

আফ্রিকান অস্ত্র দিয়ে আফ্রিকানদের ঘায়েল অনেক বারই করেছে ফ্রান্স। কারণ, ফ্রান্স দলে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ফুটবলারের ছড়াছড়ি। বর্তমানে দলটির সবচেয়ে বড় তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেও এই দলে। ২৩ বছর বয়সি এমবাপ্পের জন্ম প্যারিসে হলেও তার বাবা ক্যামেরুনের, মা আলজেরিয়ান। কিন্তু আজ রাতে অন্য রকম একটা অভিজ্ঞতারই মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। সেমিফাইনাল যুদ্ধের আগে ফরাসিরা নিজেদের অস্ত্রেই ঘায়েল হওয়ার শঙ্কায় কাঁপছে।
কাতার বিশ্বকাপের আজকের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ আফ্রিকার দেশ মরক্কো। যে দলটির তিন জনের জন্ম ফ্রান্সে। শুধু জন্মই নয়, বেড়ে ওঠা, ফুটবলার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়া এবং খেলা তাদের সবকিছুই হয়েছে ফ্রান্সে। কিন্তু তারা ভাগ্যের ফেরে এখন মরক্কো জাতীয় দলের অংশ। মানে মরক্কো দলের তিন জন আজ ফরাসিদের ‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’ হবেন। জন্মসূত্রে ফরাসি হয়েও আজ মরক্কোর হয়ে সেমিফাইনাল যুদ্ধে নামার জন্য প্রস্তুত সেই তিন যোদ্ধা হলেন, মরক্কোর কোচ ওয়ালিদ রেগরাগুই, অধিনায়ক রোমাইন সাইস ও ফরোয়ার্ড সোফিয়ান বাউফাল। বুঝতেই পারছেন, তিন জনই মরক্কো দলের অতি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এই ‘তিন ফরাসি অস্ত্র’ দিয়েই আজ ফরাসিদের বধ করার পরিকল্পনায় মরক্কো। মজার ব্যাপার হলো, ফরাসিদের বধ করার মূল পরিকল্পনাটাও করেছেন এই ‘ফরাসি’রাই! দলের একাদশ কেমন হবে, কোন ফরমেশনে খেলতে হবে, মাঠে কার কী দায়িত্ব থাকবে, এসব চিত্রনাট্য তৈরিতে কোচ রেগরাগুই নিশ্চিতভাবেই অধিনায়ক রোমাইন সাইসের পরামর্শ নেবেন। আক্রমণভাগের অন্যতম সদস্য হিসেবে সোফিয়ান বাউফালও হয়তো তাদের সঙ্গে পরিকল্পনা তৈরিতে যুক্ত থাকবেন। মানেটা পরিষ্কার, নিজেদের তিন অস্ত্রেই আজ ফরাসিরা ঘায়েল হওয়ার পথে!
কোচ ওয়ালিদ রেগরাগুইয়ের জন্ম, বেড়ে ওঠা ফ্রান্সে। খেলোয়াড় হিসেবে খেলেছেন ফ্রান্সেরই বিভিন্ন ক্লাবে। তবে ৪৭ বছর বয়সি ওয়ালিদ রেগরাগুইয়ের পূর্বপুরুষের বাড়ি মরক্কোতে। ভাগ্যের ফেরে তাই ২০১২ সালে মরক্কোকে ফেরেন তিনি। বাপ-দাদার দেশে ফিরে প্রথমে তিনি ফুটবল এজেন্ট হিসেবে কাজ শুরু করেন। তার দায়িত্ব ছিল ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জন্ম নেওয়া ও খেলা মরক্কান বংশোদ্ভূত প্রতিভাবান ফুটবলারদের খুঁজে বের করে তাদেরকে মরক্কো জাতীয় দলের হয়ে খেলতে উদ্বুদ্ধ করা! এই কাজে অবিশ্বাস্য সফল রেগরাগুই। এই কাতার বিশ্বকাপে মরক্কো ‘রূপকথা’ তৈরি করছে, তার মূলে বিদেশে জন্ম নেওয়া প্রতিভাবান ফুটবলারদের জাতীয় দলে জায়গা দেওয়া। মরক্কোর ২৬ সদস্যের দলের ১৪ জনের জন্মই বিদেশে। কারো জন্ম-বেড়ে ওঠা স্পেন, কারো নেদারল্যান্ডসে, কারো বেলজিয়ামে, কারো কানাডায়, কারো বা ফ্রান্সে।
যাদের বেশির ভাগই খুঁজে বের করেছেন ওয়ালিদ রেগরাগুই! কাকতালীয় হলো, এই কাজ অবিশ্বাস্য সফল রেগরাগুই গত আগস্টে হুট করে মরক্কো জাতীয় দলের কোচের দায়িত্বও পেয়ে যান। হুট করেই গত আগস্টে আগের কোচ ভাহিদ হালিহোদজিককে সরিয়ে তার স্থলাভিষিক্ত করেন রেগরাগুইকে। দলকে নিয়ে ঘষা-মাজা করার সময় না পেলেও সেই রেগরাগুই দলকে নিয়ে কাতারে উপহার দিচ্ছেন একের পর এক বিস্ময়। আজ জন্মভূমি ফ্রান্সের বিপক্ষেও কি সেই চমক অব্যাহত রাখবেন তারা ?


