

সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পরেও রংপুরে বিএনপির গণসমাবেশ স্লোগান–মিছিলে জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, পুলিশের গুলিতে ৫ নেতা–কর্মী নিহতের প্রতিবাদে রংপুর বিভাগীয় গণসমাবেশের আগে পরিবহন ধর্মঘট ডাকায় সারাদেশের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল রংপুর। কিন্তু অচলাবস্থা ভেঙে শেষ পর্যন্ত বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে নেতা–কর্মীদের ঢল নেমেছে।
শনিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল থেকেই রংপুর শহর পরিণত হয় মিছিলের নগরীতে। শহরের রাস্তাজুড়ে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ঢল নামে। মিছিল আর স্লোগানে মুখর পুরো শহর। এ সময় অনেকে জাতীয় পতাকা, দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে মিছিল নিয়ে আসেন সমাবেশস্থলে। কেউ কেউ নির্বাচনি প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে আসছেন সমাবেশে। মিছিলগুলোতে সরকারের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন শ্লোগানও দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে ৩৬ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট ডাকে জেলা মোটর মালিক সমিতি। নিকট দূরত্বের অধিকাংশই এসেছেন হেঁটে, আর দূরের নেতা-কর্মীরা ট্রেনের পাশাপাশি বিভিন্ন ছোট ছোট যানবাহনের মাধ্যমে আসছেন সমাবেশস্থলে।
বিএনপির নেতারা বলছেন, পূর্বের সমাবেশের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সমাবেশের ৩ দিন আগে থেকেই রংপুরে আসে উত্তরাঞ্চলের বিএনপির নেতা-কর্মীরা। শুক্রবার (২৮ অক্টোবর) রাত ৮টার পরেই কালেক্টরেট ঈদগাহ ময়দান এলাকা কানায় কানায় মানুষে পূর্ণ হয়ে যায়। রাস্তায় অবস্থান নেওয়ার জন্য অনেকে মাদুর, বালিশ ও তাবু সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। এছাড়া অনেকে সমাবেশ মাঠেই রাত্রি যাপন করেন।
তবে আশপাশের এলাকার মানুষ সমাবেশের দিন লম্বা মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে ঢুকছেন। বদরগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক আসাদুজ্জামান বলেন, ‘রংপুর থেকে কম দূরত্বের পথ হওয়ায় সমাবেশের দিনই বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মীসহ সবাই একসঙ্গে যাচ্ছি।’
রংপুর শহর থেকে প্রায় দেড়শ কিলোমিটার দূরের পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে বিএনপি নেতা তপন মাহমুদের নেতৃত্বে একশো মোটরসাইকেলের একটি বহর আসে। তিনি বলেন, ‘যানবাহন না পাওয়ায় তারা বাইকযোগেই এসেছেন এবং রাস্তায় অনেককেই চার্জার ভ্যান, অটোরিকশা ও বাইসাইকেল যোগে আসছেন।’
তবে সমাবেশে আসতে নেতা-কর্মীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। তারা বলছেন, শনিবার রংপুরের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে লোক আসার সময় রাস্তায় পুলিশ তাদের আটকিয়ে হয়রানি করছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘সরকারের সমাবেশ বানচাল করার নীলনকশা বাস্তবায়ন করেছে মোটর মালিক সমিতি। তারা ধর্মঘট দিয়ে বিএনপি নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষদের সমাবেশে আসতে বাধাগ্রস্ত করার পরিকল্পনা করেছে। কিন্তু সকল বাধা ডিঙ্গিয়ে রংপুরে স্মরণকালের সবচাইতে বেশি মানুষের জমায়েত হয়েছে।’


