

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বৌলাম গ্রামে পারিবারিক জমির ভাগভাটোয়ারা কে কেন্দ্র করে ওই গ্রামের বাসিন্দা ফাতেমা আক্তার(৮০) নামের এক বৃদ্ধা নারীকে এলোপাতাড়ি মারধর ও দা দিয়ে ডান হাতে কোপ মেরে আহত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেল চারটার দিকে উপজেলার বৌলাম গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আহত ওই বৃদ্ধাকে ওইদিন সন্ধ্যায় পাশ্ববর্তী নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই বৃদ্ধার ছেলে শাকিন শাহ্(৩৪) বাদী হয়ে একই গ্রামের বাসিন্দা ভাতিজা আল আমিন(৩৮)সহ তিনজনকে আসামি করে ওইদিন রাতেই থানায় একটি মামলা করেছেন।
ধর্মপাশা থানায় দেওয়া মামলার এজাহার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বৌলাম গ্রামের বাসিন্দা ফাতেমা আক্তার ও আল আমিন(৩৮) সম্পর্কে আপন দাদি- নাতি। আল আমিন ওই ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক জমি ভাগভাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।
বুধবার বিকেল চারটার দিকে ওই বৃদ্ধার বাড়ির উঠানে গিয়ে আল আমিন ও তার স্ত্রী রেশমা আক্তার(২৮) এবং বোন মুনিয়া আক্তার(৩৫) গালমন্দ শুরু করেন। এতে ওই বৃদ্ধা প্রতিবাদ করা মাত্রই তাঁরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওই বৃদ্ধাকে মারধর ও দা দিয়ে তার ডান হাতে কোপ মারলে তিনি গুরুতর আহত হন। ওইদিন সন্ধ্যায় নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আহত অবস্থায় ওই বৃদ্ধাকে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ওইদিন রাত ১০টার দিকে আল আমিনকে ধর্মপাশা সদর বাজার থেকে আটক করে পুলিশ। পরে ওইদিন গভীর রাতে দায়ের করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মামলার বাদী শাকিন শাহ্ বলেন, একটি কুচক্রী মহলের প্ররোচনায় পড়ে আমাদের আপন ভাতিজা আল আমিন দীর্ঘদিন ধরে আমাদের মা,ভাইবোনসহ সবার সঙ্গে অসদাচরণ করে আসছে। আমার মাকে মারধর করে আহত করায় আমরা এ নিয়ে থানায় মামলা করেছি।
সাবেক ইউপি সদস্য আল আমিন দাবি করেন, তিনি ওইদিন বিকেলে বাড়ি ছিলেন না। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর ওপর মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।
ধর্মপাশা থানার ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন,পূর্ব বিরোধের জের ধরে এই ঘটনা ঘটেছে। মামলার প্রধান আসামি আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা ও ঘটনার তদন্ত চলছে।


