

সিলেটের ওসমানীনগরের মোহাম্মদপুর গ্রামীণ সড়ক দখল করে বৃক্ষরোপনকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংঘর্ষের আশঙ্কায় এ ব্যাপারে গত বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন গ্রামবাসী।
জানা যায়, উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের মোহাম্মাদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের র্পাশ্ববর্তী পাকা সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসী ব্যবহার করে আসছে। সম্প্রতি সড়কের বিদ্যালয় নিকটবর্তী অংশ নিজেদের দাবি করে সুপারি গাছের চারা রোপন করেন একই গ্রামের নজরুল ইসলাম লিঙ্কন ও তার দুই ভাই। একই দাবিতে মসজিদের জায়গায় ভাসমান দোকানও নির্মাণ করেন তারা। গ্রামবাসী প্রতিবাদ জানালেও নজরুল ইসলাম লিঙ্কন গংরা দখল বহাল রাখেন। এলাকার যুব সমাজের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংঘর্ষ এড়াতে প্রতিকার চেয়ে গ্রামবাসী বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন।
শনিবার সকালে সরেজমিনে কথা হয় গ্রামের জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লি ও প্রাথমিক বিদ্যালয় কমিটির সহ সভাপতি আবদুল করিমের সাথে, তিনি জানান, সড়ক ব্যবহার করে গ্রামের শতাধিক পরিবারের লোক বিদ্যালয়, মসজিদ, কবরস্থান এবং হাওরে যাতায়াত করে থাকেন। সম্প্রতি লিঙ্কন ও তার ভাইরা সড়কটি নিজের দাবি করে দুই পাশে সুপারি চারা লাগিয়েছে। গ্রামবাসী প্রতিবাদ জানালেও তাতে কর্ণপাত করেননি লিঙ্কনরা।
স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সাদেক আলী বলেন, গ্রামবাসীর অর্থায়নে সড়কটি পাকা করা হয়েছে। সড়কটি আমরা বাপ-দাদার আমল থেকে ব্যবহার করে আসছি।
গ্রামের বাসিন্দা মকসুদ আলী বলেন, ১৯৯৬ সালে এই সড়ক নিয়ে সংঘর্ষ হয়। এরপর মামলা দায়ের হলে সেই মামলায় হাজতবাসও করেছে লিঙ্কনরা। কিন্তু আবারও ঝামেলা তৈরি করার উদ্দেশ্যে তারা রাস্তার পাশে গাছের চারা রোপন করেছে।অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম লিঙ্কন ও তার ভাই আক্তার মিয়া বলেন, আমাদের বাড়ি সীমানা থেকে বিদ্যালয় পর্যন্ত সড়কের অংশটি আমাদের নিজস্ব তাই আমরা গাছের চারা রোপন করেছি। এতে অন্যদের আপত্তি কেন বুঝতে পারছি না।
দয়ামীর ইউনিয়নের পরিষদের সদস্য রুম্মান আহমদ বলেন, বিষয়টি জানার পর আমি সরেজিমন গিয়েছি। গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করায় বিষয়টি পুলিশকে অবগত করেছি।
ওসমানীনগর থানার এসআই নিজাম উদ্দিন বলেন, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুই পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে থানায় আসতে বলেছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলিমা রায়হানা বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অপ্রীতিকর কিছু মেনে নেওয়া হবে না।


