নোটিশ:
জৈন্তাপুর প্রতিদিন একটি অনলাইন ভিত্তিক জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা । আপনাদের আশে পাশে ঘটে যাওয়া সংবাদটি আমাদের জানান । আমরা সঠিক তথ্য যাচাই করে খবর পোস্ট করবো ।জৈন্তাপুর প্রতিদিন একটি অনলাইন ভিত্তিক জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা । আপনাদের আশে পাশে ঘটে যাওয়া সংবাদটি আমাদের জানান । আমরা সঠিক তথ্য যাচাই করে খবর পোস্ট করবো ।জৈন্তাপুর প্রতিদিন একটি অনলাইন ভিত্তিক জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা । আপনাদের আশে পাশে ঘটে যাওয়া সংবাদটি আমাদের জানান । আমরা সঠিক তথ্য যাচাই করে খবর পোস্ট করবো ।জৈন্তাপুর প্রতিদিন একটি অনলাইন ভিত্তিক জনপ্রিয় দৈনিক পত্রিকা । আপনাদের আশে পাশে ঘটে যাওয়া সংবাদটি আমাদের জানান । আমরা সঠিক তথ্য যাচাই করে খবর পোস্ট করবো ।
হিদইরখাল তথা বাউলিখাল কোন প্রকার নদী নয় মানুষের হাতে তৈরি একটা নালা

হিদইরখাল তথা বাউলিখাল কোন প্রকার নদী নয় মানুষের হাতে তৈরি একটা নালা

প্রায় অর্ধলক্ষ এলাবাসীর আশীর্বাদ হিদাইরখাল বাঁধ। (উল্টাপাল্টা না লিখে ইতিহাস জানুন)।হিদইরখাল তথা বাউলিখাল কোন প্রকার নদী নয় মানুষের হাতে তৈরি একটা নালা।

গোয়াইনঘাট উপজেলার ৫নং আলীরগাঁও ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে অবস্থিত কাকুনাখাই গ্রামের পশ্চিম পাশে এবং হুদপুর ও সতিপুর মৌজার মাঝামাঝি অবস্থিত হিদাইরখাল যার বর্তমান নাম বাউলিখাল।

উনিশ শতকের প্রথমার্ধে এই এলাকার অধিকাংশ মানুষ ছিল কৃষি নির্ভর। দৈনন্দিন জীবনের চাহিদা পূরণে জমিতে কৃষি কাজ এবং হাওর থেকে বিভিন্ন জিনিস সংগ্রহ, বিলেল-ঝিলে মাছধরা, গবাদিপশুর চারণভূমি হিসেবে হাওরের সাথে যোগাযোগের সুবিধার্থে ততকালীন কৃষি নির্ভর মানুষ সম্ভাব্য ১৯৩০ সাল থেকে ১৯৪০ সালের মাঝামাঝি সময়ে আনুমানিক ৫/৬ ফুট প্রস্থের একটি নালা তৈরি করেন। কারো মতে সেই নালাটি ছিল ৩ থেকে ৪ হাত চ্যাপ্টা আবার কারো কারো মতে ৫ থেকে ৬ হাত চ্যাপ্টা নালা তৈরি করা হয়েছিল। যাতে করে নৌকা নিয়ে সহজেই যাতায়াত করা যায়। যেই নালার খনন শুরু হয় সারী নদীর মাড়ুউওরার মোরা থেকে। এই ৫/৬ ফুট প্রস্থের নালাটির দু-পাশে ভাঙ্গনের ফলে দিনের পর দিন বড় হতে থাকে এবং যেটা পরবর্তীতে হিদইরখাল নামে পরিচিত হয়। প্রাচীন ইতিহাস না জেনেই আজ অনেকে সেটাকে নদী বলে চালিয়ে দিতে চাচ্ছেন, যা প্রাকৃতিক নয় বরং সম্পূর্ণভাবে মানুষের দ্বারা তৈরি এবং কৃত্রিম উপায়ে সৃষ্ট একটা নালা।

সম্পূর্ণ ভাবে মানুষের দ্বারা তৈরি এবং কৃত্রিম উপায়ে সৃষ্ট এই নালাটি একসময়ে এলাকাবাসীর উপকারের কথা চিন্তা করে তৈরি করা হলেও কালের বিবর্তনে তার দু-তীর মাত্রাতিরিক্ত ভাঙ্গনের ফলে পশ্চিম তীরে অবস্থিত সতিপুর এবং পূর্বতীরে অবস্থিত হুদপুর মৌজার শতাধিক ঘরবাড়ি তার গর্বে বিলীন হয়ে যায়। একই সাথে বিলীন হয় ঐ দুটি গ্রামের মানুষের চলাচলের রাস্তা। যার জ্বলন্ত প্রমাণ এতো প্রাচীন দুটি গ্রাম হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে তাদের চলাচলের কোন রাস্তা নেই।

