//

চুরি হওয়া সিএনজি সহ চোর চক্রের ৪ সদস্য আটক করল গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ

17 mins read

সিলেটের গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে সিএনজি অটোরিক্সা চোর চক্রের ৪ সদস্যসহ চুরি হওয়া সিএনজি উদ্ধার করা হয়।

সোমবার (২৮ নভেম্বর) গোয়াইনঘাট উপজেলা পূর্ব জাফলং ইউনিয়নর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে রাত ১২টায় লাখের পাড় গ্রাম থেকে চুরি হওয়া সিএনজি অটোরিক্সা উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশের অভিযানে আটককৃত সিএনজি অটোরিক্সা চোর চক্রের সদস্যরা হল উপজেলার নন্দীরগাঁও ইউনিয়নের আঙ্গারজুর পূর্ব পাড়া গ্রামের আব্দুল খালিকের ছেলে স্বপন মিয়া(২৮), আঙ্গারজুর মাঝপাড়া গ্রামের মৃত মখলিছ মিয়ার ছেলে জুনেদ মিয়া(২২), সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলার বাজার কান্দি গ্রামের আরাধন সূত্র ধরের ছেলে রিংকু সূত্র ধর(২৫) এবং সিলেট সদর উপজেলার এয়ারপোর্ট থানাধীন সাহেব বাজার এলাকার হেলাল মিয়ার ছেলে রাজু মিয়া(২৩)।

চুরি হওয়া সিএনজি’র মালিক নন্দীরগাঁও ইউনিয়নের নওয়াগাওঁ গ্রামের মৃত নজমুল হক চৌধুরীর ছেলে জুনেদ আহমদ চৌধুরী জানান, আমার মালিকানাধীন দুটি সিএনজি রয়েছে। সিএনজি গুলো প্রতিদিনের মতো গত ২৭ অক্টোবর বসতঘরের সামনে নিজস্ব গ্যারেজে রেখে ঘুমিয়ে পড়ি। ২৮অক্টোবর ভোরে ঘুম থেকে উঠে দেখতে পাই আমার একটি সিএনজি চুরি হয়ে যায়। আমি সাথে সাথে সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করি। এরপর থেকে বিভিন্ন স্থানে সিএনজিটি অনেক খোজাখুজি করি। চুরি হওয়ার ১০/১২ দিন পরে আমার চুরি হওয়া সিএনজির পূর্বের চালক জুনেদ আমাকে জানায় যে, সিলেট মহানগরীর খাসদবির এলাকার একজন লোক মোবাইল ফোনে ২ লাখ টাকা দাবি করে সিএনজিটি ফেরত দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে। জুনেদের কথা মতে আমি সিএনজিটি উদ্ধারের জন্য ১ লাখ টাকা নিয়ে সিলেট শহরতলীর মালিনীছড়া চা-বাগান এলাকায় যাই। টাকা নিয়ে আমি মালিনীছড়া চা-বাগানে অবস্থানের ১০/১২ বছর বয়সী দুটি শিশু আমার কাছে টাকা নেওয়ার জন্য আসে। আমি ছোট ওই দুই শিশুর নিকট টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে সিএনজি চুর চক্রের সদস্যরা সিএনজি ফেরত দেবেনা জানায়। পরে আমি বাধ্য হয়ে শিশুদের কাছে ১লক্ষ টাকা দেই। টাকা নেওয়ার পর তারা সিএনজি ফেরত না দিয়ে আরও ১ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে আমি আবারও বিভিন্ন স্থানে খোজাখুজির পর সিএনজিটি না পেয়ে ২৮ অক্টোবর জুনেদকে প্রধান আসামি করে গোয়াইনঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। অভিযোগের ভিত্তিতে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ আমার চুরি হওয়া সিএনজি উদ্ধার করেছে। আমি গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের কাছে চিরকৃতজ্ঞ।

গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম নজরুল ইসলাম বলেন, গত অক্টোবর মাসে সালুটিকর থেকে সিএনজি চুরি হয়। চুরি হওয়া সিএনজির মালিক জুনেদ আহমদ চৌধুরী সিএনজি চালক জুনেদকে আসামী করে গোয়াইনঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটি মামলা হিসাবে রেকর্ড করে আসামি জুনেদকে গ্রেফতার করি। জুনেদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিত্বে আমার নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে সোমবার দিবাগত রাত ১২ টায় জাফলং ইউনিয়নের লাখের পাড় থেকে সিএনজি উদ্ধার সহ চোর চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

English version