//

শিশু পার্কের বেহাল দশা

15 mins read

সিরাজগঞ্জের তাড়াশের একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র তাড়াশ শিশু পার্ক। বছরের বিশেষ দিনগুলোয় সেখানে হাজারো লোকের সমাগম ঘটে। কিন্তু এই পার্কটির উন্নয়ন কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে পার্কটিতে সৃষ্টি হয়েছে বেহাল দশার। 

জানা গেছে, তৎকালীন সংসদ সদস্য গাজী ইসহাক হোসেন তালুকদার ২০১৪ সালের ২৯ জুলাই শিশু পার্কটির উদ্বোধন করেন। নাম দেওয়া হয় তাড়াশ শিশুপার্ক। পরে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের ৫ লাখ ৩১ হাজার টাকা ব্যয়ে পার্কের সংস্কার করা হয়। এছাড়া বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. মেজবাউল করিম পার্কের পুকুরে দুই পাশে গাইড ওয়ালসহ আরও কিছু উন্নয়ন কাজ করেন।

স্থানীয়রা জানায়, তাড়াশে খেলার মত মাঠ নেই। না আছে বিনোদন কেন্দ্র। শিশু পার্কই তাদের ভরসা। বিশেষ করে, শিশুদের জন্য বাইরের নির্মল প্রাকৃতিক পরিবেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য পার্কটির উন্নয়ন কাজ পুনরায় শুরু করে তা বিনোদন উপযোগী করে গড়ে তোলা হোক।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, স্থানীয়দের পাশাপাশি প্রতিদিনই ভ্রমণপিপাসু লোকজন পার্কে ঘুরতে আসেন। অনেকে ক্লান্ত হয়ে পার্কের এক মাঠে বসে থাকেন। এদিকে পার্কটির কেয়ারটেকার দায়িত্ব পালন না করায় শিশুরা হাতি-ঘোড়ার পিঠে চড়ে বসে থাকে। এতে পার্কের মূল্যবান বিনোদন উপকরণগুলোয় ফাটল ধরেছে। ছাতাগুলোর প্লাস্টার ভেঙে ফেলেছে শিশুরা। উধাও হয়ে গেছে পার্কের প্যাডেলচালিত আনন্দতরী। পার্কের ফুলগাছগুলো মরে গেছে।

পার্কের নৈশ প্রহরী জামাল উদ্দীন বলেন, বাঁশের বেড়া দিয়ে গেট করে পার্কের সামনে (প্রবেশ পথে) রাতে চাবি দিয়ে রাখা হতো। এরই মধ্যে বাঁশের বেড়া ভেঙে গেছে। এখন যে কোনো সময়ে লোকজন ভেতরে ঢুকে পড়ে। নিষেধ করলেও মানেন না। পার্ক চত্বরের অধিকাংশ বৈদ্যুতিক বাল্ব নষ্ট। অন্ধকারে নিরাপত্তার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। পাশের বন বিভাগের জঙ্গল থেকে মাঝেমধ্যে বড় বড় সাপ বেড়িয়ে রাতে পার্কের মধ্যে চলে আসে। পার্কের শিশুদের বেশিরভাগ বিনোদন উপকরণের ক্ষতি হয়ে গেছে দেখভালের অভাবে। দিনের বেলায় কেয়ারটেকার হিসেবে যার দায়িত্ব পালন করার কথা সে মাসের মধ্যে দুই-চারদিন আসে, তাও অল্প সময়ের জন্য। ফলে পার্কটি সবসময় অরক্ষিতই থাকে।

তাড়াশ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাহেদ খান বলেন, বিভিন্ন উৎসবে স্বজনদের নিয়ে পার্কে ঘুরতে আসেন তারা। ছেলে মেয়ে পার্কের হাতি, ঘোড়া, বাঘ, হরিণ দেখে খুব আনন্দ পায়। পার্কের মুক্ত পরিবেশে ইচ্ছেমত ছুটোছুটি করে। জনস্বার্থে পার্কটির উন্নয়ন করা উচিত।

পার্কের কেয়ার টেকার আকিম হোসেন বলেন, পার্কে তেমন কাজ নেই। তাই নিয়মিত আসার প্রয়োজন হয়না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. মেজবাউল করিম বলেন, স্থানীয় নাগরিক থেকে চাহিদা দেওয়া হোক। সে মোতাবেক তাড়াশ শিশু পার্ক গড়ে তোলা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

English version