হিদইরখলার দুতীরে বসবাসরত হুদপুর ও সতিপুর মৌজার মানুষের চলাচলের রাস্তা ও শতাধিক ঘরবাড়ি এই খালের গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় এই নালাটি এ-ই এলাকার মানুষের আশীর্বাদ নয় বরং অভিশাপে রূপ নেয়। শুধু তাই নয় এর দক্ষিণ প্রান্তে দুতীরে প্রায় কয়েকশ একর ফসলি জমি এর ভাঙ্গনের ফলে বিলীন হয়েছে। ফলে এই হিদইরখাল তথা বাউলিখালকে বৃহত্তর মঞ্জিলতলা বাসীর দুঃখ বলে অভিহিত করেছেন অনেকেই।

মঞ্জিলতলা এলাকা তথা কাকুনাখাই, হুদপুর, সতিপুর, কাকুনাখাই খলা, কাকুনাখাই হাওর, নয়াগ্রাম, লাউবিল সহ বেশ কয়েকটি মৌজার মানুষের কল্যাণে তৈরি হিদইরখাল সময়ের ব্যবধানে মঞ্জিলতলাবাসীর দুঃখ হিসেবে আখ্যা লাভ করে। শুধু তাই নয়, ৭নং ওয়ার্ডের কাকুনাখাই, হুদপুর, সতিপুর, কাকুনাখাই খলা, কাকুনাখাই হাওর, নয়াগ্রাম, লাউবিলসহ বেশ কয়েকটি মৌজা সংলগ্ন রাজবাড়ীকান্দি, বুধিগাঁও হাওর, নাইন্দা হাওর, তিতকুল্লী হাওর, লাম্বাডুবা হাওর সহ প্রায় ২০টি মৌজার মানুষের দুর্ভোগ আর ভুগান্তির অপর নাম এই বাউলিখাল।

হিদইরখাল তথা বাউলিখালের কারণে সকল ধরনের যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন এক দ্বীপ অঞ্চলের অধিবাসী হিসেবে জীবন কাটিয়েছেন বর্নিত এই ২০টি গ্রামের মানুষ। হিদইরখালের প্রশস্ততা বেড়ে যাওয়ায় মঞ্জিলতলাবাসীর দুঃখ হিসেবে পরিচিত কাকুনাখাই, হুদপুর, সতিপুর, কাকুনাখাই খলা, কাকুনাখাই হাওর, নয়াগ্রাম, লাউবিলসহ বেশ কয়েকটি মৌজা সংলগ্ন রাজবাড়ী কান্দি, বুধিগাঁও হাওর, নাইন্দা হাওর, তিতকুল্লী হাওর, লাম্বাডুবা হাওরসহ প্রায় ২০টি মৌজার মানুষের দুর্ভোগ আর কষ্ট ছিল সীমাহীন। স্কুল, কলেজ এবং মাদ্রাসায় পড়ালেখার জন্য অত্র এলাকার শিক্ষার্থীদের আসতে হত কখনো হিদইরখাল সাঁতরে আবার ভাগ্যজোরে কখনো নৌকায় পার হয়ে।

এলাকাবাসীর উদ্যোগে খেয়া নৌকার ব্যবস্থা করলেও সন্ধ্যা নামলেই থাকতোনা সেই নৌকা। প্রতিদিন নৌকাভাড়া দিয়ে কিংবা সাঁতরে পার হয়ে পায়ে হেঁটে হাটুসমান কাদা মাড়িয়ে আলীগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়, বারহাল দাখিল মাদ্রাসা , জৈন্তা কলেজ, এমসি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানে আসতে হতো শিক্ষার্থীদের।

