

পাওনা ৫হাজার টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ধর্মপাশা সদর বাজারের ধর্মপাশা সরকারি কলেজ রোড এলাকায় থাকা তিনটি দোকান পাটে হামলা, ভাঙচুর ও শুভ সিংহ(২৮), অমর সিংহ ৪৮), গোবিন্দ সিংহ(২৪) ও অপু সিংহ(২৭) নামের চারজন ব্যবসায়ীকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৮ডিসেম্বর) বিকেল চারটার দিকে এই ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে তিনজনকে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং অপরজন সাময়িক চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে উপজেলার সদরের ধর্মপাশা সরকারি কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা তাহসিনুল হক ওরফে রাফি (২২)কে ঘটনার পর পরই ঘটনাস্থল থেকে আটক করেছে পুলিশ।
ধর্মপাশা থানা পুলিশ ও বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা জানা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের ধর্মপাশা সরকারি কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা নূরুল হক (৫৫) একই ইউনিয়নের কামলাবাজ গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী গোবিন্দ সিংহের(২৪) কাছ থেকে প্রায় ছয়মাস আগে ৩০হাজার টাকার ইটের সুরকি ক্রয় করেন। কিন্তু নূরুল হক এই টাকাগুলো নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ না করে সময়ক্ষেপন করে টাকাগুলো কিস্তি করে পরিশোধ করলেও তাঁর কাছে ৫হাজার টাকা পাওনা রয়ে যায়। বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার দিকে ধর্মপাশা সরকারি কলেজ রোড এলাকায় গোবিন্দ সিংহের মনোহারী দোকানের সামনে নূরুল হককে পেয়ে গোবিন্দ সিংহের পাওনা পাঁচ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য তাঁকে তাগিদ দেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে নুরুল হকের নেতৃত্বে লাঠিসোটা নিয়ে তাঁর লোকজন ধর্মপাশা সরকারি কলেজ রোড এলাকায় থাকা গোবিন্দ সিংহের মনোহারী দোকান, অমর সিংহ ও অপু সিংহের সার ও বীজ ধানের দোকান, শুভ সিংহের কম্পিউটার দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও ওই চারজন ব্যবসায়ীকে মারধর করে আহত করেন। এদের মধ্যে গোবিন্দ, অমর ও শুভকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহত অপরজন সাময়িক চিকিৎসা নিয়েছেন।
উপজেলা সদরের ধর্মপাশা সরকারি কলেজ রোড এলাকার ব্যবসায়ী গোবিন্দ সিংহ বলেন, নূরুল হকের কাছে ইটের সুরকি বাবদ আমার ৩০হাজার টাকা পাওনা ছিল। কিন্ত সময় ক্ষেপন করে টাকাগুলো কিস্তিতে ৫হাজার ৭হাজার করে পরিশোধ করলেও তাঁর কাছে ৫হাজার টাকা পাওনা রয়ে যায়। আমি পাওনা টাকা চাওয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর লোকজন নিয়ে আমার ও আমার চাচাতো ভাইদের দোকানো হামলা,ভাঙচুর ও লুট করাসহ আমাদেরকে মারধর করে আহত করেছেন। ঘটনাটি থানার ওসি স্যারকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হবে।
ধর্মপাশা সরকারি কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা নূরুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনটি বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে সাংবাদিকদের বলেন, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঘটনার পর পরই ঘটনাস্থল থেকে রাফি নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। এ নিয়ে লিখিত কোনো অভিযোগ এখেনো আমি পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


