///

গুরুতর অপরাধে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন আর্জেন্টিনা-সৌদি আরব ম্যাচের রেফারি

14 mins read

কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে আজ বাংলাদেশ সময় বিকেল চারটায় বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা, প্রতিপক্ষ সৌদি আরব। এই ম্যাচ পরিচালনা করবেন স্লোভেনিয়ান রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ।

তাঁর দুজন সহকারীও স্লোভেনিয়ান টমাস ক্লানসিনিক ও আন্দ্রাজ কোভাচিচ। চতুর্থ রেফারির দায়িত্বে সেনেগালের মাগুয়েত্তে এনদিয়ায়ে। বিশ্বকাপের ম্যাচ হলেও সাধারণত কোনো ম্যাচের রেফারি নিয়ে কেউ মাথা ঘামান না। তবে এই ম্যাচ শুরুর আগেই রেফারি স্লাভকো ভিনচিচকে নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। কারণ, তাঁর অতীত ইতিহাস।

৪২ বছর বয়সী স্লাভকো ভিনচিচ ২০১০ সাল থেকে ফিফা রেফারির দায়িত্ব পালন করছেন। গত ইউরোপা লিগের ফাইনাল ম্যাচও পরিচালনা করেছেন তিনি। বড়দের বিশ্বকাপে এই ম্যাচ দিয়েই তাঁর অভিষেক ঘটবে। সেটি তাঁর জন্য আনন্দের উপলক্ষ হলেও ভিনচিচ আলোচনায় উঠে এসেছেন দুই বছর আগের এক ঘটনার জন্য। ড্রাগ ও অস্ত্র চোরাচালান এবং পতিতাবৃত্তির চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই বছর আগে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল।

২০২০ সালে কোভিড মহামারি চলাকালে বসনিয়ার বিয়েইনা শহরের একটি কেবিনে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। সেই কেবিনে পুলিশ ৯ জন নারী, ২৬ জন পুরুষ, অবৈধ অস্ত্র ও প্রচুর কোকেনের সন্ধান পেয়েছিল। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ‘টিওয়াইসি স্পোর্টস’ জানিয়েছে, ১৪ প্যাকেট কোকেন উদ্ধার করেছিল পুলিশ আর ১০টি অবৈধ অস্ত্র। এর পাশাপাশি ৩টি বুলেট প্রুফ জ্যাকেট ও ১০ হাজার ইউরোও উদ্ধার করা হয়েছিল।

পরে পুলিশি তদন্তে জানা যায়, এই চক্রের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ ছিল না ভিনচিচের। পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল সার্বিয়ান মডেল তিয়ানা মাকসিমোভিচের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে। তিয়ানার বিরুদ্ধে পতিতাবৃত্তি চক্র চালানোর অভিযোগ ছিল। ইতালির সংবাদকর্মী জিয়ানলুকা ডি মার্জিও জানিয়েছেন, সেই ঘটনায় নৌকায় দ্রিনা নদী দিয়ে আরও তিনজনের সঙ্গে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন ভিনচিচ।

বসনিয়ান পুলিশের কাছে সেই ঘটনায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যার পর মুক্তি পেয়েছিলেন ভিনচিচ, নৈশভোজের দাওয়াতে গিয়েছিলাম, যেটা আমার সবচেয়ে বড় ভুল হয়ে দাঁড়ায়। টেবিলে বন্ধুদের সঙ্গে বসেছিলাম। হঠাৎই পুলিশ হানা দেয়। গ্রেপ্তার হওয়া চক্রের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্কই নেই। এমনকি আমার সঙ্গীদের সঙ্গেও তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

ভিনচিচ সে সময় আরও জানিয়েছিলেন, পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করে, আমি সাক্ষ্য দিই এবং পরে জানা যায়, ওই চক্রের সঙ্গে আমাদের কোনো সংযোগ নেই। এরপর মুক্তি পাই। এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

English version