//

নবীগঞ্জে প্রতিপক্ষকে ফাসাঁতেই স্ত্রীকে হত্যা করে স্বামী ঝারু মিয়া

19 mins read

নবীগঞ্জে পুর্ব বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষ মামা শেখ বাদশা মিয়া ও লন্ডন প্রবাসী সালেহ আহমদগংদের ফাসাঁনোর জন্যই নিজের ঘুমন্ত স্ত্রী তহুরা বিবি (৫৫)কে গলা কেটে হত্যা করেন স্বামী ঝারু মিয়া। ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ঘাতক স্বামী ঝারু মিয়া। শুক্রবার রাতে নিহতের ১ম সংসারের ছেলে আল আমিন বাদী হয়ে সৎ পিতা ঝারু মিয়াকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। শনিবার সকালে ধৃত ঝারু মিয়াকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করলে তিনি বিজ্ঞ বিচারকের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, তহুরা বিবি নবীগঞ্জ পৌর এলাকার চরগাঁও গ্রামের ঝারু মিয়ার স্ত্রী। তহুরা বিবির স্বামী ঝারু মিয়া তার মামা শেখ বাদশা মিয়ার সাথে প্রায় দুই মাস পুর্বে জমিজমা নিয়ে ও পারিবারিক বিরোধ দেখা দেয়। তৎকালীন সময় পৌর মেয়র ছাবির আহমদ চৌধুরী বিষয়টি শালিসের মাধ্যমে সমাধান করে দেন। উক্ত সমাধানে ঝারু মিয়া অসন্তুষ্ট ছিলেন বলে একাধিক সুত্রে জানাগেছে। সেই থেকেই ঝারু মিয়া তার মামা শেখ বাদশা মিয়া ও লন্ডন প্রবাসী সালেহ আহমদ গংদের ফাসাঁনোর জন্য পরিকল্পনা করে। বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টা থেকে ভোর ৫ টার মধ্যে কোন এক সময় ঝারু মিয়া তার ঘুমন্ত স্ত্রী তহুরা বিবিকে দা দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন। ঘাতক ঝারু মিয়া চরগাঁও গ্রামের মরম আলীর ছেলে। বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজ শেষে ঝারু মিয়া নবীগঞ্জ থানায় উপস্থিত হয়ে ডিউটি অফিসারকে জানান, ফজরের নামাজ শেষে বাড়ি ফিরে তার স্ত্রীকে গলা কাটা অবস্থায় পান। খবর পেয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ডালিম আহমেদসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য হবিগঞ্জ মর্গে প্রেরণ করেন। এ সময় সন্দেহজনক আচরণে ঝারু মিয়া ও তার দু’পুত্রকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার এসএম মুরাদ আলি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৈলেন চাকমা, নবীগঞ্জ-বাহুবল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবুল খয়ের চৌধুরী। পুলিশ সুপার দীর্ঘ সময় থানায় অবস্থান করে স্বামী ঝারু মিয়াকে নিবিড়ভাবে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এক পর্যায়ে রাতেই স্বামী ঝারু মিয়া প্রতিপক্ষকে ফাসাঁনোর জন্য নিজের স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা স্বীকার করেন। এ ব্যাপারে রাতেই নিহত তহুরা বিবির ১ম সংসারের ছেলে আল আমিন বাদী হয়ে স্বামী ঝারু মিয়াকে আসামী করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওসি অপারেশন আব্দুল কাইয়ুম ঝারু মিয়াকে আদালতে নিয়ে গেলে ঝারু মিয়া বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দি প্রদান করেন। প্রায় ৮ ঘন্টার মধ্যেই চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটিত করলো পুলিশ। ফলে রক্ষা পেলেন নিরাপরাধ শেখ বাদশা মিয়া ও লন্ডন প্রবাসী সালেহ আহমদগংরা। এদিকে ঝারু মিয়া নিহত তহুরা বিবির ২য় স্বামী। তার আগের সংসারে আল আমিন নামের অপর জন মামলার বাদি। ১ম স্বামী মৃত্যুর পর ২য় বিয়ে হয় ঝারু মিয়ার সাথে।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ডালিম আহমেদ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ মর্গে প্রেরণ করা হয়। এবং অল্প সময়ের মধ্যেই হবিগঞ্জের সুযোগ্য পুলিশ সুপার এসএম মুরাদ আলি স্যারের নেতৃত্বে ও দক্ষতায় লোমহর্ষক হত্যার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

English version