
সিলেট জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট -৪ (জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ) আসনে দলীয় নয় স্বতন্ত্র এমপি পদপ্রার্থী হিসেবে উপজেলা বিএনপির নেতাদের সাথে নিয়েই নিজের প্রার্থীতা ঘোষণা করেছেন।
বৃহস্পতিবার জৈন্তাপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।
সংশ্লিষ্ট সুত্রমতে জয়নাল আবেদীন সিলেট জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক হলেও তিনি সুকৌশলে দলীয় পরিচয় গোপন করে তাঁর প্রার্থীতা জানান দেন। এসময় তার পাশে ছিলেন, জৈন্তাপুর উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাফিজ, সহ-সভাপতি আব্দুশ শুকুর, বিএনপি নেতা ও নিজপাট ইউপি চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলী, যুবদল নেতা ও দরবস্ত ইউপি চেয়ারম্যান বাহারুল ইসলাম। এ নিয়ে উপজেলা জুড়ে বিএনপি ও জামায়াত নেতা কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী ও সোস্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় চলছে।
জৈন্তাপুর প্রেসক্লাব ও কর্মরত স্থানীয় সাংবাদিকদের সম্মানে ইফতার মাহফিল ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হলেও প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাবেক সভাপতি ছাড়া আর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাংবাদিককে সভায় দেখা যায় নি বলে সংশ্লিষ্ট সুত্র উল্লেখ করে। জামায়াত নেতার ইফতার মাহফিল অঘোষিত ভাবে মুল ধারার স্থানীয় সাংবাদিকদের বড় একটি অংশ বর্জন করেছে। হলরুমে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকরা ছিলেন। তাদের সাথে জয়নাল আবেদীন কথা বলেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএনপি কর্মী বলেন, বিএনপি যেখানে জাতীয় নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ই নেয়নি, সেখানে জামায়াত নেতার প্রার্থীতা ঘোষণার প্রোগ্রামে উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে আমরা বিস্মিত হয়েছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা জামায়াতের এক নেতা জানান, জামায়াত দলীয় ভাবে এখনো কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি।সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভার কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমরা জানি না। তবে উনার বিএনপির সাথে সখ্যতা ও ঘনিষ্ঠতা আছে।
উপজেলা ছাত্রশিবিরের এক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে এ প্রতিবেদককে বলেন,জয়নাল আবেদীন জামায়াতের মাঝে ঘাপটি মেরে বসা বিএনপির এক নেতা। তিনি বিএনপি থেকে নমিনেশন নিয়ে ইলেকশন করার খবর শোনা যাচ্ছে।
অপর একটি সুত্র জানায়, আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন এবি পার্টির সাথেও ঘনিষ্ট যোগাযোগ রাখছেন। সিলেটে এবি পার্টি প্রতিষ্ঠায় তিনিই খলনায়ক। পরবর্তীতে জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি পদ বাগিয়ে নেয়ায় এবি পার্টির সাথে সম্পর্কে ভাটা পড়ে। সুত্র জানায়, জামায়াতের নিবন্ধন পূনরায় প্রাপ্তি এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে। তাছাড়া জামায়াত সমর্থিত বিডিপি নতুন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের তালিকায় নাই। ফলে জয়নাল আবেদীন বিএনপির ঘাড়ে সওয়ার হয়ে নির্বাচন করবেন। আর তা না হলে এবি পার্টির সাথে সম্পৃক্ত হবেন বলে সুত্র জানিয়েছে। তাই ফের যোগাযোগ শুরু করেছেন এবি পার্টির সাথে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা জামায়াতের শীর্ষ এক নেতা জানান, সোস্যাল মিডিয়ায় অনেকে অনেক কিছু লিখে। আমরা সিলেট ৫ ও ৬ আসন ছাড়া অন্য কোন আসন নিয়ে তেমন চিন্তা করছি না। হ্যাঁ, তবে দলীয় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় নেতারা বলবেন।


