//

পিআইসির সভাপতির অব্যাহতি, নতুন পিআইসি গঠন, ১০দিন বন্ধ থাকার পর ফের বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু

25 mins read

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের চন্দ্র সোনার থাল হাওরের ৯২নং প্রকল্পের বাঁধ নির্মাণ কাজটি ১০দিন বন্ধ থাকার পর গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে ফের বাঁধ নির্মাণ কাজটি শুরু হয়েছে। আবাদকৃত বোরো ফসলি জমির বিনষ্ট করে বাঁধটি নির্মাণ কাজটি করায় স্থানীয় জিয়াউর রহমান (৩০) নামের এক কৃষকের বাধায় এই বাঁধ নির্মাণ কাজটি এতদিন বন্ধ ছিল। বাঁধের প্রকল্প কাজটি শুরু হওয়ায় এ নিয়ে এলাকার কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। ওই প্রকল্পের নতুন পিআইসি কমিটি এই বাঁধ নির্মাণ কাজটি শুরু করেছেন।

উপজেলা প্রশাসন, পাউবোর ধর্মপাশা কার্যালয় ও এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের চন্দ্র সোনার থাল হাওরটি সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে রয়েছে।

হাওরের আওতায় কৃষকদের দুই হাজার ১৭৫ হেক্টর বোরো জমি রয়েছে। গত বছরের ৪ এপ্রিল উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে ওই হাওরের ডোবাইল ফসলরক্ষা বাঁধটি ভেঙে যায়। ডোবাইল হাওরের ১৮৫ হেক্টর বোরো জমির আধাপাকা ধান পানিতে তলিয়ে যায়। এই হাওরটির অবশিষ্ট বোরো ফসল রক্ষায় সুনামগঞ্জের সাবেক জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেনের ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায়, পাউবোর কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোকাররম হোসেনসহ এলাকার কৃষকদের মতামতের ভিত্তিতে পাউবোর অর্থায়নে ওই হাওরের হুগুলিয়া ঘাট থেকে (এলজিইডির পাকা সড়কের) একপাশ দিয়ে শুরু করে তা উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের সামনের সড়ক পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার বিকল্প বাঁধ নির্মাণ করা হয়।

এতে করে ওই হাওরের অবশিষ্ট বোরো ফসল ফসলডুবির হাত থেকে রক্ষা পায়। এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের রাজাপুর গাজীনগর গ্রামের সামনে থেকে ঘোড়াচক্কর ও খুশিয়াকান্দা হয়ে দৌলতপুর গ্রামের সামনের পর্যন্ত নতুন বিকল্প বাঁধ (কমপার্টমেন্টাল) নির্মাণ করার উদোগ নেয় উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটি।

এ নিয়ে সভা করে রেজুলেশনও করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে এই স্থানটিকে এবারই প্রথমবারের মতো সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবোর) ফসলরক্ষা বাঁধের আওতায় আনা হয়। এখানে তিনটি পিআইসি রয়েছে। ৯৩ ও ৯৪নং পিআইসির কাজ যথাসময়ে শুরু করা হয়। কিন্তু ৯২নং প্রকল্প কাজটির পিআইসির সভাপতি আলমগীর কবীর গত ১১ ফেব্রুয়ারি সকালে এস্কোভেটর দিয়ে ওই প্রকল্পে মাটি ফেলে বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করেন। আবাদকৃত বোরো জমির ওপর দিয়ে বাঁধ নির্মাণ কাজ করায় রাজাপুর গ্রামের কৃষক জিয়াউর রহমান (৩০) এতে বাধা দেন।

এ অবস্থায় ওই দিনই প্রকল্প কাজটি বন্ধ হয়ে যায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই প্রকল্পটির কাজ শেষ করতে না পারার ও শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ৯২নং প্রকল্পের পিআইসির সভাপতি আলমগীর কবীর গত রবিবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাছে পিআইসির সভাপতি থেকে অব্যাহতি চেয়ে লিখিত আবেদন করেন। এ অবস্থায় ওই পিআইসির কার্যাদেশ বাতিল করে নতুন পিআইসি কমিটি গঠন করা হয়। নতুন পিআইসি কমিটির সদস্যরা মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে এই প্রকল্পে বাঁধ নির্মাণ কাজটি শুরু করেছেন।

উপজেলার চন্দ্র সোনার থাল হাওরের ৯২নং পিআইসির সাবেক সভাপতি আলমগীর কবীর সাংবাদিকদের সঙ্গে মুঠোফোনে এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ।

ওই হাওরের ৯২ নম্বর পিআইসির বর্তমান সভাপতি জিয়াউর রহমান বলেন, আবাদকৃত ফসলি জমি বিনষ্ট করে জোরপূর্বক বাঁধ নির্মাণ কাজ করা হচ্ছিল। এতে বাধা দেওয়ায় এই কাজটি এতদিন বন্ধ ছিল। এলাকার কৃষকদের স্বার্থে নতুন পিআইসি কমিটির মাধ্যমে এই বাঁধের কাজটি মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে শুরু করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারি প্রকৌশলী ও ধর্মপাশা উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চন্দ্র সোনার থাল হাওরের ৯২নং প্রকল্পটির বাঁধ নির্মাণ কাজ মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শীতেষ চন্দ্র সরকার বলেন, পিআইসির সভাপতি আলমগীর কবীর শারিরীক অসুস্থতার কারণে প্রকল্প কাজটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে পারবেন না বলে অপরাগতা প্রকাশ করে তিনি সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। তাই ওই পিআইসির কার্যাদেশ বাতিল করে নতুন করে পিআইসি গঠন করে বাঁধের কাজটি শুরু করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শেষ করার জন্য আমাদের সর্বরকম প্রচেষ্ঠা অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

English version