

শীতার্থ ২০০জন হতদরিদ্র ও অসহায় নারী পুরুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করলেন ধর্মপাশা থানা পুলিশ
একটা কম্বল কিনবাম হেই টেহাও নাই। অহন মেলা ঠান্ডা হরছে। সইন্ধ্যার হর হরই শীকে শইলডাত কাফনি ধইরা যায়। সরহার থাইক্যা কম্বল আইলেও আমরার ভাগ্যে একটা কম্বলও জুডে নাই। আউজগা একটা কম্বল ফাইছি। অহন শীতের কষ্ট কম অইব। কথাগুলো বলেছিলেন সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বাদশাগঞ্জ বাজারের নৈশপ্রহরীর দায়িত্বে থাকা হরমুজ আলী(৬৫)। তাঁর বাড়ি উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের বীর দক্ষিণ পূর্বপাড়া গ্রামে।
উপজেলার ধর্মপাশা সদর ইউনিয়নের ধর্মপাশা গ্রামের বাসিন্দা বিধবা রিতা রানী দাসের (৫৫) বলেন, আমার দুইডা মাইয়া আছিইন বিয়া দিয়া দিছি। স্বামী নাইগা। অহন একটা মাত্র ছেড়ার আয় দিয়া কুনুরহমে খাইয়া না খাইয়া সংসার চলতাছে। যেই শীত হরছে ঠান্ডায় খুউব কষ্ট অইতাছিল। ওসি স্যার আমারে একটা কম্বল দিছইন। এইডা ফাইয়া আমি খুউব খুশি অইছি।
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ধর্মপাশা থানা পুলিশের উদ্যোগে থানা চত্ত্বরে গতকাল শনিবার (২১জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে হতরিদ্র ও অসহায় শীতার্থ ২০০জন নারী পুরুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ শুরু করা হয় এবং বেলা দেড়টার দিকে এই কম্বল বিতরণ শেষ হয়।
ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, এই উপজেলাটি হাওরবেষ্ঠিত হওয়ায় এখানে তুলনামূলক ভাবে শীত খুব বেশি। জাতীয় ও স্থানীয় একাধিক দৈনিক পত্রিকার মাধমে জানতে পেরেছি যে কম্বলের অভাবে এখানকার শীতার্থ মানুষজন চরম কষ্টে আছেন। এই খবরটি পত্রিকায় পড়ার পর আমার মনটা খুবই খারাপ হয়ে যায়। বিবেককে খুব নাড়া দেয়। আমি আমার এক বড় ভাই ব্যাংক কর্মকর্তার কে ফোন করে তাঁর কাছ থেকে ২০০টি কম্বলের ব্যবস্থা করি। এই কম্বল গুলো বেদে সম্প্রদায়, হরিজন সম্প্রদায় ও উপজেলার বিভিন্ন বাজারের নৈশপ্রহরীসহ অসহায় ও হতদরিদ্র শীতার্থ নারী পুরুষজনদের মধ্যে বিতরণ করেছি।
আমি এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদেরও দাওয়াত দিয়েছি। গণমাধ্যমকর্মীরা এখানে উপস্থিত হওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, কম্বল বিতরণের এই খবরটি পত্রিকায় প্রকাশিত হলে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিত্তবানরা হাওর বেষ্ঠিত এই উপজেলার শীতার্থ হতদরিদ্র ওঅসহায় মানুষজনদের জন্য কম্বল নিয়ে পাশে দাঁড়াবেন।
কম্বল বিতরণে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন থানার এসআই আব্দুস সবুর, এএসআই মনির হোসেন, সিনিয়র সাংবাদিক সালেহ আহমদ, গিয়াস উদ্দিন রানা, সাংবাদিক হাফিজুর রহমান চয়ন, মিঠু মিয়া,সাদ্দাম হোসেন, শাহীন মিয়া, আবদুর নূর তুষার, সাবেক ইউপি সদস্য পাখি চন্দ্র সিংহ প্রমুখ।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) প্রজেশ চন্দ্র দাস বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে এ উপজেলায় ৬টি ইউনিয়নে অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষজনদের জন্য তিন হাজার কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছিল। তবে চাহিদার তুলনায় তা কম। ইতিমধ্যে আরও দুই লাখ টাকা কম্বল ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ পেয়েছি। এই টাকা দিয়ে কম্বল ক্রয় করে খুব শিগগিরই তা হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষজনদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
ধর্মপাশার ভারপ্রাপ্ত ইউএনও অলিদুজ্জামান সাংবাদিকদর বলেন, ধর্মপাশা থানার ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সাহেব শীতার্ত মানুষেদের মধ্যে কম্বল বিতরণ করার যে মহতী কাজটি করেছেন তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানরাও প্রয়োজনীয় শীত বস্ত্র নিয়ে শীতার্থ মানুষজনদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।


