/

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ, থানায় মামলা

15 mins read

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় এক কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে মোঃ ইসমাইল (২১) নামের এক যুবক। এ বিষয়ে মঙ্গলবার সকালে ভিকটিমের মা নাছিমা আক্তার (৩৮) বাদী হয়ে থানায় ধর্ষণ মামলা করেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক সৌরভ সাহা।

ভুক্তভোগী রওনক জাহান সাদিয়া (১৫) উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের রংছাতি গ্রামের মোঃ আব্দুর রহিমের মেয়ে। সে রংছাতি দাখিল মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী। অভিযুক্ত ইসমাইল একই ইউনিয়নের হাসানাগাও গ্রামের মোঃ তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে।

মামলার এজাহার, স্হানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ইসমাইল দীর্ঘদিন ধরে রংছাতি মোড় ভিকটিমের বসতবাড়ির পাশে মনিহারি দোকানের ব্যবসা করে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই কিশোরীর সাথে সখ্যতা ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে সোমবার বিকেল ৪ ঘঠিকায় ভিকটিমের ফোনে কল করে তার দোকানে আসতে বলে। ভিকটিম তার দোকানে আসলে তার হাত দোকানে ঢুকিয়ে দরজা লাগিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এসময় স্থানীয়রা বুঝতে পেরে তাদের আটক করে। খবর পেয়ে মেম্বার মোঃ খলিল মিয়া ও মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান নাছিমা আক্তার ঘটনাস্থল পৌঁছে তাদের দোকানঘর থেকে বের করেন।

উভয়পক্ষের সাথে কথা বলার সময় ইসমাইল দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে মঙ্গলবার সকালে ভিকটিমের মা থানায় মামলা দায়ের করেন।

অভিযুক্ত ইসমাইল পলাতক থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ভিকটিমের মা আজকের পত্রিকা কে জানান, আমার মেয়েকে ফোসলিয়ে ও ফাঁদে ফেলে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে। আমার মেয়ের জীবন সকলের সামনে কলঙ্কিত করেছে। আমি তার দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

ভিকটিম জানান, আমাকে বিয়ে করবে বলে আমার সাথে কথা বলতো। বিভিন্ন অজুহাতে দেখা করার কথা বলে একাধিকবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে। লোক লজ্জার ভয়ে কাউকে কিছু বলতে পারিনি। কিন্তু সেদিন জোরপূর্বক ধর্ষণ করার সময় এলাকাবাসী সকলের সামনে ধরা পড়ে। আমার জীবন নষ্ট করে সে পালিয়েছে। তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য পুলিশ প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করেন তিনি।

৭,৮,৯ নং ওয়ার্ডের মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান নাছিমা আক্তার জানান, দোকানের ভিতর আটকিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করার সময় এলাকাবাসী অবগত হয়ে ইউপি পরিষদে জানান। পরে তিনি ও ওয়ার্ডের মেম্বার খলিল মিয়া তাদেরকে দোকান থেকে বের করেন। ফোন করে নিয়ে আসার প্রমানও পান তারা। কিন্তু অভিযুক্তের বাবার সাথে কথা বলার সময় ইসমাইল দৌড়ে পালিয়ে যায়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বিষরপাশা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক সৌরভ সাহা বলেন, অভিযুক্ত আসমি পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

English version