

সিলেটের ওসমানীনগরে প্রচারপত্র বিতরণকালে বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদীর লুনার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।
১৯ নভেম্বরের সিলেট বিভাগীয় সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে পূর্বঘোষিত প্রচারপত্র বিতরণকালে তিনি শেরপুর থেকে দয়ামীর পর্যন্ত স্থানে স্থানে পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীদের দ্বারা বাধার সম্মুখিন হন। প্রচারপত্র বিতরণকালে বিএনপির ২ নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। তবে হামলার বিষয়ে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।

জানা যায়, ১৯ নভেম্বরের সিলেট বিভাগীয় সমাবেশ সফল করার জন্য মঙ্গলবার বিকেলে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে ওসমানীনগরে প্রচারপত্র বিতরণ করতে আসেন ইলিয়াস পত্নী লুনা। এ সময় শেরপুর থেকে দয়ামীর পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীদের বাধার মুখে পড়েন তিনি। দক্ষিণ গোয়ালাবাজার এলাকায় পুলিশ মারমুখি অবস্থান নিয়ে ট্রাক দাঁড় করিয়ে মহাসড়কে বেরিকেট দিলে বিএনপি নেতা-কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাহসিনা রুশদীর লুনার গাড়ি বেরিকেট ডিঙ্গিয়ে উত্তর গোয়ালাবাজার প্লাজার সামনে এলে তার গাড়িতে হামলা হয়। পরবর্তীতে গোয়ালাবাজারে কোন কর্মসূচী না করে তার গাড়ি সরাসরি দয়ামীর বাজারে ছুটে যায়। সেখানে গাড়ি থেকে নেমে তিনি ঝটিকা প্রচারপত্র বিলি করতে শুরু করলে আবারও পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় তাঁর গাড়ির (ঢাকা মেট্রো গ ২১/৫৮২২) সামনের কাঁচ ভাঙ্গা ও পেছনের বনেটে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেত্রী লুনা সাংবাদিক সাথে কথা বলেন, গোয়ালাবাজারে তাঁর গাড়িতে হামলার জন্য তিনি সরাসরি ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে দায়ী করেন৷ ১৯ নভেম্বর সিলেটে বিএনপির মহাসমাবেশকে ঘিরে সরকারের মধ্যে ভীতির তৈরি হয়েছে। আর তাই বিনা উস্কানিতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ প্রচারপত্র বিতরণ কর্মসূচীকে বানচাল করতে পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে।
সরকার দলীয়দের হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ মিছবাহ ও উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুর রুপ আব্দুল আহত হয়েছেন।

পুলিশের বাধার মুখে তড়িঘড়ি করে লুনার গাড়ি দয়ামীর এলাকা ত্যাগ করলে থানা পুলিশ বিএনপির জমায়েত নেতা-কর্মীদের ধাওয়া করে ২ জনকে আটক করে। আটককৃতরা হচ্ছেন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ফয়সল আহমদ মিলন, উমরপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা নুরুল ইসলাম।
লুনার গাড়িতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের হামলার বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাবেদ আহমদ আম্বিয়া। তিনি বলেন, যুবলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে গোয়ালাবাজার প্লাজার সামনে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ কেককাটার জন্য সমায়েত হয়েছিলেন। এ সময় বিএনপি নেতৃবৃন্দ প্লাজার সামনে অবস্থান নিয়ে প্রচারপত্র বিলি করতে চাইলে যুবলীগ নেতৃবৃন্দ তাদের অন্যত্র যাবার জন্য বললে তুমুল বাকবিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে যুবলীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হয়। এই হামলায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৬ জন আহত হন।
ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম মাঈন উদ্দিন বলেন, বিএনপি তাদের প্রচারপত্র বিলি কর্মসূচীকে ঘিরে ওসমানীনগরে অরাজকতা তৈরি করতে চেয়েছিল। তাই পুলিশ এলাকার শান্তি রক্ষার্থে কাজ করেছে। ২জনকে আটকের বিষয়ে তিনি বলেন, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগে এরা আটক হয়েছেন। পরবর্তীতে মামলা হলে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হবে।


