

বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা ইউনিয়নের ঢেউ নগর গ্রামের বাসিন্দা আছিয়া বেগম। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। বেশ কয়েক বছর আগে হারিয়েছেন স্বামী নাসির উদ্দিনকে নেই কোন সন্তান। প্রতিদিন মানুষের কাছে ৫০ থেকে ১০০ চেয়ে নিয়ে দুই বেলা আহারের ব্যবস্থা হতো তার। অবশেষে আছিয়ার অসহায়ত্ব দূর করতে এগিয়ে এসেছে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ। বিয়ানীবাজার থানা পুলিশের হাত দরে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছেন তিনি। অছিয়ার দুর্দশা দূর করতে উপজেলার শেওলা ইউনিয়নের ঢেউনগর গ্রামে জমিসহ একটি আধাপাকা ঘর করে দিয়েছে পুলিশ।
রবিবার দুপুরে ভিড়িও কনফরেন্সের মাধ্যমে সারা দেশের ন্যায়বিয়ানীবাজার থানায় নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সার্ভিস ডেস্ক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উক্ত অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে অসহায় আছিয়া বেগমকে এই ঘর প্রদান করা হয় ।
এদিকে ঘর পাওয়ার পর আনন্দে আত্মহারা আছিয়া বেগম বলেন, ‘তার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে অনেক বছর আগে। মানুষের কাছে ৫০ থেকে ১০০ চেয়ে নিয়ে দুই বেলা আহারের ব্যবস্থা হতো। মাথা গোঁজার কোনো ঠাই ছিল না তার, পরের বাড়িতে থাকতেন। আছিয়া বেগম আরও বলেন, ওসি স্যার আমাকে খোজে আমার অসহায়ত্বের কথা শুনে তিনি আমাকে বাড়ি নির্মাণ করে দেন। ওসি স্যার আমাকে জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে আমাকে এ ঘর প্রদান করা হয়েছে। আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য দোয়া করি আল্লাহ যেন তাকে শত-শত বছর আমাদেও মাঝে বাচিয়ে রাখেন।
বিয়ানীবাজার থানা পুলিশের সূত্র জানায়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মোতাবেকই গৃহনির্মাণ প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেক থানায় একটি হতদরিদ্র পরিবারকে ন্যূনতম এক কাঠা জমি ক্রয় করে আনুমানিক ৪১৫ বর্গফুট আয়তনের দুই কক্ষ, রান্নাঘর ও টয়লেট বিশিষ্ট একটি গৃহ নির্মাণ করে দেওয়ার কাজ এরই মধ্যেই শেষে হয়েছে। রবিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের পর ঘরের চাবি অসহায় আছিয়া বেগমকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।
বিয়ানীবাজার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিল্লোল রায় বলেন, পুলিশ সুপার স্যারের নির্দেশের পর অনেক যাচাই-বাছাই করে ভিক্ষুক আছিয়া বেগমকে নির্বাচিত করা হয়। এমন অসহায় নারীকে সাহায্য করাটাও অনেক আনন্দের। ঘরের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের পরই আছিয়াকে আমরা ঘরটি বুঝিয়ে দিয়েছি। পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি অনেক মানবিক কাজ করে থাকে, অতীতেও করেছে, যা হয়তো এখন আরও বেশি দৃশ্যমান।