শুধু তাই নয়, এই এলাকায় ছিল না কোন বাজার, দোকানপাট, ক্লিনিক, ফার্মেসী। ফলে চাল-ডাল, মসলা ও ওষুধপত্রসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়ের জন্য উক্ত হিদইরখাল পার হয়ে সম্পূর্ণ পায়ে হেঁটে আসতে হতো বারহাল তথা আটলিহাই। তারপর মিলত যানবাহনের দেখা। বিভিন্ন সময়ে মুমুর্ষ রোগী নিয়ে চিকিৎসার জন্য বর্ষাকালে নৌকা যোগে আসতে হতো জৈন্তাপুর হাসপাতালে। আর শুকনো মৌসমে কাঠের তৈরি চ্যাপ্টা তক্তা বা ফলো (মাছ ধরার বিশেষ উপকরণ) দিয়ে হাইং করে (বাঁশ বা বাউং দিয়ে দুজনে মিলে কাঁধে বহন করা) নিয়ে আসতে হতো ৬/৭ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে বারহাল কিংবা নিয়ে যাওয়া হতো ১৫/২০কিলোমিটার পায়ে হেঁটে জৈন্তাপুর হাসপাতালে। ফলে অনেকেই রাস্তায় মৃত্যবরণ করতো। আধুনিক জগতের সার্বিক সুবিধা বঞ্চিত ছিল দ্বীপের ন্যায় বিচ্ছিন্ন এই জনপদ।

হিদইরখালে বাঁধ নির্মাণ ছিল অত্র এলাকার প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষের প্রাণের দাবী। যার জন্য ১৯৯৭ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য, বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব ইমরান আহমদ-কে মঞ্জিলতলা বাজারে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তখন এলাকাবাসীর দাবী ছিল বাউলিখাল বাঁধ এবং আটলীহাই নাইন্দা রাস্তা পাকাকরণ। তৎকালীন সাংসদ মহোদয় আশ্বাস দিয়েছিলেন আটলিহাই-নাইন্দা রাস্তা পাকা হবে এবং বাউলিখালে বাঁধ নির্মাণ করা হবে।

যার ফলে, সাংসদ ইমরান আহমদ মহোদয়ের আন্তরিকতায় আটলিহাই-নাইন্দা রাস্তায় অর্ধেক কিলোমিটার (৫০০মিটার) রাস্তা সি.সি. ঢালাইয়ের মাধ্যমে পাকা করা হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য মাননীয় সাংসদ মহোয়ের সময়ে (১৯৯৬-২০০১) উক্ত রাস্তায় আর পাকাকরণ কিংবা হিদইরখাল বাঁধ নির্মাণ সম্ভব হয় নাই। ফলে মঞ্জিলতলাবাসীর দুঃখ থেকেই যায়। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে জোট সরকারের আমলে উক্ত রাস্তায় কিছুটা উন্নয়ন কাব হয় এবং আরও ১.৫ কিলোমিটার (১৫০০মিটার) রাস্তা পাকাকরণ হয়। যার দরুণ যোগাযোগের দিক থেকে অত্র এলাকার মানুষের দুঃখ-কষ্ট কিছুটা লাগব হয়। কিন্তু বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় দ্বীপবাসীর মতো বিচ্ছিন্ন জনপদ সতিপুর, কাকুনাখাই খলা, কাকুনাখাই হাওর, নয়াগ্রাম, লাউবিল সহ বেশ কয়েকটি মৌজা সংলগ্ন রাজবাড়ী কান্দি, বুধিগাঁও হাওর, নাইন্দা হাওর, তিতকুল্লী হাওর, লাম্বাডুবা হাওরসহ প্রায় ২০টি মৌজার মানুষের দুর্ভোগ লাগবের জন্য এলাকাবাসীর উদ্যোগে অত্র এলাকায় প্রতিষ্ঠা করা হয় মঞ্জিলতলা মাদ্রাসা এবং একই সময়ে স্থাপন করা হয় মঞ্জিলতলা বাজার। আজও এই এলাকায় নেই কোন মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তাই উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ, চিকিৎসা কিংবা নিত্যদিনের চাহিদা মেটাতে এই এলাকার আবাল-বণিতা, বৃদ্ধ-যুবক সহ সর্বস্তরের মানুষকে ছুটতে হতো প্রতিদিনই জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট কিংবা সিলেট শহরে।

সমগ্র বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এই সোনার বাংলার মানুষ যখন আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে, তখন সীমান্তবর্তী জনপদ এই মঞ্জিলতলা এলাকার মানুষ যোগাযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এই এলাকার মানুষ বিশ্বাস করতো, এলাকার উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে শিক্ষা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, তাই এলাকায় বিদ্যমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত করে শিক্ষা আলো ছড়িয়ে দিতে পারলে যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকেই যায় অধরা। যার মূল প্রতিবন্ধক ছিলো এই হিদইরখাল তথা বাউলিখাল। এলাকায় দক্ষ, অভিজ্ঞ ও নেতৃস্থানীয় লোক না থাকায় বাঁধ কিংবা উন্নত যোগাযোগের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়।

