//

বন্যায় পাসের হার কমলেও জিপিএ ৫ বৃদ্ধি পেয়েছে কোম্পানীগঞ্জে

22 mins read

বাইশের ভয়াবহ বন্যায় সিলেটের সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা সীমান্তবর্তী কোম্পানীগঞ্জ। বন্যায় যেমন মানুষের বাড়ি-ঘর, পশু-পাখি সহ সকল কিছুর ক্ষতি হয়েছে। তেমনি ভাবে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে শিক্ষার্থীদের। এর মাঝে ভয়াবহ বন্যায় ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের। পরীক্ষার সকল প্রস্তুতি নিয়ে গত ১৯ জুন পরীক্ষাকেন্দ্রে বসার কথা ছিল তাদের। কিন্তু হঠাৎ করে ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ বন্যায় তাদের সকল প্রস্তুতি ও বই খাতা ভাসিয়ে নিয়ে যায় বন্যার পানি। সরকারি নির্দেশনা বন্ধ হয় ১৯ জুন অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষা। পরবর্তীতে গত ১৫ সেপ্টেম্বর শুরু হয় এসএসসি পরীক্ষা। বন্যার ভয়াবহতার কারণে পরীক্ষার প্রস্তুতি খারাপ হয়ে যায় শিক্ষার্থীদের। গতকাল ২৮ নভেম্বর পরীক্ষা ফলাফল প্রকাশি হয়েছে। বন্যায় কারণে পাসের হার কমলেও জিপিএ বৃদ্ধি পেয়েছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়।

এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় কোম্পানীগঞ্জের গড় পাসের ৭৫ শতাংশ। গত বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৯৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। সে হিসাবে এবার মোট পাসের হার কমেছে ১৯ দশমিক ৯২ শতাংশ। এবার কোম্পানীগঞ্জে দাখিল পরীক্ষার্থীসহ জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৩১ জন শিক্ষার্থী। গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছিল ১২ জন। সে হিসাবে গত বছরের তুলনায় এবছর জিপিএ ৫ পেয়েছেন ১৯ জন বেশি শিক্ষার্থী।

পুরো উপজেলায় ২ জন দাখিল পরীক্ষার্থীসহ জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৩১ জন পরীক্ষার্থী। এর মাঝে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শহীদ স্মৃতি টুকের বাজার হাইস্কুলেরই ১৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছেন। এই স্কুলের ২৭০ জন অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর মাঝে পাস করেছেন ২০১ জন। টুকেরবাজার স্কুলের পাসের হার ৭৪ শতাংশ। যা গত বছরের তুলনায় কয়েক শতাংশ কম।

শহীদ স্মৃতি টুকের বাজার হাইস্কুলে সহকারী প্রধান শিক্ষক আনোয়ার আলী দৈনিক সিলেট মিরর কে জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর আমাদের এসএসসি ফলাফল খুব খারাপ হয়েছে। এবছর ২৭০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিলেও কৃতকার্য হয়েছে ২০১ জন শিক্ষার্থী। পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে ৬৯ জন শিক্ষার্থী। যা গত বছরের তুলনায় কয়েক গুন বেশি। তবে আমাদের স্কুলের জন্য ভালো খবর হচ্ছে গত বছরের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি জিপিএ ৫ পেয়েছে আমাদের শিক্ষার্থীরা। এবছর আমাদের স্কুল কেন্দ্রের ১৫ জন মেধাবী শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছে বলে আমরা আনন্দিত। তবে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য সমবেদনা। গত বছরের তুলনায় এবছর ফলাফল খারাপ হওয়ার পিছনের কারণ কি প্রশ্নের উত্তর তিনি প্রতিবেদকে বলেন, বন্যার কারণেই শিক্ষার্থীদের ফলাফল খারাপ হয়েছে বলে আমি মনে করি। বন্যার পরীক্ষাদের বই-খাতা, নোট সহ শিক্ষা সরঞ্জাম নষ্ট হয়েছিল এবং বন্যার ভয়াবহতায় পরীক্ষাদের মনোবল ভেঙে পড়ায় তারা পরীক্ষা ভালো ফলাফল করতে পারে নাই।

উপজেলার থানা সদরের বাসিন্দা হেকিম মিয়া সিলেট মিরর কে, আমার ছেলে পরীক্ষার জন্য খুব ভালো প্রস্তুতি নিয়েছিল। পরীক্ষার কয়েকদিন আগে ভয়াবহ বন্যার ফলে আমার ছেলের সেই প্রস্তুতি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। বন্যার কারণে তার মনোবল হারিয়ে ফেলেছিল। বন্যার পানিতে বই ও নোট নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। যার ফলে সে একটি পরীক্ষা অকৃতকার্য হয়েছে।

তেলিখাল উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক জিয়াউর রহমান সিলেট মিরর কে বলেন, এ বছর আমাদের স্কুলের ৮৩ জন শিক্ষার্থীদের ৬৭ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে পাসের হার ৮০.৭২%। যা গত বছরের ফলাফল থেকে অনেক খারাপ। গত বছর (২০২১ সালে) ৮৩ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাস করেছিল ৮১ জন। ২০২১ সালে পাসের হার ছিল ৯৭.৫৯%।

গত বছর থেকে এ বছর ফলাফল খারাপ হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন বন্যার কারণে আমাদের শিক্ষার্থীরা রীতিমতো স্কুলে ক্লাস করতে পারে নাই এবং পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ভাল না থাকায় এ বছর ফলাফল খারাপ হয়েছে বলে আমি মনে করছি।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্টরাও সিলেট মিরর কে একই কথা জানান। উনারা বলেন, গত বছরের তুলনায় এবছর পাসের হার কম হলেও জিপিএ ৫ বৃদ্ধি পেয়েছে অনেক।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

English version