

নানা আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে(শাবিপ্রবি) চলছে বিদ্যাদেবী সরস্বতীর আরাধনা। হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব এটি।
বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল থেকে মণ্ডপগুলোতে পূজায় অংশ নিতে ভিড় জমান সনাতন ধর্মালম্বী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, পূজা উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চ সংলগ্ন হ্যান্ডবল গ্রাউন্ড, একাডেমিক ভবনের সামনে , চেতনা-৭১ এর সামনে, বিশ্ববিদ্যালয় সেন্টারের সামনে সরস্বতী প্রতিমা স্থাপন করা হয়। এতে ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি সিলেটের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষরা অংশ নিয়ে বিদ্যাদেবীর আরাধনা করছেন। এতে শিক্ষা, সংগীত ও শিল্পকলায় সফলতার আশায় সনাতন ধর্মালম্বী শিক্ষার্থীরা দেবীর পূজা অর্চনা করছেন।
এবার ক্যাম্পাসের ২০টির অধিক পূজা মণ্ডপে সরস্বতী প্রতিমা স্থাপন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আয়োজনে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উজ্জীবিত অন্যান্য ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরাও যোগ দিয়েছেন।
এদিকে সরস্বতী পূজা উপলক্ষে ভোরে প্রতিমা স্থাপন, সকাল সাড়ে ৯টায় পূজা শুরু , সকাল ৯টায় পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করা হয়েছে এবং দুপুর থেকে প্রসাদ বিতরণ শুরু হয়। এছাড়া পূজা উপলক্ষে প্রথমবারের মতো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে লোকপ্রশাসন বিভাগ।

লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী চৈতী দাস বলেন, এই পূজার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। এখানে কোনো ধরনের ধর্মীয় বিদ্বেষ থাকতে পারে না। এ পূজার মাধ্যমে আমরা বিদ্যাদেবীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হতে চাই, যেন আমরা বিদ্যা অর্জনে দেবী স্বরস্বতীর আদর্শ অনুসরণ করতে পারি।
পূজা দিতে আসা আরেক শিক্ষার্থী শ্রীমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় একটি সার্বজনীন স্থান। এখানে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কেউ কারো ধর্মে হস্তক্ষেপ না করার শিক্ষাই এ পূজায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। দেশের প্রতিটি মানুষ অসাম্প্রদায়িকতা, অজ্ঞানতার অন্ধকার, কূপমণ্ডূকতা আর অকল্যাণকর সব বাধা পেরিয়ে একটি উন্নত সমাজ গঠনে এগিয়ে আসবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।


