////

রুশদের পদচারণায় রূপপুর বদলে রুশপুর হল একটি গ্রাম

18 mins read

রূপপুর পারমাণবিকে রাশিয়ানদের পদচারনায় প্রত্যন্ত রূপপুর গ্রামে লেগেছে বিদেশি শহরের হাওয়া। যে কারণে রূপপুরকে অনেকেই এখন বলছে রুশপুর। পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কারণে বদলে গেছে ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরের প্রত্যন্ত গ্রাম।

জৈন্তাপুর প্রতিদিন ডটকম -এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন

মাত্র সেদিনের কথা, সাত সাত বছর আগে সন্ধ্যা হলেই যেখানে কালো গভীর রাতের নিকষতা-নীরবতা নেমে আসত। সেই রূপপুর এখন রাত-দিনের কর্মচঞ্চলতায় মুখর। প্রায় ৫ হাজার রূশ-বেলারুশিয়ান নাগরিকের পদচারণায় অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দেয়। পদ্মার চরের জনশূন্য জমিতে বিদেশের আদলে গড়ে উঠেছে দৃষ্টিনন্দন আবাসিক ভবন, ঝলমলে শপিংমল, রেস্টুরেন্ট, রিসোর্টসহ অসংখ্য দোকানপাট।

রূপপুরের মানুষ কখনো ভাবেনি রূশ ভাষা শিখে বিদেশিদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে হবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যে নিয়ে এসেছে অভূতপূর্ব উন্নয়ন। স্থানীয়রা যোগাযোগ, ভ্রমণ, বাণিজ্য বা সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য রূশ ভাষা শিখেছেন। রূশ সংস্কৃতির নতুন ক্ষেত্র হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে পুরো এলাকায়। দোকানের সাইনবোর্ড হতে শুরু করে মূল্য তালিকায় ইংরেজির পাশাপাশি বাংলার জায়গা নিয়েছে রূশ ভাষা।

২০১৫ সালে রূপপুর ও গ্রীণসিটির নতুন হাট এলাকায় শুধু কাঁটাতারের বেড়া আর ছিল জরাজীর্ণ কয়েকটি বন।চারিদিকে ধুলো মাখা ফাঁকা মাঠ আর দুই-একটি অস্থায়ী স্থাপনা। পাকিস্তান আমলের ভবন গুলো ছিল বিষধর সাপের অভয়ারণ্য। ঝোপ-জঙ্গলে ঢাকা একতলা বাড়ি গুলো ছিল ভয়ংকর। দিনের বেলায়ও সবাই সেখানে ঢুকার সাহস পেত না। আর সেই জায়গাটা বর্তমানে পুরোপুরি বদলে গেছে। শুধু রূপপুর নয়, পার্শ্ববর্তী পাকশী, সাহাপুর ও ঈশ্বরদীতেও লেগেছে পরিবর্তনের ছোঁয়া। বদলে গেছে জীবনযাত্রার মান। বিদেশি সংস্কৃতির ছোঁয়া লেগেছে স্থানীয়দের জন জীবনে। ফল ও সবজি বিক্রেতা থেকে শুরু করে বেশির ভাগ ব্যবসায়ী ও তাদের কর্মচারীরা রূশ ভাষা শিখেছেন।

ধুলোবালি, জরাজীর্ণ ঘরবাড়ি ও ছোট ছোট দোকানপাট এখন নেই। বাণিজ্যিক, স্কুল, সুউচ্চ ভবন, আন্তর্জাতিক মানের হোটেল-রেস্তোরাঁ, রিসোর্টে সুইমিং পুলসহ বিভিন্ন নান্দনিক কর্মকাণ্ডে ভরপুর। বাঙালির পাশাপাশি ঐ এলাকা রুশসহ বিভিন্ন ভাষায় কথা বলার লোকে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। কাঁচা বাজার গুলোতেও রূশদের ছোঁয়া লেগেছে। স্থানীয় রিক্সাচালকরাও কিছু কিছু রুশ ভাষা শিখেছেন।

নিত্য প্রয়োজনীয় কেনাকাটায় ব্যস্ত রূশ নাগরিকেরা
পদ্মা নদীর তীরে এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ চলছে। প্রকল্পে হাজার হাজার বেকার যুবকের চাকরির সুযোগ হয়েছে। ভাগ্য বদলের পাশাপাশি বদলে গেছে তাদের সামাজিক চিত্র। এছাড়াও হোটেল, রিসোর্ট, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। পাকশী, সাহাপুর, রূপপুর ও ঈশ্বরদী শহরে গড়ে উঠেছে বহু বাণিজ্যিক কেন্দ্র, আধুনিক শপিংমল, সুপারশপ, রিসোর্ট ও তারকা হোটেল। উন্নতমানের হাসপাতালও নির্মাণ করা হয়েছে।

গ্রীণসিটির সংলগ্ন প্রকল্পের সাইট অফিসের ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস জানান, প্রকল্পে প্রায় ২৫ হাজার দেশি-বিদেশি প্রকৌশলী ও শ্রমিক কাজ করছেন। এর মধ্যে রাশিয়া, বেলারুশ, ইউক্রেন ভারত সহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মী রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

English version