
গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ ও উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুকের প্রচেষ্টায় চোরাই ৪ টি গরুসহ চোর আটক
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফারুক আহমদ ও গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় চোরাইকৃত ৪টি গরুসহ চিহ্নিত গরুচোরকে আটক করা হয়েছে।
আটককৃত ব্যক্তি গোয়াইনঘাট উপজেলার গোয়াইনঘাট সদর ইউনিয়নের উত্তর লাবু গ্রামের চিহ্নিত গরুচোর সোহাগের আপন ভাই ও আয়াত উল্লাহ মিয়ার ছেলে আলতা মিয়া।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত শনিবার (১১ জুন) দিবাগত-রাতে খাওয়া ধাওয়া করে নিজ বসতঘরে ঘুমিয়ে পড়েন উপজেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার ও কাপ্তানপুর গ্রামের বাসিন্দা ইসলাম উদ্দিন। ইসলাম উদ্দিন ঘুমিয়ে পড়লে গভীর রাতে চুরেরা গোয়াল ঘরের তালা ভেঙ্গে ৪টি গরু নিয়ে পালিয়ে যায়। তিনি প্রতিদিনের ন্যায় রবিবার (১২ জুন) ভোরবেলায় ঘুম থেকে উঠে দেখতে পান তার শেষ সম্বল ৪টি গরু চুরি হয়েগেছে।
তিনি চুরি হওয়া গরু উদ্ধারের জন্য গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মানুষের সাথে যোগাযোগ করে চুরি হওয়া গরুর হদিস পাননি। তারপরেও তিনি চুরি হওয়া গরু খোঁজে বিভিন্ন ইউনিয়নে মানুষ নিয়োগ করেন।
রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে চুরি হওয়া গরুর খোঁজে তিনি অবস্থান করেন গোয়াইনঘাট সদর ইউনিয়নের উত্তর লাবু গ্রামে। এসয় তিনি গরু খোঁজে চিন্তিত গরুচোর সোহাগের বাড়ির সামনে পৌঁছে দেখতে পান তার চুরি হওয়া ৪টি গরু পাচারের জন্য গরুচোর সোহাগসহ ৬/৭জন লোক নৌকায় গরুগুলো তুলছেন। ইসলাম উদ্দিন তার গরু দেখে চিৎকার শুরু করলে লাবু গ্রামের লোকজন চলে আসেন এবং গুরুগুলো ফেরত দেয়ার জন্য সোহাগকে অনুরোধ করে। এতে গ্রামবাসীর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে যায় গরুচোর সোহাগ এবং গরুর মালিক ও সহযোগীতাকারী গ্রামবাসীর উপর আক্রমন করার জন্য সুলপি, ঝাঁটা, দাসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আক্রমণের চেষ্টা চালান।
খবর পেয়ে গোয়াইনঘাট থানার এসআই জহিরুল ইসলাম খানকে সাথে নিয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে ঘটনাস্থলে ছুটেযান গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফারুক আহমদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন গোয়াইনঘাট সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী সুমন, পশ্চিম জাফলং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুন পারভেজসহ দুই ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের মেম্বারগন।
পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিগনের সার্বিক প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং চোরাই গরুসহ আলতা মিয়াকে আটক করে গোয়াইনঘাট থানায় আসেন।
এব্যাপারে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ কে এম নজরুল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আটক ব্যক্তিসহ ৪টি গরুচুরির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফারুক আহমদ বলেন, চোরাই গরু নৌকায় উঠানোর সময় গরুর মালিক গরুসহ চোরকে হাতেনাতে ধরে ফেলার পর সোহাগের আত্মীয় স্বজনদের দেশীয় অস্ত্রের মহড়ার খবর আমাকে বিচলিত করে। ঘৃণ্য ও বর্বরোচিত বিষয়ে বিহীত ব্যবস্থার জন্য তাৎক্ষণিক ভাবে গোয়াইনঘাট থানার এসআই জহিরুল ইসলাম খান এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ওয়ার্ড মেম্বারদের সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই।
এসময় বিক্ষোভ্ব হাজারো জনতার সাথে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। অপর দিকে চোলাইকৃত ৪টি গরুসহ আলতা মিয়াকে আটক করে গোয়াইনঘাট থানা হাজতে নিয়ে আসেন এসআই জহিরুল ইসলাম খান।


