

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে সরকারি সেবাখাতে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে এবার অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ সময় সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে নগদ ৬ লাখ ৪২ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যার সাতটার দিকে চকরিয়া সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে এ অভিযান শুরু রাত্রে সাব রেজিস্ট্রার নাহিদুজ্জামান সহ দুই কর্মকর্তা কর্মচারীকে গ্রেফতার থানাহাজতে প্রেরণ করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন সাব রেজিস্ট্রার নাহিদুজ্জামান নাটোর জেলার গুরুদাশপুর উপজেলা গুরুদাশপুর এলাকার মো. মোজাম্মেল হকের পুত্র, অফিস মোহরাব দুর্জয় কান্তি পাল কক্সবাজার সদরের খুরুশ্কুলের মধুরামের পুত্র এবং পলাতক অফিস সহকারী শ্যামল বড়ুয়া কক্সবাজার শহরের মোহাজের পাড়া দীনবন্ধুর পুত্র।
অভিযানের বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে নিশ্চিত করেছেন দুদক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রিয়াজ উদ্দিন। দুদকের অভিযান টিমের সদস্যরা বলেছেন, চকরিয়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে জমির দলিল সম্পাদনের ক্ষেত্রে ঘুষের লেনদেন হয়ে আসছে। এই ধরণের কিছু অভিযোগ দুদকে জমা পড়ে। এমনকি সম্প্রতি সময়ে চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা রশিদ আহমদ নামের এক ব্যক্তির জমির দলিল রেজিস্ট্রেশনের জন্য উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার নাম ব্যবহার করে এক কর্মচারী মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করেন।
জানা যায়, ভুক্তভোগীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) সকাল থেকে ছদ্মবেশে দুদক কর্মকর্তারা চকরিয়া উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে অবস্থান নেন। এসময় ভুক্তভোগী রশিদ আহমদ নামের ওই ব্যক্তির মাধ্যমে দুদক কর্মকর্তারা কৌশলে দলিল রেজিস্ট্রেশন বাবত অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ঘুষ দাবির বিষয়টি যাছাই করেন। এরপরই রাত আনুমানিক সাতটার দিকে চকরিয়া থানা পুলিশের সহায়তায় চকরিয়া উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে অভিযানে নামেন দুদক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের একটি টিম। এ সময় সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের অফিস সহকারি শ্যামল ও মোহরার দুর্জয়ের হেজাফত থেকে দুদক টিম সারাদিনের (বৃহস্পতিবারের) ৬ লাখ ৪২,১০০ টাকা জব্দ করেন।
অভিযানে নেতৃত্বে দেয়া দুদক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, চকরিয়া সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে অভিযান চালিয়ে ঘুষের ৬ লাখ ৪২,১০০ টাকা জব্দ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাকের মো. জুবায়ের বলেন তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক, দুইজন গ্রেফতার ও একজন পলাতক।

