকে আওয়ামী লীগ নেত্রী রাজ রানী চক্রবর্তীর সাথে ৮ মিনিট ৪ সেকেন্ডের অশ্লীল ভিডিও সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

ওইদিন দুপুরের পর থেকে বিবিয়ানা কলেজ এলাকার বাসিন্দাদের একাধিক ফেইসবুক আইডি হতে অধ্যক্ষের নানা অপকর্মের ফিরিস্তিসহ ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ভাইরাল হতে থাকে। এর পর দেশ-বিদেশের ফেইসবুক ব্যবহারকারীসহ উপজেলার সর্বত্র তুমুল সমালোচনার ঝড় ওঠে। সন্ধ্যা নাগাদ সচেতন মহলে নানা গুঞ্জনসহ অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করে এলাকাবাসী।

একইভাবে নবীগঞ্জ উপজেলার ১নং বড় ভাকৈর (পশ্চিম) ইউপির নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান রঙ্গলাল দাস তার আইডি থেকে রাজরাণী চক্রবর্তী ও সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবীর ছবি এডিট করে ফেসবুকে আরেকটি পোস্ট দেন।

পৃথক এ দুটি ঘটনায় দিরাই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও তৎকালীন ওসি তা গ্রহণ না করে আদালতে যেতে বলেন। পরে তিনি আদালতে পর্নোগ্রাফি আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করেন।

আদালতের নির্দেশে দীর্ঘ তদন্ত শেষে জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি মোঃ ইকবাল বাহার ২০২১ইং সালের ১৮ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিজ্ঞ আদালত তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে দু’ সহোদরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা ইস্যু করেন। এরপর দুই আসামি পালিয়ে এসে দীর্ঘদিন ধরে নবীগঞ্জে বসবাস করেন। রঙ্গলাল দাস ১নং ইউপিতে ভোটার আইডি স্থানান্তর করে নিয়ে আসেন। বিগত ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর দু’সহোদর অধ্যক্ষ নৃপেন্দ্র দাস ও চেয়ারম্যান রঙ্গলাল দাস মহামান্য হাইকোর্ট থেকে ৪ সপ্তাহের আগাম জামিন নিয়ে আসেন। ২৪ জানুয়ারী হাইকোর্টের জামিনের মেয়াদ শেষ হয়। এর আগে সুনামগঞ্জ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে জামিনের প্রার্থনা করলে বিজ্ঞ বিচারক ২৪ জানুয়ারী শুনানীর তারিখ নিধারণ করেন।
সোমবার সুনামগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করেন দু’সহোদর। দুই পক্ষের আইনজীবীদের শুনানী শেষে বিজ্ঞ বিচারক আব্দুর রহিম জামিন নামঞ্জুর করে আসামিদের জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক পসিকিউর সোহেল আহমেদ এবং বাদীর আইনজীবি এডভোকেট শামীম মাহমুদ।

এ ব্যাপারে জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ ইকবাল বাহার এ প্রতিনিধিকে বলেন, আদালতের নির্দেশ বাদীনির মামলাটি দীর্ঘ তদন্ত শেষে দুই আসামি অধ্যক্ষ নৃপেন্দ্র দাস ও তার ভাই চেয়ারম্যান রঙ্গলালের বিরুদ্ধে গত বছরের ১৮ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করি। সোমবার দুই আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের আদেশ দেন আদালত।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিরাই উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও কুলঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য রাজ রানী চক্রবর্তীর সাথে ৭/৮ বছর আগে অধ্যক্ষ নৃপেন্দ্র চন্দ্র দাসের পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ইউপি সদস্য থাকাকালীনই অধ্যক্ষের প্ররোচনায় স্বামীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হয় রাজ রানী চক্রবর্তীর।

এক পর্যায়ে গ্রামের বাড়ি ছেড়ে সিলেট শহরে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে বাসা ভাড়াসহ যাবতীয় খরচ বহন করেন নৃপেন্দ্র দাস। তবে এই অবৈধ সম্পর্কের বিষয়টি সহজে মেনে নিতে পারেননি রাজরানীর স্বামী দুই সন্তানের জনক মধূসুদন চক্রবর্তী। মধুসূদন চক্রবর্তী বলেন, এক পর্যায়ে স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই মামলা মোকদ্দমায় জড়িয়ে পড়েন।

অধ্যক্ষ নৃপেন্দ্র দাসের প্ররোচনায় স্ত্রী রাজ রানী চক্রবর্তী কর্তৃক দায়ের করা নারী নির্যাতন মামলায় পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তার হয়ে তিনি দীর্ঘদিন হাজতবাস করেন। এ নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন সময় একাধিক সালিশ বৈঠক হয়। বিষয়টি নিয়ে রাজ রানীর স্বামী স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের কাছে বিচার প্রার্থীও হন। কিন্তু উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে অধ্যক্ষের সখ্যতা থাকায় কোনো সমাধান হয়নি।

এদিকে নবীগঞ্জ উপজেলার ১নং বড় ভাকৈর (পশ্চিম) ইউনিয়নের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান রঙ্গলাল দাস পর্নোগ্রাফী মামলায় সুনামগঞ্জে জেল হাজতে যাওয়ার খবর পৌছলে এলাকার ব্যাপক আলোচনার ঝড় উঠেছে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

x
English version