

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সহ বিভিন্ন উপজেলায় বন্যার প্রভাবে এবার ঘরে ঘরে জ্বর ও ডায়রিয়া দেখা দিয়েছে। হাসপাতাল, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও বাজারের ফার্মেসীগুলোতে জ্বরের প্যারাসিটামল ট্যাবলেট ও সিরাপ জাতীয় ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্রে জানা গেছে, চলমান বন্যার জমে থাকা পানিতে ব্যাকটেরিয়া-ভাইরাসের প্রজনন ক্ষেত্র হিসাবে কাজ করছে। অনেক বানভাসি মানুষের আসবাবপত্র পানির মধ্যে ছিল। এগুলো থেকে ছড়িয়ে পড়ছে ডায়রিয়া এবং গত কয়েক দিনের প্রচন্ড রৌদ্রের অতিরিক্ত গরমে ছোট বড় সবার মধ্যে জ্বরের প্রকোপ দেখা দিয়েছে।
উপজেলার কৃষ্ণতলা গ্রামের হরি কৃষ্ণ নামে একজন বলেন, গত দুইদিন ধরে জ্বর,সর্দি ও কাশিতে ভুগছেন। মাথ্যা ব্যাথা, শরীর ব্যাথাও বেশি। তিনি বলেন, গ্রামের প্রত্যেক পরিবারের এক দুইজন করে এখন জ্বরে ভুগছেন।
মন্দিয়া গ্রামের স্কুল শিক্ষক সানজব আলী জানান, এবারের ভয়ানক বন্যার পর নিম্নমধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্তের কষ্ট বেড়ে গেছে। না আছে ঘরে খাওন,না আছে টাকা। প্রতিদিনেই ত্রানের জন্য বাড়ির সামনে অনেকেই অপেক্ষায় থাকেন। এরই মধ্যে জ্বর ও ডায়রিয়া দেখা দিয়েছে।
বাদাঘাট, তাহিরপুর সদর বাজার সহ কয়েকটি বাজারের ফার্মেসীগুলোতে প্যারাসিটামল ট্যাবলেট ও সিরাপ অভাব দেখা দিয়েছে। ফার্মেসীর মালিকরা জানিয়েছেন হঠাৎ জ্বর বেড়ে যাওয়ায় এ জাতীয় ওষুধগুলোর সংকট দেখা দিয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইনচার্জ ডা.মির্জা রিয়াদ হাসান জানান, আবহাওয়া পরিবর্তন ও বন্যার প্রভাবে হাওর এলাকায় ফ্লো বা ইনফ্লুয়েঞ্জা জ্বর দেখা দিয়েছে। জ্বর নিয়ে অনেকেই হাসপাতালে আসছেন এবং চিকিৎসা শেষে আবার বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। গত কয়েকদিনের রৌদ্রে অতিরিক্ত গরমে বানভাসি মানুষের মধ্যে জ্বর দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের আউটডোরে শতাধিক রোগী জ্বর, সর্দি, কাশি ও ডায়রিয়ার চিকিৎসা নিচ্ছেন। যাদের বেশি সমস্যা তারা ভর্তি হচ্ছেন। শুধু হাসপাতাল নয়, এ চিত্র পুরো জেলার বানবাসী মানুষের মধ্যে।
সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. আহম্মদ হোসেন বলেন, ভাইরাল ফ্লো এর সঙ্গে বন্যার সম্পৃক্ততা কম। এখন ঘরে ঘরে ভাইরাল ফ্লো। তিনি জানান, জ্বরের পাশাপাশি ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হচ্ছেন জেলা উপজেলার হাসপাতালগুলোতে।

