

কে.এ.রাহাত,গোয়াইনঘাট :
বৃষ্টি আর ভারতের পানির ঢলে গোয়াইনঘাটের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার থেকে গোয়াইনঘাটের নিম্নাঞ্চলসহ উপজেলার সবকটি ইউনিয়নের ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে উপজেলার প্রধান প্রধান নদ নদীর পানি। চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে লাখ লাখ পানিবন্দি মানুষের। ঘরবাড়ি ছেড়ে অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন আশ্রয় কেন্দ্রে। বন্যার পানিতে ডুবে গেছে ক্ষেতের ফসল। ভেসে গেছে খামার ও পুকুরের মাছ। বন্যাদুর্গত এলাকায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে অনেকেই। বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু খবর পাওয়া গেছে।
বন্যায় গোয়াইনঘাট উপজেলার কয়েকলক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকা মানুষের মাঝে ত্রাণের জন্য হাহাকার চলছে। শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও গো খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যা পানিতে নৌকা দেখলেই হাত বাড়িয়ে ডাকছে পানিবন্ধী ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার। দুর্ভোগ কমেনি দুর্গত মানুষের। ৭০ভাগ বানভাসীদের কাছে পৌঁছায়নি ত্রাণসামগ্রী। আশ্রয় স্থানগুলোতে নেই বিশুদ্ধ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন সুবিধা।
বন্যার পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের জাফলং চা বাগান, মমিনপুর, আসাম পাড়া, আসাম পাড়া হাওর, ছৈলাখেল অষ্টম খন্ড (আংশিক এলাকা) নবম খন্ড, সানকিভাঙ্গা, নয়াগাঙের পার, বাউরবাগ হাওর, ভিত্রিখেল হাওর, আলীরগাঁও ইউনিয়নের নাইন্দার হাওর, তিতকুল্লিহাওর, বুধিগাঁও হাওর, রাজবাড়ি কান্দিসহ পশ্চিম জাফলং, রুস্তমপুর, ডৌবাড়ী, লেঙ্গুড়া, তোয়াকুল ও নন্দীরগাঁও ইউনিয়নের প্রায়সব গ্রামের বাড়িঘর প্লাবিত হয়ে পড়েছে।
সিলেট জেলা প্রশাসনের দেয়া বন্যাকবলিতদের দুর্ভোগ কমাতে চাল বিতরণ শুরু করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত নেই বলে দাবি করছেন জনপ্রতিনিধিরা।
গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ জানিয়েছেন উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যা কবলিত এলাকায় মনিটরিং করে সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ২৪মেট্রিক টন চাল বিতরন করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আবারও ত্রানের ব্যবস্থা করা হবে।


