///

স্বামীর পুরুষাঙ্গ নিয়ে থানায় স্ত্রী

13 mins read

গাজীপুরের শ্রীপুরে পরকীয়ার সন্দেহে স্বামী শরিফ উদ্দিন (৪৫) নামে এক যুবকের পুরুষাঙ্গ কেটে হাতে নিয়ে থানায় হাজির হয়েছেন স্ত্রী।

গুরুতর আহত যুবক শরিফ উদ্দিন গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। লোমহর্ষক এ ঘটনা ঘটেছে সোমবার গভীর রাতে উপজেলার পৌর এলাকার কেওয়া পূর্ব খণ্ড গ্রামের আমান উল্লাহের বাড়িতে।

আজ মঙ্গলবার ভোরে পুলিশ শরিফ উদ্দিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফুরকান খান।

আহত শরিফ কাপাসিয়া উপজেলার সোহাগপুর গ্রামের আলা উদ্দিনের ছেলে। তাঁর স্ত্রী হনুফা শ্রীপুর উপজেলার গোসিঙ্গা ইউনিয়নের গাজিয়ারন গ্রামের হানিফ ব্যাপারীর মেয়ে। পূর্ব খণ্ড গ্রামের আমান উল্লাহের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন তাঁরা।

জানা যায়, শরিফকে দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করেন স্ত্রী হনুফা (৩৫)। ৫ মাস আগে প্রেম করে তাদের বিয়ে হয়। এটি উভয়েরই দ্বিতীয় বিয়ে।

বাড়ির মালিক আমান উল্লাহ বলেন, ১ মে শরিফ দম্পতি আমার বাড়ির টিনশেড ঘরে ভাড়াটিয়া হিসেবে ওঠেন। গতকাল রাতে হনুফা ঘুমন্ত স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে হাতে নিয়ে ঘরের বাহির থেকে তালা বন্ধ করে চলে যায়। পরে রাত সাড়ে তিনটার দিকে পুলিশ এসে আমাদের ডেকে ঘরের দরজা ভেঙে শরিফকে উদ্ধার করে।

আহত শরিফের স্ত্রী হনুফা বলেন, প্রথম স্বামীর সংসারে দু’টি ছেলে রয়েছে তাঁর। ৫ মাস আগে প্রেম করে শরিফকে বিয়ে করেন তিনি। পরে স্বামী শরিফকে সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতে শুরু করেন। শরিফ এখন অন্য মেয়ের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছেন বলে তিনি জেনেছেন। এ নিয়ে তাদের সংসারে কয়েক দিন যাবৎ কলহ চলে আসছে। গত সোমবার রাত ৯টার দিকে শরিফ বাসায় এলে হনুফা তাঁকে ঘুমের ওষুধ মেশানো দুধ খেতে দেন। দুধ খেয়ে শরিফ ঘুমিয়ে পড়েন। স্বামী অন্য মেয়ের সঙ্গে পরকীয়া করছে তাই প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

শ্রীপুর উপজেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সুদেব চক্রবর্তী বলেন, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশ গুরুতর আহত ওই রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ওই নারী পুলিশ হেফাজতে আছেন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

x
English version