//////

ধর্মপাশার ধানকুনিয়া জলমহালে জেলেদের খলাঘরে ডাকাতির মামলায় ১১ জন আসামি গ্রেপ্তার

19 mins read

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের ধানকুনিয়া জলমহালের পাড়ে থাকা জেলেদের খলাঘরে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে উপজেলার কংস সেতুর উত্তর পাশের সড়ক থেকে রোববার (৬আগস্ট) বেলা পৌনে দুইটার দিকে ১১জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে ধর্মপাশা থানা পুলিশ।

১১জনের মধ্যে এক জনের বাড়ি পাশের জামালগঞ্জ উপজেলায় এবং অপর ১০জন আসামির বাড়ি ধর্মপাশা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।

ধর্মপাশা থানা পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৪মার্চ দিবাগত রাতে উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের ধানকুনিয়া জলমহালের পাড়ে থাকা জেলেদের খলাঘরে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতেরা সেখানে থাকা লোকজনদেরকে মারধর করে ১২ টি গরু,পাঁচ বস্তা শুটকি, সাতটি মোবাইল ফোন, একটি সৌর বিদ্যুতের ব্যাটারি ও নগদ এক লাখ ২৪ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এ নিয়ে ২৬ মার্চ রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার ফান্দাউক গ্রামের বাসিন্দা জেলে সর্দার বাদল দাস (৪০) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জনকে আসামি করে ধর্মপাশা থানায় ডাকাতির একটি মামলা করেন।

মামলার ৬জন আসামিকে ইতিপূর্বে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ৬জন আসামির মধ্যে ৪জন আসামি ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দী দেন।

কীভাবে ডাকাতির ঘটনাটি ঘটেছে এমনকি কারা কারা ডাকাতির ঘটনায় জড়িত তা আদালতকে তাঁরা অবগত করেন।  ৪জনের জবানবন্দীতে বেরিয়ে আসা ডাকাতির ঘটনায় জড়িত এই ১১ জন আসামি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন।

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার মোহনগঞ্জ বাজারে রবিবার বেলা সোয়া একটার দিকে বিভিন্ন এলাকায় পালিয়ে থাকা ১১জন আসামি এসে সমবেত হন। তাঁরা সেখান থেকে অটোরিকশা যোগে নিজ নিজ বাড়িতে যাওয়ার জন্য ধর্মপাশার বাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে উপজেলা সদরের কংস সেতুর উত্তরপাশের সড়ক থেকে বেলা পৌনে দুইটার দিকে ১১জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তারকৃতরা আসামিরা হল ধর্মপাশা উপজেলার নূরপুর গ্রামের বাচ্ছু মিয়ার ছেলে মো. মোশারফ মিয়া(৪০), রংপুর গ্রামের শাহজাহান মিয়ার ছেলে আল মোজাহিদ(১৯), একই গ্রামের মো. মিছিল মিয়ার ছেলে মো. মুসলিম মিয়া(২১), রাজাপুর গাজীনগর গ্রামের হিরন মিয়ার ছেলে রোকন মিয়া(৩৫), রাজাপুর দক্ষিণহাটি গ্রামের আয়েদ মিয়ার ছেলে মো. আদিল(২৬), একই গ্রামের আয়েদ আলীর ছেলে মো. কফিল উদ্দিন (১৯), সুজাত মিয়ার ছেলে মো. শাহাব উদ্দিন(৩০), উছমান গণির ছেলে মাহতাব(২৮), লাছাক্কু মিয়ার ছেলে মো. জিটু (৩৭), নূরুল হক মিয়ার ছেলে আলী আজগর(২৩) ও জামালগঞ্জ উপজেলার গজারিয়া গ্রামের মো. একরাম হোসেনের ছেলে মো. মোকাজ্জল (৩২)।

ধর্মপাশা থানার এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আমিনুর রহমান বলেন, উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের ধানকুনিয়া জলমহালে জেলেদের খলাঘরে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকায় এই ১১জন আসামিকে রবিবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে উপজেলা সদরের কংস সেতুর উত্তর পাশের সড়ক থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলায় ইতিপূর্বে আরও ৬জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা সবাই কারাগারে রয়েছেন। এ ছাড়া মামলার সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই ১২টি গরু, দুটি মোবাইল ফোন ও দেড়কেজি শুটকি মাছ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তারকৃত ১১জনই আসামিই ডাকাতির ঘটনায় জড়িত রয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন। তাঁদেরকে আদালতে পাঠানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

English version