

আমাদের বাতেন ডাক্তার যে এতো ফুটবলপ্রেমী,তা আগে জানতাম না। চলতি বিশ্বকাপের শুরুতে নিজেকে জানান দিলেন একজন ফুটবল বোদ্ধা হিসেবে। বিশ্ব উন্মাদনায় নিজের চেম্বার সাজিয়েছেন নতুন রুপে।
মেসি, নেইমার, এমবাপ্পের মতো বিশ্বের নামি দামি খেলোয়াড়দের ছবি এখন শোভা পাচ্ছে তার চেম্বারে। হঠাৎ দেখলে মনে হবে পাড়ার কোন ফুটবল ক্লাব! খেলা দেখার জন্য চেম্বারে লাগানো হয়েছে বড় পর্দা। নিজ চেম্বারে হেলান দেওয়া চেয়ারে বসে রুমের দরজার ছোট পর্দা সরিয়ে বড় পর্দায় খেলা দেখেন ডাক্তার বাতেন। ইদানীং তার চেম্বারে রোগীর চেয়ে ক্রীড়াপ্রেমী লোকের ভিড় বেড়েছে । আর ভিড় বাড়বেই না কেন? বড় পর্দায় খেলা দেখার মজা নাকি অনেকটা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে খেলা দেখার মত। চেম্বারে খেলা দেখা নিয়ে ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে যাতে কোনো হট্টগোল না বাধে, এর জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা চেয়ারের ব্যবস্থা। প্রতিদিন কোন সময় কোনদলের খেলা তা অনেকটা নোটিশের মত সাটানো থাকে। বাতেন ডাক্তারের এহেন কর্মকান্ডে ক্রীড়াপ্রেমীরা তাকে বেশ বাহ্ বাহ্ দিচ্ছেন। তবে ডাক্তারের চেম্বারে রাত বিরাত ক্রীড়াপ্রেমীদের হৈ-হুল্লোড় সুশীল সমাজ অন্য চোখে দেখছেন। তাতে কর্ণপাত নেই ডাক্তার বাতেনের। তার মতে
প্রতি চার বছর পর একবার আসে বিশ্বকাপ , এতে যদি কিছু উন্মাদনা না করা যায়,তাহলে জীবনটা ষোল আনাই বৃথা থেকে যাবে। সম্প্রতি সময়ে খেলা দেখায় বেশ মনোযোগী হওয়ায় রোগীকে কম গুরুত্ব দিচ্ছেন বাতেন ডাক্তার। সেদিন এক রোগী সর্দি, কাশি নিয়ে তার চেম্বারে শরণাপন্ন হলে তিনি প্রেসক্রিপশনে লিখে দেন-ব্রাজিল সিরাপ ১ চামচ করে ৩ বার খাবেন। রোগী পুরো ফার্মেসি ঘুরে ব্রাজিল সিরাপের দেখা না মিললেও মহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাতেন ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ভাইরাল হয়ে যায়। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেল বাতেন ডাক্তার নাকি ব্রাজিল দলের অন্ধ সাপোর্টার। প্রেসক্রিপশনে ব্রোডিল সিরাপের নাম লিখতে ভুলবশত ব্রাজিল সিরাপ লিখে ফেলেছেন৷
রম্য গল্প লেখক : মাহবুবুর রশিদ


