/

সিরাজগঞ্জে বোমা বিস্ফোরণ: গ্রেফতার ২

14 mins read

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বালু ব্যবসার সিন্ডিকেটের জের ধরে হাত বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সোমবার (১০ অক্টোবর) বিকালে উল্লাপাড়ার হাটিকুমরুল গোলচত্বর চরিয়াশিকা এলাকায় এ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

বোমা বিস্ফোরণে আহত কেয়ারটেকার নজরুল ইসলাম একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে যশোর জেলার মোবারকপুর উপজেলার ঝিকড়গাছার গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে আলামিন (২৩) এবং ঝিনাইদহ জেলার কোটচাদপুর উপজেলার তালশার বাদতাপাড়া গ্রামের আকেশ আলীর ছেলে মিখাইল (১৯) কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

স্থানীয় ইসমাইল হোসেন জানান, মৃত শাহীন আলমের বাড়িটি মাস চারেক আগে দুই যুবককে ভাড়া দেয় কেয়ারটেকার নজরুল ইসলাম। বাসা ভাড়া দেওয়ার কিছু দিন পরে সেখানে ব্যবসায়িক সিন্ডিকেটের জের ধরে একজনকে ধরে এনে কয়েক যুবক মিলে আটকে রেখে নির্যাতন করে। মাঝে মধ্যে চিৎকারের আওয়াজ শোনা যেতো। নির্যাতনের এক পর্যায়ে তাদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করা হতো বলে জানা যায়। আটককৃতরা বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত। তাদের সাথে একটি বড় চক্র এ ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল।

সলঙ্গা থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, সোমবার বিকালে চরিয়াশিকা এলাকায় বোমা বিস্ফোরণের খবর পেয়ে আমি ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। গিয়ে জানতে পারি এই বাড়িটি ভাড়া নেওয়া কয়েকজন যুবক। তারা মাঝে মাঝেই সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে কী যেন করতে থাকে যা জানতো না এলাকাবাসী। সোমবার  দুপুরে সিরাজগঞ্জের বালু ব্যবসায়ী হাজী আব্দুস সাত্তারকে ডেকে আনে বালু ব্যবসার কথা বলে। এখানে থাকা ৭/৮ জন যুবক তার সাথে দীর্ঘ সময় কথা বলার পর নানাভাবে ভয় ভীতি প্রদর্শন ও মুক্তিপণ দাবি করে। এতে সাত্তার ও তার সঙ্গে থাকা লোকজনের সাথে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে যুবকরা দুটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় বোমা বিস্ফোরণে বাড়ির কেয়ারটেকার নজরুল ইসলাম আহত হয়। ওসি আরও বলেন, র‌্যাব-১২ তাদের দু’জনকে আটক করেছে বলে জানতে পেরেছি। সন্ধ্যায় আব্দুস সাত্তার বাদী হয়ে সলংগা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

র‌্যাব ১২-এর ডিআইজি মারুফ হোসেন মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) সকালে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মূলহোতা শামীম হোসেনের নেতৃত্বে এই নির্জন বাড়িতে বড় ধরনের একটি চক্র সক্রিয় ছিল। বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের ভাড়া করে আনা হতো। এরপর বিভিন্ন ব্যক্তিকে উঠিয়ে এনে নির্যাতন করে মুক্তিপণ আদায় করা হতো। মূলহোতাকে পাওয়া গেলে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন হবে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Latest from Blog

English version