
ধর্মপাশা ও মধ্যনগরে অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দকৃত নয়টি বীর নিবাস নির্মাণ কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না করার প্রতিবাদে মানববন্ধন পালিত ।
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় নয়টি বীর নিবাস নির্মাণ কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না করার প্রতিবাদে ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদের সামনের সড়কে গতকাল বুধবার (৩০আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের ব্যানারে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদির, জহুর আলী, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ মুরাদ, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের ধর্মপাশা উপজেলা শাখার সভাপতি শরফরাজ আহমেদ খান পাঠান, সাধারণ সম্পাদক মোশারফ তালুকদার প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ধর্মপাশা ও মধনগর উপজেলায় এই নয়টি বীর নিবাস নির্মাণ কাজগুলো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জব্বার বিল্ডার্স নামের হলেও বাস্তবে এই বীর নিবাস নির্মাণ কাজের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন সুনামগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের আপন ছোট ভাই ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রোকন। এ অবস্থায় বীর নিবাস নির্মাণ কাজ কাজ করা নিয়ে তালবাহানা করা হচেছ। এই নয়টি বীর নিবাসের গড়ে ৬০থেকে ৬৫ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী ১৫দিনের মধ্যে বীর নিবাস কাজ সম্পন্ন করা না হলে এ নিয়ে কঠিন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। মানববন্ধন শেষে ইউএনওর কার্যালয়ে এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
ধর্মপাশা উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জানা গেছে,মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ধর্মপাশা উপজেলার কামলাবাজ, মির্জাপুর, মুদাহরপুর,মেউহারি ও মধ্যনগর উপজেলার রৌহা, কালাগড়, বুড়িপত্তন, সুলেমানপুর এই আটটি গ্রামে অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নয়টি বীর নিবাস নির্মাণ কাজের জন্য দরপত্রের মাধ্যমে এক কোটি ২০লাখ ৯২হাজার ৫৫৯টাকা ব্যয়ে এই কাজটি পায় মেসার্স জব্বার বিল্ডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানটির ঠিকাদার মঞ্জুরুল হক সুজন। গত বছরের ২৮ফেব্রুয়ারির মধ্যে এসব বীর নিবাস নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের সাতমাস পরও কাজ শেষ না হওয়ায় তৎকালীন ইউএনও মুনতাসির হাসান ওই বছরের ১৮ অক্টোবর এই বীর নিবাস নির্মাণ কাজের ঠিকাদারের কার্যাদেশ ও চুক্তিনামা বাতিল এবং জামানত বাজেয়াপ্ত করেন। ঠিকাদার এই সিদ্ধান্তের বিপরীতে উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন। উচ্চ আদালত চলতি বছরের ১৬মার্চ থেকে আগামি তিনমাসের জন্য উক্ত সিদ্ধান্তের কার্যক্রম স্থগিত করেন। উচ্চ আদালত থেকে আসা স্থগিতাদেশের মেয়াদ বেশ আগেই শেষ হলেও এখনো এসব বীর নিবাস নির্মাণ কাজ ঝুলে রয়েছে।
মেসার্স জব্বার বিল্ডার্সের ঠিকাদার মঞ্জুরুল হক সুজন বলেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রোকন সাহেব আমার পূর্ব পরিচিত। নয়টি বীর নিবাস নির্মাণ কাজ বাবদ আমাকে উপজেলা চেয়ারম্যান এক লাখ টাকা দিয়েছেন। তিনি নিজ দায়িত্বে এই কাজগুলো লোকজন নিয়োজিত করে করাবেন বলে আমার কাছ থেকে চেয়ে নিয়েছেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বীর নিবাস নির্মাণ কাজগুলো শেষ না হওয়ায় ব্যক্তিগতভাবে আমার ও আমার প্রাতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে। এতে আমি নিজেও লজ্জিত।
ধর্মপাশা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মধ্যনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবদুল মোত্তালেব সরকার বলেন, এই নয়টি বীর নিবাসের মধ্যে ছয়টি বীর নিবাসের ৯০ভাগ কাজ শেষ হয়েছে এবং বাকি তিনটির ৪০ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। যে টুকু কাজ হয়েছে তার চেয়ে বিল বেশি দেওয়া হয়নি। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রতন বলেন, বীর নিবাস নির্মাণ কাজে আমার কোনো ধরণের সম্পৃক্ততা নেই। আমাকে এই কাজে জড়িয়ে এলাকায় আমার সুনাম নষ্ট করার জন একটি মহল মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে আসছে।
ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) শীতেষ চন্দ্র সরকার বলেন, ঠিকাদার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই নয়টি বীর নিবাস নির্মাণ কাজ শেষ না করায় ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল ও জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। পরে ঠিকাদার উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন করে তা তিনমাসের জন্য স্থগিত করেন। এই সময়সীমা বেশ আগেই শেষ হয়ে গেছে। নিয়ম অনুযায়ী, এ নিয়ে উপজেলা প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তাই বহাল থাকার কথা। স্মারকলিপি পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


