////

তুচ্ছ ঘটনার জেরে ছাতকে দুই পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া: মধ্যস্থকারীসহ আহত ১০

23 mins read

সুনামগঞ্জের ছাতকে দুই এসএসসি পরিক্ষার্থী ছাত্রদের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ কলেজ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আধা ঘন্টাব্যাপী ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় মধ্যস্থকারী, পথচারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০জন ব্যক্তি আহত হয়েছে।

জানা যায়, মঙ্গলবার উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ- সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের আয়াজুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ে অন্যান্য দিনের ন্যায় রুটিন মোতাবেক এসএসসি পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরিক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে বুড়াইরগাঁও এলাকায় পৌঁছামাত্র দুই পরিক্ষার্থী ছাত্রের মধ্যে পূর্ব বিরোধ নিয়ে বাক-বিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে তারা হাতাহাতি করে। প্রথম দফা হাতাহাতি শেষে পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে তারা গোবিন্দগঞ্জে ফেরার পর দুই ছাত্রসহ তাদের পক্ষের লোকজনরা ফের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া করে।

এসময় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত তারা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে বাধ্য হন। পথচারিরা এসময় দ্বিকবিদিক ছুটাছুটি করে নিরাপদ আশ্রয় খোঁজতে থাকেন। পয়েন্ট এলাকা থেকে সব ধরণের যানবাহন চালকরাও নিরাপদ আশ্রয়ে নিতে দেখা গেছে। সিলেট-সুনামগঞ্জ ও ছাতক সড়কে প্রায় আধঘন্টা সব ধরণের যানচলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।

আধা ঘন্টাব্যাপী ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা থামাতে গিয়ে মধ্যস্থকারী, পথচারীসহ দুই পক্ষের অন্তত ১০ ব্যক্তি আহত হয়েছে। মধ্যস্থকারী সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাকিম আহমদকে ছাতক স্বাস্থ্য কপ্লেক্সে ও পারভেজ নামের এক এসএসসি পরিক্ষার্থীকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্য আহতদের স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

খবর পেয়ে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান, থানার উপ-পরিদর্শক মহিন উদ্দিনসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ইট পাটকেল ছাড়াও দুই পক্ষের লোকজনের হাতে রামদাসহ ধারালো অস্ত্র দেখা গেছে।

আহত গোবিন্দনগর গ্রামের আশরাফ আলীর পুত্র ও গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগের এসএসসি পরিক্ষার্থী মারুফ আহমদ বলেন, মঙ্গলবার সকালে কেন্দ্রে পরিক্ষা দেয়ার জন্য গেলে তকিপুর গ্রামের জনৈকের পুত্র ও এসএসসি পরিক্ষার্থী আজিজ এবং তার সাথে থাকা অন্যরা তাকে গতকাল সোমবারে কেনো সে তাকে গালাগালি করেছিলো এ বিষয়ে জানতে চায়। পরে সে কাউকে গালাগাল করেনি বলে জানিয়ে পরিক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করে। পরিক্ষা দিয়ে সহপাঠী আল আমিনকে সাথে নিয়ে বের হয়ে অটো-রিকশা যোগে বাড়ি ফিরার পথে আজিজসহ গংরা তাকে গতিরোধ করে মারধর করে।

পরে অন্য অটো রিকশা যোগে গোবিন্দগঞ্জ কলেজ এলাকায় পৌঁছার পর তার স্কুলের শিক্ষক ফজলুল করিম বকুল তাকে নিরাপদে নিয়ে যান। এদিকে, আজিজের সাথে যোগাযোগ করে তার বক্তব্য পাওয়া যায় নি।

মধ্যস্থতা করতে গিয়ে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাকিম আহমেদ রায়হান বলেন, এসএসসি পরিক্ষার্থী গোবিন্দনগর গ্রামের মারুফ ও পুরানবাজার মাধবপুরের নাহিদের মধ্যে মারামারি হয়েছে। বুড়াইরগাঁও এলাকায় প্রথম দফা ও দ্বিতীয় দফা ঘটনা ঘটেছে গোবিন্দগঞ্জ কলেজ এলাকায়। এমন খবর পেয়ে তিনি মধ্যস্থতা করতে গিয়েছিলেন কলেজ এলাকায়। এসময় গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ফজলুল করিম বকুল আহত মারুফকে সাথে নিয়ে স্কুলে যাচ্ছিলেন। আমাকেও স্কুলে যাওয়ার জন্য তিনি বলায় আমিও তার পিছনে যাচ্ছিলাম। কিন্তু আল্লাহু চত্ত্বর এলাকায় পৌঁছার আগেই চিহৃত অস্ত্রধারিরা হঠাৎ তার উপর অতর্কিত ভাবে হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত করে। তার হাত, পা ও মাথাসহ শরিরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত রয়েছে।

ছাতক থানার উপ-পরিদর্শক, গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের বিট অফিসার মুহিন উদ্দিন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেছে। মূলত তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাহিদ ও মারুফ নামের দুই এসএসসি পরিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি এবং পরে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

English version