

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় স্কুল কমিটির সভাপতি নির্বাচন করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
গত বুধবার দুপুরে নাজিরপুর পল্লী জাগরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচন কে ঘিরে এ সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এতে যুবলীগ নেতা সহ ৫জন আহত, মোটর সাইকেলে অগ্নিসংযোগ, অফিস ভাংচুরের মত ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আবুল কালাম ( পিপিএম)।
সংঘর্ষে আহতরা হলেন উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পলাশ কান্তি বিশ্বাস, তার ভাই সুজন বিশ্বাস, নাজিরপুর ইউনিয়নের আমতলা গ্রামের সাবেক ছাত্রনেতা ফয়সাল আহমেদ রনি, স্হানীয় গণমাধ্যম কর্মী মাসুদ রানা।

উভয়পক্ষের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্বে থাকা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোঃ তারিকুল ইসলাম বলেন, নাজিরপুর পল্লী জাগরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচিত করার মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতি প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুস বাবুল ও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আলীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। আব্দুল আলী স্থানীয় সংসদ সদস্যের ডি ও লেটার পেয়েছেন বলে জানান। পরে পরিবেশ ঘোলাটে আকার ধারণ করলে সংসদ সদস্যের নির্দেশে সভাপতি নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়। পরে স্হানীয়রা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তবে সভাপতি প্রার্থীগণ সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।

উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পলাশ কান্তি বিশ্বাস অভিযোগ করে জানান, সভাপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্য মানু মজুমদার ডি ও লেটার দেন ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আলীকে। কিন্তু অপর প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুস বাবুল তা অবমাননা ও গালমন্দ করেন। পরে নির্বাচন স্থগিত করে ফেরার পথে আব্দুল কুদ্দুস বাবুল, তার ভাই শিক্ষক আব্দুল মওদুদ রতন ও তার সমর্থকরা তাদের উপর হামলা করে। গলায় গামছা জড়িয়ে শ্বাসরুদ্ধ করার চেষ্টা করেন বলে জানান তিনি। পরবর্তীতে উপজেলা দলীয় কার্যালয়ে তার ভাইয়ের উপর হামলা করা হয়। এসময় পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তাদের উদ্ধার করেন বলে জানান। তিনি আরো জানান, দলীয় নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন।
স্কুল কমিটির সভাপতি প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুস বাবুল বলেন, কমিটির সভাপতি নির্বাচন নিয়ে দলীয় নেতৃবৃন্দ ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্বে থাকা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোঃ তারিকুল ইসলাম তালবাহানা শুরু করে। গত বুধবার মিটিং এ নির্বাচিত ৫ সদস্যের মধ্যে ৪ জনের সমর্থন পান তিনি। এছাড়া তিনজন শিক্ষকের সমর্থনও পান বলে দাবি করেন তিনি। কিন্তু তাকে সভাপতি ঘোষণা না করে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল আলী কে সভাপতি করার পাঁয়তারা করেন উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পলাশ কান্তি বিশ্বাস।
এমপি ডি ও লেটার দিয়েছেন তা শুধু মুখেই বলছে কিন্তু দেখাচ্ছে না। পরে মিটিং স্থগিত করে চলে যাওয়ার পথে স্কুলের প্রার্তন শিক্ষার্থীরা ক্ষুদ্ধ হয়। কিন্তু তিনি আপ্রান চেষ্টা করেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য।
তিনি আরো বলেন, উপজেলার বেশিরভাগ স্কুলেই কমিটি গঠন নিয়ে মারামারি ও মামলা হামলা ঘটছে। এমনটাই হবে তাহলে নির্বাচনের প্রয়োজন কি।
উপজেলা সদরের চথরুমপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ইটভাটা মালিক শাহবাজ মিয়া জানান, নাজিরপুর স্কুলের কমিটি নিয়ে নিয়ে মারামারি হয়েছে।
পরে সন্ধ্যায় আমার চেম্বারে পলাশ বিশ্বাসের লোকজন হামলা ও ভাংচুর করে। আমার সাথে কিসের শত্রুতা জানিনা। এ বিষয়ে তিনি থানায় অভিযোগ করবেন বলে জানান।
সাবেক ছাত্রনেতা ও নাজিরপুর ইউপি আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির ছেলে ফয়সাল আহমেদ রনি জানান, আমারা কমিটির মিটিং দেখতে উপজেলা থেকে নাজিরপুর যাই। কিন্তু সমস্যার কারণে কমিটি স্থগিত করা হয়। এসময় স্হানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে এবং উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পলাশ কান্তি বিশ্বাস কে মারধর করে। পরবর্তীতে উপজেলায় ফেরার পথে চান্দুয়াইল গ্রামে পলাশ বিশ্বাসের লোকজন তাদের মারধর করেন এবং তাদের মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে জানান তিনি।
কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আবুল কালাম (পিপিএম) জানান, এখন পর্যন্ত কোন পক্ষ অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।