আল্লাহর মেহেবানীতে এরই মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হন জননেতা গোলাম কিবরিয়া হেলাল। এলাকাবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে তিনিও অঙ্গিকার করেন এবং আশ্বাস দেন, আটলিহাই-নাইন্দা রাস্তা এবং হিদইরখাল তথা বাউলিখাল বাঁধ নির্মাণের জন্য তিনি এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।

কিন্তু কতিপয় ষড়যন্ত্রকারী আর কুচক্রীমহলের কুট-কৌশলের কারণে তার চেষ্টা বারবার ব্যর্থ হয়। পরপর দুবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও তিনি তার ওয়াদা পূরণ করতে পারেন নি। কিন্তু সৎ, নিষ্ঠাবান ও গণমানুষের পরম বন্ধু গোলাম কিবরিয়া হেলালের অঙ্গিকার এবং আশ্বাস, তার নেতৃত্ব গূণের প্রতি এই এলাকার মানুষের অটল আস্থা ও বিশ্বাস থাকায় তৃতীয় বারের মতো বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করে এই মঞ্জিলতলা এলাকার মানুষ।

এলাকাবাসীর পরম সৌভাগ্য একই সময়ে দেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং বৃহত্তর জৈন্তা-গোয়াইনঘাট তথা সিলেট-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ, এমপি। মঞ্জিলতলাবাসীর প্রাণ প্রিয় ইমরান ভাই তথা বর্তমান সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব ইমরান আহমদ, এমপি মহোদয়ের স্নেহধন্য চেয়ারম্যান হেলাল এবং মঞ্জিলতলাবাসীর প্রতি আন্তরিকতায় ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে হিদইরখাল তথা বাউলিখাল বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে বাঁধ নির্মাণ শেষ হয়। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকে এগিয়ে যায় মঞ্জিলতলা এলাকার মানুষ।

হিদইরখাল তথা বাউলিখাল বাঁধ নির্মাণের ফলে আনন্দে উদ্বেলিত মঞ্জিলতলা এলাকার জনসাধারণ। লেখার শুরুতেই বলেছিলাম এই এলাকার মানুষ কৃষি নির্ভর। আজও সিংহভাগ মানুষ কৃষি নির্ভর । বাঁধ নির্মাণের ফলে শীতকালীন বিভিন্ন শাক-সব্জি, ফল-ফসল বাজারজাত করণের জন্য সরাসরি গাড়ি নিয়ে যাচ্ছে হাওরে। শহরের ব্যবসায়ীরা ভালো দামে নিজেই মাঠে গিয়ে কিনছেন গাড়ি গাড়ি শাক-সবজি, তরমুজ, মিষ্টি লাউ, কদু, আলুসহ বিভিন্ন প্রজাতির মৌসুমী সবজি। স্বাবলম্বী হচ্ছেন কৃষকরা, এলাকার মানুষের মধ্যে বিরাজ করেছে প্রাণ চাঞ্চল্য। তাছাড়া সারী নদী দিয়ে পাহাড় থেকে নেমে আসা কয়লার পানি হিদইরখালে প্রবাহিত হতো রৌয়া বিল, কুরুন্ডি, খলারকর, তুফলং সহ বেশ কয়েকটি বিলে, যা এইসব জল-মহালের জীববৈচিত্র্যের জন্য ছিল হুমকি স্বরূপ ।

