//

অপহরণের পর আপত্তিকর ছবি তুলে টাকা আদায় করত

15 mins read

কখনো অপহরণ আবার কখনো সখ্য গড়ে তরুণ থেকে মাঝবয়সী ব্যক্তিদের কৌশলে অপহরণ করে বাড়িতে নিয়ে যায় চক্র। তারপর বাড়িতে থাকা নারীদের সঙ্গে অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের আপত্তিকর ছবি তোলা হয়। ছবি গুলো ভুক্তভোগীর পরিবার কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা হত। এমন একটি চক্রের চার সদস্যকে নওগাঁ হতে গ্রেপ্তারের দাবি করেছে ্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (্যাব)

বুধবার রাত ৯টার দিকে নওগাঁ পৌরসভার পাটালি মোড়ের একটি বাসা হতে অপহরণকারী চক্রের ৪সদস্যকে গ্রেপ্তার করেন ্যাবএর জয়পুরহাট ক্যাম্পের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার সকালে জয়পুরহাট ্যাব ক্যাম্প (সিপিসি) হতে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে তথ্য জানা যায়।

গ্রেপ্তার ৪জন হল, নওগাঁ পৌরসভার হাটনওগাঁ ফকিরপাড়ার বাসিন্দা দুলাল হোসেন (৩৮),নওগাঁ পাটালিপাড়া এলাকার ইমরান হোসেন (৩৬), নওগাঁ সদর উপজেলার কাঠখৈর গ্রামের বাসিন্দা হুজুর আলী (৪০) নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার বাঘের আওয়াত গ্রামের মেহেদী হাসান (২০)

্যাবের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার বেলা ১১টার দিকে জমির কাগজ দেখানোর কথা বলে আবদুস সামাদ (৫০) নামের ব্যক্তিকে দুলাল হোসেন হুজুর আলী নওগাঁ পৌরসভার পাটালি মোড় এলাকায় ডাকে। পরে তাঁরা কৌশলে সামাদকে দুলাল হোসেনের বাড়িতে নিয়ে যায়। তারপর বাড়িতে থাকা নারীর সঙ্গে সামাদের আপত্তিকর ছবি ভিডিও ধারণ করে। পরে ছবি ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে সামাদের কাছে দেড় লাখ টাকা দাবি করে। সামাদ তাঁর পরিবারের লোকজনের মাধ্যমে ৭৫হাজার টাকা সংগ্রহ করে অপহরণকারীদের দেয়। তবে পুরো টাকা না পেয়ে সামাদকে আটকে রাখেন অপহরণকারীরা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে জয়পুরহাট ্যাব একটি দল গতকাল রাতে দুলাল হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখানে অভিযান চালিয়ে অপহরণকারী চক্রের চার সদস্যকে আটক করে ্যাব। পরে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নওগাঁ সদর থানায় অপহরণ করে টাকা আদায় এবং অশ্লীল ছবি ধারণ করার অভিযোগে মামলা হলে তাঁদের থানাপুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

জয়পুরহাট ্যাব ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর মোস্তফা জামান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্রের সদস্য। চক্রে মোট হতে ১০ জন সদস্য আছে। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে অপহরণ করে আবার কখনো সখ্য গড়ে তুলে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত। তবে লোকলজ্জার ভয়ে ভুক্তভোগীরা এসব বিষয়ে থানায় অভিযোগ করেন না। কারণে আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে অপরাধ করে গেলেও তাঁরা দিন ধরা পড়েননি।

নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফয়সাল বিন আহসান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আজ আদালতে নেওয়া হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

English version