

সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক অঘোষিত মরন ফাঁদ দুই দিনে পৃথক পৃথক ঘটনায় আহত ৮, প্রতিদিন ঘটছে দূর্ঘটনা, মৃত্যু সহ পঙ্গুত্ব বরণ করছে শতশত মানুষ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরব, আইন থাকলেও নেই সুষ্ট প্রয়োগ৷
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার তথা বৃহত্তর উত্তরপূর্ব সিলেটের তিন উপজেলার চলাচলের একমাত্র মাহা সড়ক সিলেট-তামাবিল। এই রাস্তা ব্যবহার করে জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও গোয়াইনঘাট উপজেলার সর্বসাধারণ ব্যবহার করছে। সিলেটের সর্ববৃহত তামাবিল স্থল বন্দর থাকায় মহা সড়কের দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করছে। সম্প্রতি সময়ে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে প্রতিদিন ঘটছে দূর্ঘটনা। দূর্ঘটনায় শিকার হয়ে মৃত্যু সহ পঙ্গুত্ব বরণ করছে শতশত লোকজন। সচেতন মহলের দাবী আইন থাকলেও সিলেট তামাবিল মহাসড়কে আইনের নেই সুষ্ট ব্যবহার। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হাইওয়ে ও ট্রাফিক পুলিশ নিরব দর্শকের ভ‚মিকায়, যেন দেখার কেউ নেই।

সরেজমিনে সিলেট টু তামাবিল, সিলেট টু গোয়াইনঘাট, সিলেট টু কানাইঘাট সড়ক ঘুরে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের সাথে আলাপকালে জানাযায়। বৃহত্তর জৈন্তাপুর তথা উত্তর সিলেটের তিন উপজেলার একমাত চলাচলের রাস্তা সিলেট তামাবিল মহাসড়ক। এছাড়া জেলার সর্ববৃহত আমদানী রপ্তানি স্থল বন্দর হওয়ায় মহাসড়কটিতে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করছে।

সম্প্রতি মহাসড়কে প্রতিনিয়ত ঘটছে দূর্ঘটনা। দূর্ঘটনায় অকালে ঝরে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের প্রাণ, পুঙ্গুত্ব বরণ করছে শত শত মানুষ। মহাসড়ক ব্যবহারকারীর কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্ধা মারুফ আহমদ বলেন, সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক এখন অঘোষিত মরন ফাঁদে পরিনত হয়েছে। সড়কের আইন থাকলে তার সুষ্ট প্রয়োগ নেই।
জৈন্তাপুর উপজেলার বাসিন্ধা নাজমুল ইসলাম, শোয়েব আহমদ, আব্দুস বলেন, হানিফ আহমদ, রহিম উদ্দিন, ফরিদ আহমদ, গোয়াইনঘাট উপজেলার শামিম আহমদ, কুতুব উদ্দিন, সাদ উদ্দিন, মুহিবুর রহমান, নজির হোসেন, জাফলং এর বাসিন্দা জাকির হোসেন, সুমন মিয়া, আব্দুল মালেক, রিয়াজ উদ্দিন সহ বিভিন্ন ভাবে শতাধিক লোকজনের সাথে আলাপকালে তারা প্রতিবেদককে জানান, সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক। বর্তমানে সড়কটিতে লক্ষর ঝক্কর লোগুনা, হিউম্যান হুলার, নাম্বার বিহীন টোকন পরিচালিত সিএনজি (অটোরিক্সা), গ্যাস ও ব্যাটারী চালতি টমটম, ইজিবাইক ও বেপরোয়া নাম্বর বিহীন মটর সাইকেল এবং শিশু চালকদের কারনে প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনা ঘটে চলছে।

তারা আরও বলেন, সিলেট তামাবিল মহাসড়কে নিরাপত্তা ও যান চলাচলের আইন প্রয়োগকারী বাহিনী সুষ্ট তদারকির অভাবে এসব দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। যদি মাহাসড়কের যান চলাচলের বেশ কিছু নিময় কানুন মেনে চলার বিধি বিধান রয়েছে কিন্তু তার সুষ্ট প্রয়োগ নেই। আইন বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টরা মহাসড়কে কি করছেন তিন উপজেলার সর্বসাধানের প্রতিনিয়ত দেখতে পায়। তারা দাবী জানান দ্রæত সময়ের মধ্যে সিলেট তামাবিল মহাসড়কে নাম্বর বিহীন টোকন পরিচালিত সিএনজি (অটোরিক্সা), গ্যাস ও ব্যাটারী চালিত টমটম, অদক্ষ ও লাইসেন্স বিহীন চালকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান।
অপরদিকে ১৭ ও ১৮ জুলাই সিলেট তামাবিল মহাসড়কে তিনটি পৃথক পৃথক দূর্ঘটনায় অন্তত ৮জন আহত হয়েছেন। তাদের প্রত্যেকের অবস্থা মর্মান্তিক। সুস্থ হলেও বেশির ভাগ আহতরা পুঙ্গত্ব বরণ করতে হবে। ১৭ জুলাই রবিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় সিলেট তামাবিল মহাসড়কের চিকনাগুল আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়ের সম্মুখে নাম্বর বিহীন সিএনজি (অটোরিক্সা) ও নোহা গাড়ীর মধ্যে সংর্ঘষে ৪জন আহত হন। তাদের মধ্যে নুরুজ্জামান নামের এক ব্যক্তি আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন।

এদিকে ১৮ জুলাই সোমরার জৈন্তাপুর উপজেলার প্রবেশ গেইট ঘাটেরছটিতে ১ঘন্টার ব্যবধানে দুটি দূর্ঘটনায় ৯বৎসরের শিশু সহ ৪জন আহত হন। আহতদের নাম ঠিকানা জানাযায়নি, তবে প্রত্যোকে আশংঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
দূর্ঘটনার বিষয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম দস্তগীর আহমদ বলেন, থানা পুলিশ উপজেলার আইন শৃঙ্খলার বিষয়ে কাজের পাশাপাশি মহাসড়কে দূর্ঘটনা ঘটলে দ্রæত পৌছে উদ্ধার তৎপরাতা সহ কাজ করে আসছে। তবে মহাসড়কের বিষয়টি হাইওয়ে পুলিশ দেখবাল করছে।

জৈন্তাপুর ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত সার্জেন্ট পার্থ বলেন, ট্রাফিক পুলিশ নিয়মিত উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ করছেন। পাশাপাশি ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। এছাড়া তিনি আরও বলেন অভিবাবক ও গাড়ীর মালিকবৃন্দরা সচেতন হওয়ার জন্য আহবান জানান। তারা যেন সামান্য অর্থের জন্য অল্প বয়সি শিশু চালকের হাতে গাড়ী না তুলে দেন।
তামাবিল হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত (ওসি) পরিমল চন্দ্র দেব বলেন, নাম্বার বিহীন টোকন পরিচালিত সিএনজি (অটোরিক্সা) বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে মামলা নিচ্ছে। তামাবিল মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের কোন প্রকার টোকন বানিজ্য নেই। কেউ আমাদের নাম ভেঙ্গে টোকন বানিজ্য করলে তাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। দূর্ঘটনা রোধে আমরা নিয়মিত সর্তকবার্তা জানিয়ে আসছি। একশ্রেনীর মালিক ও চালক অর্থের লোভে ট্রাফিক আইন মানছেন না। আমরা তাদের বিরুদ্ধে সোচ্ছার আছি।


