//

সব্জী চাষে জৈন্তাপুরের প্রায় ৪শত পরিবারে আনন্দের বন্যা

18 mins read

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের প্রায় ১১টি গ্রামের প্রায় ৪শত পরিবারে বইছে আনন্দের বন্যা। সব্জী চাষ করে কৃষকরা লাখপতি।

সরেজমিনে নিজপাট ইউনিয়নের হর্নি, বাইরাখেল, রুপচেং, নয়াগ্রাম, মাঝেরবিল, কালিঞ্জি, দিগারাইল, লক্ষীপ্রসাদ হাওর, লক্ষীপ্রসাদ, পাখিবিল ও কামরাঙ্গী গ্রাম ঘুরে এলাকার কৃষকদের সাথে আলাপকালে কৃষকরা জানান আগাম সব্জী চাষ করে তারা ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন। প্রতিবিঘা জমিতে খরচ বাঁধে লক্ষাধিক টাকা হারে তাদের আয় হয়েছে। এছাড়া একই খরচে শিম চাষ আরও দেড় হতে দুই লক্ষ টাকা অর্জন করার সম্ভাবনা রয়েছে।

হর্নি মাঝের বিল গ্রামের কৃষক জয়নুল আবেদীন বলেন, নিজ মালিকানাধীন তিন বিঘা জমিতে তিনি বরবটি চাষ করেছেন। বরবটি চাষ করে চলতি বৎসরে যাবতীয় খরচ ও পরিবারিক খরচ শেষে তিনি দেড়লক্ষ টাকা ক্যাশ রয়েছে। আরও দশ-পনের হাজার টাকা পাবেন। এছাড়া একই জমিতে শিম রোপন করেছেন। প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে শিম হতে আরও ২লক্ষাধীক টাকা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শিম চাষে কোন খরচ লাগছে না। এক খরচে দুটি ফলন পাচ্ছেন। তবে তিনি জানান দীর্ঘ দিন হতে কৃষি কাজ করলেও তিনি সরকারি কোন সুযোগ সুবিধা পাননি।

নয়া গ্রামের কৃষক আমিনুর রহমান বলেন, তিনি প্রায় ৪বিঘা জমিতে বরবটি, ঝিঙ্গা, করলা, লাউ চাষ করে ভাল ফলন পেয়েছেন। বাজারে দাম ভাল থাকায় পাশাপশি ফসলের মাঠ হতে সব্জি বিক্রয় করতে পারায় বাড়ীতে ঝামেলায় পড়তে হচ্ছেনা কৃষকদেরকে।

রুপচেং গ্রামের বাসিন্ধা হেলাল আহমদ বলেন, প্রায় দেড় বিঘা জমিতে তিনি বরবটি চাষ করেছেন। ফলন ভাল হয়েছে, মোটামুটি অন্যান্য বৎসরের তুলনায় বাজার মূল্য ভাল থাকায় ভাল লাভবান হয়েছেন। তবে আগামী মাসে তার জমি হতে শিম তুলবেন এমনটি আশা প্রকাশ করছেন।

কামরাঙ্গী গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান শামীম আহমদ বলেন, বিগত ৫ বৎসর হতে অত্র নিজপাট ইউনিয়নের ১১টি গ্রামের বাসিন্ধারা পাথর কোয়ারী মূখী না হওয়ায় সব্জী চাষ করে ব্যাপক স্বাভলম্বী হয়েছেন। পাশাপাশি ১১ গ্রামের মানুষের একটি ঘর আধাকাঁচা নেই। সবার বাড়ীঘর আল্লাহর অশেষ রহমতে সব্জী চাষ করে পাকা বাড়ীতে পরিনত হয়েছে। এই মৌসুম শুরু হলে ১১টি গ্রামের কৃষক পরিবার গুলোতে আনন্দের বন্যা বয়ে চলে। তবে তিনি বলেন, সরকার কৃষি ক্ষেত্রে বিপ্লবিক পরিবর্তনের জন্য নানামূখী ভতুর্কি দিলেও প্রকৃত পক্ষে কৃষকরা ভতুর্কি পাচ্ছে না। তিনি সুষ্ট তদন্তের মাধ্যমে এসব কৃষকদের মধ্যে তদন্ত পূর্বক সহায়তা প্রদান করলে দেশে সব্জীর চাহিদা পূরনে আরও উৎসাহ বৃদ্ধি পাবে।

জৈন্তাপুর উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সুহেব আহমদ বলেন, জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন ওয়ার্ডে উপজেলা কৃষি অফিস সহায়তা, কৃষক প্রশিক্ষণ, ভতুর্কির সার-বীজ-কিটনাশক, বিভিন্ন ফলজ বাগান তৈরী করে দিচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক কৃষক স্বাবলম্বী হয়েছেন। ক্রমানয়ে উপজেলার সকল কৃষকরা সরকারি সুবিধা ভোগ করবে বলে তিন জানান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীমা আক্তার বলেন, আমি জৈন্তাপুর উপজেলা নতুন। তবে সামগ্রীক দিক খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারছি উপজেলা ব্যাপক হারে কৃষকরা নানাবিদ চাষাবাদ করে কৃষিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের মাধ্যমে কৃষদের প্রশিক্ষণ, সার, বাীজ, কিটনাশক সহ বিভিন্ন সরকারী সহায়তা কৃষকদের মধ্যে বন্টন করে দেওয়া হচ্ছে। অচিরেই কৃষির আওতায় আর কৃষকরা বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পাবেন ৷

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

English version