//

মধ্যনগর উপজেলার ঘোড়াডোবা হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের ৯নং প্রকল্প কাজটি ৫দিন ধরে বন্ধ

19 mins read

সুনামগঞ্জের নবগঠিত মধ্যনগর উপজেলার ঘোড়াডোবা হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের ৯নং প্রকল্প কাজটি গত মঙ্গলবার থেকে বন্ধ রয়েছে। ওই হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের ৮নং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসির) সভাপতি প্রনব কুমার চৌধুরী ৯নং পিআইসির প্রকল্প কাজে বাধা দেওয়ায় এই প্রকল্প কাজটি বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া ওই হাওরের ৬নং পিআইসির সভাপতি রবীন্দ্র সরকারের নির্দেশে অ্যাক্সেভেটর দিয়ে ওই বাঁধের গোড়া থেকে মাটি তুলে সেই মাটি বাঁধে ফেলা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ না হওয়া ও বাঁধের গোঁড়া থেকে মাটি উত্তোলন করায় আগাম বন্যার পানিতে ওই বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মধ্যনগর উপজেলা প্রশাসন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মধ্যনগর উপজেলার ঘোড়াডোবা হাওরে ৯টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) রয়েছে। গত বছরের ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বাঁধের কাজ শুরু করে তা চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল।পরে তা ৭মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। উপজেলার ঘোড়াডোবা হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের ৯নং প্রকল্প কাজটির দৈর্ঘ ৮৫০ মিটার। বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।পিআইসির সভাপতি পলাশ চন্দ্র সরকার চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি এই প্রকল্প কাজটি শুরু করেন। যথারীতি বাঁধ নির্মাণ কাজ করে আসলেও পাশের ৮নং পিআইসি সভাপতি প্রণব কুমার চৌধুরী তাঁর নিজ প্রকল্প কাজে মাটি ফেলতে ড্রাম ট্রাক আনা নেওয়া করার জন্য তিনি ৯নং পিআইসির কাজটি বন্ধ করে দেন। এ অবস্থায় গত মঙ্গলবার থেকে ৯নং পিআইসির কাজটি বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া ৬নং পিআইসির সভাপতি রবীন্দ্র সরকার বাঁধের নীচের ২০ থেকে ২২ ফুট দূর থেকে অ্যাক্সেভেটর দিয়ে মাটি তুলে বাঁধ নির্মাণ কাজ করেছেন।নিয়ম অনুযায়ী, বাঁধের অন্তত ৩০মিটার দূর থেকে মাটি তুলতে হবে।

গতকাল শনিবার বেলা দুইটার দিকে উপজেলার ঘোড়াডোবা হাওরের ৯ন্য প্রকল্প কাজে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। ৮নং প্রকল্প কাজে ৮/১০জন শ্রমিক বাঁধের ওপর থাকা উঁচু নিচু মাটি সমান করার কাজ করছেন।

৯নং পিআইসির সভাপতি পলাশ চন্দ্র সরকার বলেন, আমার প্রকল্প কাজের ওপর দিয়ে মাটিভর্তি ড্রাম ট্রাক পরিবহনের কথা বলে তিনি আমার প্রকল্প কাজটিতে বাধা দেওয়ায় এই কাজটি গত মঙ্গলবার থেকে বন্ধ রেখেছি। ৮নং পিআইসির সভাপতির কারণেই আমার প্রকল্প কাজটি পিছিয়ে যাচ্ছে।বিষয়টি আমি ইউএনও স্যার ও এসও স্যার (উপসহকারি প্রকৌশলী) কে জানিয়েছি।

৮নং পিআইসির সভাপতি প্রণব কুমার চৌধুরী বলেন,আমার কারণে ৯নং পিআইসির সভাপতির কাজটি বন্ধ থাকার অভিযোগটি সঠিক নয়।

৬নং পিআইসির সভাপতি রবীন্দ্র সরকার বলেন,বাঁধের গোড়া থেকে আমি মাটি তুলিনি।এখান থেকে অন্য কেউ মাটি তুলেছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারি প্রকৌশলী সানু আহমেদ বলেন, ঘোড়াডোবা হাওরের ৯নং পিআইসির সভাপতির সঙ্গে ৮নং পিআইসির সভাপতির যে সমস্যা ছিল তা মিটমাট করে দেওয়া হয়েছে।

মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ হাসান খান বলেন, ৮নং পিআইসির সভাপতিকে ১ দিনের মধ্যে তাঁর প্রকল্প কাজে মাটি ভরাটের কাজ শেষ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। অন্যতায় তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ৯নং পিআইসির সভাপতিকে রবিবার সকাল থেকে বাঁধের প্রকল্প কাজ শুরু করে যাবতীয় কাজ ৭মার্চের মধ্যে শেষ করার জন্য বলা হয়েছে। এ ছাড়া ৬নং পিআইসির সভাপতি বাঁধের গোঁড়া থেকে গর্ত করে যে মাটি তুলেছেন তা ভরাট করে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।বাঁধের কাজে কোনোরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

English version