এইসকল জল-মহাল থেকে প্রাপ্ত মাছ এই এলাকার মানুষের চাহিদা মেটানোর একমাত্র উৎস হলেও কয়লার পানির কারণে মাছ মরে যেতো, যার মারাত্মক প্রভাব পড়তো জনজীবনে। হিদইরখাল তথা বাউলিখাল বাঁধের ফলে এইসকল জল-মহাল এবং হাওরের জীব বৈচিত্র্য প্রাণ ফিরে পেয়েছে বলে মন্তব্য। শুধু তাই নয়, ইতিমধ্যে এই দীপাঞ্চল খ্যাত বুঁধিগাও -রাজবাড়ি কান্দির মধ্যবর্তী জায়গায় স্থাপিত হয়েছে আনন্দবাজার, নাইন্দার কাছাকাছি নয়াবাজার তথা বাংলাবাজার। বাঁধ নির্মাণের ফলে যোগাযোগ সহজ হওয়ায় ব্যবসায়ীরা শহর থেকে মালামাল কিনে আটলিহাই-নাইন্দা রাস্তা হয়ে এই বাঁধের উপর দিয়ে ট্রাক, পিকআপ ভ্যানসহ বিভিন্ন গাড়িযোগে, রাস্তা না থাকায় ক্ষেতের জমির উপর দিয়ে গাড়ি চলে যাচ্ছে এইসব বাজারে। ফলে এলাকার মানুষ ব্যবসা করার সুযোগ পেয়েছে। এলাকার সাধারণ জনগণ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির চাহিদা মেটাতে পারছেন বাড়ির কাছের এইসব বাজার থেকে। ফলে জনজীবনে নেমে এসেছে স্বস্তি। তাছাড়া বিগত প্রতিটি শুষ্ক মৌসুমে অর্থাৎ শীতকালে কাকুনাখাই, হুদপুর, সতিপুর, কাকুনাখাই খলা, কাকুনাখাই হাওর, নয়াগ্রাম, লাউবিল সহ বেশ কয়েকটি মৌজা সংলগ্ন রাজবাড়ী কান্দি, বুধিগাঁও হাওর, নাইন্দা হাওর, তিতকুল্লী হাওর, লাম্বাডুবা হাওর সহ প্রায় ২০টি মৌজায় বসবাসরত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র, শিক্ষক, বিভিন্ন দপ্তরের চাকুরীজীবি ও সর্বস্তরের মানুষ আটলিহাই-নাইন্দা -হিদইরখাল বাঁধ হয়ে সিএনজি, অটোরিকশা ও বিভিন্ন যানবাহন নিয়ে যাতায়াত করছেন।

যেই হাওর এলাকায় গাড়ি যাওয়া ছিল একসময় স্বপ্ন, সেই স্বপ্নকেই আজ বাস্তবে রূপ দিয়ে সুফল ভোগ করছে এই হাওরের মানুষ। যে স্বপ্নের পূরণের মূল নায়ক জননেতা গোলাম কিবরিয়া হেলাল। অত্র এলাকায় বসবাসরত প্রায় ৫০হাজার মানুষ আজ শ্রদ্ধাচিত্তে স্মরণ করে এই এলাকার মুরব্বিয়ানদের এবং জনতারসেবক, কর্মবীর চেয়ারম্যান হেলালকে, যাদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আজ হিদইরখাল তথা বাউলিখাল বাঁধ স্বপ্ন নয় বাস্তবে রূপলাভ করেছে। তাই এক সময়ের মঞ্জিলতলাবাসীর দুঃখ আজ দূর হয়েছে এবং হিদইরখাল তথা বাউলিখাল বাঁধ এলাকাবাসীর আশীর্বাদে পরিণত হয়েছে।

হিদইরখাল তথা বাউলিখাল বাঁধের বদৌলতে আজ যেমন মঞ্জিলতলা এলাকাবাসী যোগাযোগ সুবিধায় এগিয়ে গেছে ঠিক তেমনি এগিয়ে গেছে লাভজনক কৃষির ক্ষেত্রে, এগিয়ে গেছে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে, রক্ষা পেয়েছে জল-মহাল, রক্ষা পেয়েছে জীব-বৈচিত্র, উপকৃত হয়েছে এলাকার ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, আইনপেশাসহ বিভিন্ন দপ্তরের চাকুরীজীবি এবং এলাকার প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক জনগণ। এতোকিছুর পরেও দুঃখজনক হলেও সত্য, আজ এই হিদইরখাল তথা বাউলিখাল বাঁধ নিয়ে চলছে নানামুখী ষড়যন্ত্র, মিথ্যা প্রচারণা এবং জনতার সেবক, কর্মবীর, মঞ্জিলতলা এলাকার উন্নয়নের বাতিঘর জননেতা আলহাজ্ব গোলাম কিবরিয়া হেলাল চেয়ারম্যান-কে নিয়ে রকমারি মনগড়া প্রোপাগান্ডা। কেন এই ষড়যন্ত্র, কে এই ষড়যন্ত্রকারী, কারা এই ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে কাজ করছেন, এই স্বার্থান্বেষী মহলের উদ্দেশ্য কী, তারা কি চায় এসকল বিষয় নিয়ে আসবে ধারাবাহিক প্রতিবেদন। উঠে আসবে চোরাচালানের ইতিহাস, বেরিয়ে আসবে মুখোশ পরিহিত থলের বিড়াল, আটলিহাই-নাইন্দা রাস্তা দিয়ে চোরাচালানের গডফাদারদের পরিচয়, উক্ত রাস্তার চাঁদাবাজ চক্রের ইতিহাস। আসুন সত্যকে জানি, সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলি।

প্লিজ সেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Design & Developed BY Mission It Development ltd.
x
English version